গ্রিনফিল্ড এফডিআই (নতুন প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ) পাওয়ার ক্ষেত্রে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। গত বছর গ্রিনফিল্ড এফডিআই ২৮ শতাংশ বেড়েছে। সম্প্রতি ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট ট্রেন্ডস মনিটর এ তথ্য প্রকাশ করেছে। খবর খালিজ টাইমস।

ইউএইতে এফডিআই আগের বছরের তুলনায় ২০২২ সালে ১০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২ হাজার ২৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০২১ সালে তা ছিল ২ হাজার ৬৬ কোটি ডলার।

প্রতিবেদন অনুসারে, পশ্চিম এশিয়ায় এফডিআই ২ শতাংশ বেড়েছে। সৌদি আরবে গ্রিনফিল্ড এফডিআই প্রকল্পের সংখ্যা ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।

২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী এফডিআই আনুমানিক ১ দশমিক ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মন্দার আশঙ্কা কমে যাওয়া এবং আর্থিক খাতের শক্তিশালী অবস্থান সত্ত্বেও এ প্রবৃদ্ধির হার আশানুরূপ ছিল না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

প্রতিবদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ সুদহার বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকে প্রভাবিত করছে। ইউরোপীয় অর্থনীতির উচ্চমূল্যের কারণে এফডিআইয়ের সার্বিক মূল্য বেড়েছে। এগুলো বাদ দিলে বিশ্বব্যাপী এফডিআই প্রবাহ ১৮ শতাংশ কম ছিল।

উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) এফডিআই ২০২২ সালে ১৫ হাজার কোটি ডলার ঘাটতি থেকে গত বছর ১৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার প্রবৃদ্ধি করেছে। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগ। এ দুটি দেশ বাদ দিলে ইইউর বাকি অংশে এফডিআই ২৩ শতাংশ কম ছিল। বেশ কয়েকটি বৃহৎ দেশে বিনিয়োগ কমেছে। অন্যান্য উন্নত দেশেও প্রবাহ স্থবির হয়ে পড়েছে। উত্তর আমেরিকায় বিনিয়োগের হার শূন্য ছিল এবং অন্য দেশগুলোয় তা কমেছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোয় এফডিআই ৫ শতাংশ কমে ৮৪ হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর বেশির ভাগ অঞ্চলে এ বিনিয়োগ কমেছে। উন্নয়নশীল এশিয়ায় ১২ ও আফ্রিকায় ১ শতাংশ কমেছে এফডিআই। এটি লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে স্থবির ছিল।

গ্রিনফিল্ড (প্রধানত শিল্প), প্রকল্পে অর্থায়ন (প্রধানত অবকাঠামো) ও আন্তঃসীমান্ত একীভূতকরণ এবং অধিগ্রহণসহ (এমঅ্যান্ডএ) আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো বেশির ভাগই ছিল প্রত্যাশার তুলনায় কম। গত বছর উচ্চতর সুদহারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ফাইন্যান্স ও এমঅ্যান্ডএ। এগুলো যথাক্রমে ২১ ও ১৬ শতাংশ কমেছে। তবে খাত দুটোর মূল্য ৬ শতাংশ বেড়েছে।