চীনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ কমাতে যাচ্ছে সৌদি আরব। বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারক দেশটির রিফাইনারিগুলো রাশিয়া থেকে ব্যাপক হারে সস্তা জ্বালানি তেল কেনায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
এশিয়ান পাঁচ রিফাইনারিতে সরবরাহ কমানোর কথা জানা গেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ রিফাইনারিই চীনের। এসব রিফাইনারি সৌদি আরামকোর সঙ্গে জুলাইয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য চুক্তি করেছিল। কিন্তু রিফাইনারিগুলোয় চুক্তির চেয়ে কম তেল সরবরাহ করা হবে।
বিশ্লেষকরা জানান, কভিড-১৯ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় দুই মাস ধরেই চীনের বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা কম। অন্যদিকে ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর রাশিয়ার প্রতি নিন্দা জানায়নি দেশটি। এসব বিষয়ই দেশটিতে সরবরাহ কমিয়ে দিতে সৌদি আরবকে উৎসাহিত করেছে। এর পরিবর্তে সৌদি আরব এশিয়ার অন্যান্য দেশে চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করছে। কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির চেয়ে বেশি সরবরাহ করা হবে বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানি ৯০ শতাংশ বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্লকটি আঞ্চলিক চাহিদা মেটাতে বিকল্প উৎস খুঁজছে। এ কারণে ইউরোপের বাজারে ক্রমেই বাড়ছে সৌদি জ্বালানি তেলের চাহিদা।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, বর্তমান বাজারে সৌদি জ্বালানি তেলের সরবরাহ অনেক কম। জুলাইয়ে চারটি চাইনিজ রিফাইনারি ও উত্তর এশিয়ার একটি রিফাইনারিতে চুক্তির চেয়ে কম সরবরাহ করা হবে।
এদিকে সম্প্রতি বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশটি তেলের দাম প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়িয়েছে। এটিও চীনে সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অনেকে।
প্রসঙ্গত, জ্বালানি তেল উত্তোলন নীতিতে পরিবর্তন এনেছে সৌদি আরবসহ ওপেক প্লাসের অন্য সদস্য দেশগুলো। জুলাই ও আগস্টে উত্তোলন বৃদ্ধির মাত্রা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মূলত ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান পরিচালনার কারণে রুশ জ্বালানি তেল বাণিজ্যে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কাটাতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ওপেক প্লাসের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বলা হয়, জুলাই ও আগস্টে দেশগুলোর দৈনিক অপরিশোধিত তেল উত্তোলন ৬ লাখ ৪৮ হাজার ব্যারেল করে বাড়ানো হবে। বর্তমানে প্রতি মাসে দৈনিক ৪ লাখ ৩২ হাজার ব্যারেল করে উত্তোলন বাড়াচ্ছে জোটটি।
গালফ ইন্টেলিজেন্সের ডেইলি এনার্জি পডকাস্টে ভিটল এশিয়ার কর্মকর্তা মাইক মুলার বলেন, রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ আগের তুলনায় অপরিবর্তিত। রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ সংকট ওপেক প্লাসের উত্তোলন বাড়ানোর মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা যেতে পারে।










