মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ফ্রান্সের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে চলছে কর্মীদের ধর্মঘট। এতে দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। শুক্রবার সিজিটি শ্রমিক ইউনিয়নের দুই প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস বন্ধ থাকবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ফ্রান্সের চারটি টার্মিনালের মধ্যে তিনটিতে জাহাজ থেকে খালাস বন্ধ থাকায় ইউরোপের অন্যতম প্রধান গ্যাস আমদানিকারক দেশটিতে সরবরাহ কমে গেছে। এতে এ সপ্তাহে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে। এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এলেংজি বলেছে, চলমান এক মাসব্যাপী ধর্মঘটের কারণে তারা ‘ফোর্স মেজর’ (অনিবার্য কারণবশত কার্যক্রম স্থগিত) ঘোষণা করেছে এবং ২ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো জাহাজ খালাস করা সম্ভব হবে না।

ফরাসি টার্মিনাল থেকে কম সরবরাহের কারণে বৃহস্পতিবার টিটিএফে (নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রাকৃতিক গ্যাস ট্রেডিং হাব) নিকটবর্তী সময়ে সরবরাহের চুক্তিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে শুক্রবার নরওয়ে থেকে সরবরাহ বাড়তে থাকায় দাম বৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা কমেছে।

ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দাবি পূরণ না হলে ২ অক্টোবরের পরও অবরোধ চলতে পারে, যা প্রাকৃতিক গ্যাসের দামে আরো চাপ তৈরি করবে।

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর ২০২২ সালে ইউরোপে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোয় রফতানি বাড়িয়েছে ফ্রান্স। দেশটি ইউরোপের চতুর্থ বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক এবং রুশ এলএনজির সবচেয়ে বড় ক্রেতা। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি প্রায় ৪০ লাখ টন এলএনজি রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে। এর মধ্যে বড় অংশই পশ্চিম উপকূলের মন্তোয়া টার্মিনালের মাধ্যমে এসেছে।

এলেংজির ফস টার্মিনাল থেকে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া মন্তোয়া টার্মিনাল থেকেও আংশিক সরবরাহ কমেছে। এলএসইজির তথ্যানুযায়ী, ফসে সর্বশেষ জাহাজ খালাস হয়েছে ১২ সেপ্টেম্বর এবং মন্তোয়ায় ২১ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে খালাসের অপেক্ষায় তিনটি পূর্ণ এলএনজি জাহাজ ফরাসি উপকূলে নোঙর করে আছে।