কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যবহারকারীরা নিজস্ব বিচারবুদ্ধি বা সহজাত প্রবৃত্তিকে উপেক্ষা করে চ্যাটবট ‘ক্লড’-এর পরামর্শ কোনো প্রশ্ন ছাড়াই মেনে নিচ্ছেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রায় ১৫ লাখ কথোপকথন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
অ্যানথ্রোপিকের প্রকাশিত ‘হু ইজ ইন চার্জ?’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই চ্যাটবট ব্যবহারকারীর চিন্তাভাবনা বা কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর কোনো ভুল ধারণায় সমর্থন দেয়া কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে ভুল পথে পরিচালিত করার মতো ঘটনাও ঘটছে।
গবেষকরা একে ‘ডিসএম্পাওয়ারমেন্ট’ বা ‘ক্ষমতাহীনতা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। এর মাধ্যমে এআইয়ের প্রভাবে মানুষের নিজে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১ হাজার ৩০০টি কথোপকথনের মধ্যে একটিতে বাস্তবতাকে বিকৃত করার লক্ষণ দেখা গেছে। অন্যদিকে প্রতি ছয় হাজার কথোপকথনের মধ্যে একটিতে ব্যবহারকারীকে তার মূল্যবোধের বাইরের কাজ করতে প্ররোচিত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যদিও শতাংশের হিসেবে এটি কম মনে হতে পারে। তবে কয়েক কোটি মানুষ নিয়মিত এআই ব্যবহার করায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যবহারকারীরা যখন ক্লডকে চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে মনে করেন বা এর তথ্যকেই অগ্রাধিকার দেন, তখন তারা বেশি প্রভাবিত হন। বিশেষ করে জীবনের সংকটময় মুহূর্তগুলোয় ক্লডের পরামর্শ নেয়ার হার বেশি।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, চ্যাটবটের দেয়া বার্তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে অনেক ব্যবহারকারীই আফসোস করেছেন এবং নিজেদের অন্তর্দৃষ্টির ওপর ভরসা না করায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
অ্যানথ্রোপিকের এ তথ্য এমন এক সময়ে এল যখন ‘এআই সাইকোসিস’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘ সময় চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলার পর অনেক ব্যবহারকারী বাস্তববিমুখ হয়ে পড়ছেন। এর আগে ওপেনএআইয়ের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ব্যবহারকারীদের মধ্যে এআই ব্যবহারের ফলে আত্মহত্যার চিন্তা বা মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদরা এখন এআই চ্যাটবটের নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানাচ্ছেন।










