গ্যাস সংকট নিরসনে জরুরি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (্ইইউ)। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সদস্য দেশগুলোকে আগামী বছরের মার্চ নাগাদ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে ব্লকটি। রাশিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে আগামী শীতেই ভয়াবহ সংকটে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছে ইইউ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জ্বালানিটির ব্যবহার ব্যাপক হারে কমিয়ে আনার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।
শীত মৌসুম সামনে রেখে গ্যাসের মজুদ পরিপূর্ণ করতে তোড়জোড় শুরু করেছে ইইউ। অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থনের প্রতিক্রিয়ায় অঞ্চলটিতে রুশ গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ আশঙ্কায় জ্বালানিটির অতিরিক্ত মজুদ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে ইইউর।
ইইউর ডজনখানেক দেশে এরই মধ্যে রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছে। এছাড়া কয়েকটি দেশে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইইউর নেতারা মনে করছেন, ব্লকটিতে গ্যাস সরবরাহ শিগগিরই বন্ধ করে দিতে পারে রাশিয়া।
সম্প্রতি ইউরোপিয়ান কমিশন সব সদস্য দেশের জন্য একটি লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করেছে। লক্ষ্যমাত্রায় এসব দেশকে আগস্ট থেকে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে গ্যাসের ব্যবহার ১৫ শতাংশ কমাতে বলা হয়েছে। ২০১৬-২১ সালের একই সময়ে ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এ হার নির্ধারণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন পর্যন্ত বাধ্যতামূলক নয়। ইইউ যদি ভয়াবহ সংকটের সম্ভাব্য ঝুঁকির ঘোষণা দেয়, তবে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেশির ভাগ দেশের অনুমোদন লাগবে বলেও জানা গিয়েছে। আজ বিষয়টি নিয়ে দেশগুলোর কুটনৈতিকরা বৈঠকে বসবেন। উদ্দেশ্য জ্বালানিমন্ত্রীদের আসন্ন বৈঠকে লক্ষ্যমাত্রার অনুমোদন দেয়া।
ইইউ কমিশনে প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন বলেন, রাশিয়া আমাদের ব্ল্যাকমেইল করছে। দেশটি তাদের জ্বালানি সম্পদকে কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়া যদি আংশিক, বড় পরিসরে কিংবা পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তবে সংকট সামাল দেয়ার জন্য ইউরোপকে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।
যদিও গ্যাস ব্যবহার কমিয়ে আনার এ পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্লকটির কয়েকটি দেশ। আকস্মিক পরিস্থিতি সামাল দিতে ইইউর হস্তক্ষেপকে ভালো চোখে দেখছে না এসব দেশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইইউর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সদস্য দেশগুলোকে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ জরুরি গ্যাস পরিকল্পনা হালনাগাদ করতে হবে।
যেসব দেশ ইইউর নতুন এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে তাদের মধ্যে একটি পোল্যান্ড। গত এপ্রিলে রাশিয়া সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে দেশটি সক্ষমতার ৯৮ শতাংশ গ্যাসের মজুদ পরিপূর্ণ করেছে। তবে অন্য দেশগুলো মজুদের দিক থেকে বেশ পিছিয়ে আছে। এসব দেশের মধ্যে হাঙ্গেরির মজুদ সক্ষমতার ৪৭ শতাংশে অবস্থান করছে।
ইইউর এনার্জি পলিসি প্রধান কাদরি সাইমন বলেন, কয়েক মাস ধরেই রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাসের সরবরাহ কমছে। বিপরীতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানিটির দাম। এ পরিস্থিতিতেও ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ ব্যবহার খুব একটা কমায়নি। সংকটের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইউরোপে সম্মিলিত গ্যাসের চাহিদা কমেছে মাত্র ৫ শতাংশ।
তিনি আরো বলেন, ১৫ শতাংশ ব্যবহার কমালে আগস্ট থেকে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত ৪ হাজার ৫০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সঞ্চয় হবে। ইউক্রেন সংকট দেখা দেয়ার আগে রাশিয়া ইউরোপে চাহিদার ৪০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করত। কিন্তু এরপর সরবরাহ কমাতে শুরু করে দেশটি।










