টানা চতুর্থ বছরের মতো ইউরোপের দেশ জার্মানিতে শক্ত কয়লার আমদানি হ্রাস পেতে যাচ্ছে। চলতি বছর শেষে জ্বালানিযোগ্য কয়লার আমদানি ১০ শতাংশ কমিয়ে আনবে দেশটি। দেশটিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ইস্পাত কারখানাগুলোতে কয়লার চাহিদা কমে আসায় জ্বালানি পণ্যটির আমদানি কমবে। দেশটির কয়লা আমদানিকারক সংগঠন ভিডিকেআই গ্রুপের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ভিডিকেআইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর শেষে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশটির কয়লা আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ কোটি ৯০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩০ লাখ টনের মধ্যে। যেখানে গত বছর দেশটি ৪ কোটি ৬৭ লাখ টন কয়লা আমদানি করেছিল। দেশটির অভ্যন্তরীণ কয়লা খনিগুলো বন্ধ করে দেয়ার পর জানুয়ারিতে কয়লা আমদানির প্রাক্কলন করা হয়েছিল; যা থেকে সরে এসে নতুন করে কয়লা আমদানি কমানোর প্রাক্কলন করা হয়েছে।
ইউরোপের বাজারে কয়লার সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ জার্মানি। ফলে কয়লা আমদানি কমে যাওয়ার পূর্বাভাসের কারণে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক বাজার এবং দামের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
ভিডিকেআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফ্রান্স জোসেফ উডোপিয়া জানান, চলতি বছরের শুরুতে তাদের ইতিবাচক প্রাক্কলন থেকে সরে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে ইউরোপের দেশগুলো কয়লার ব্যবহার কমিয়ে আনতে শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ইউরোপের বাজারে জ্বালানি পণ্যটির সবচেয়ে বড় ভোক্তা দেশ জার্মানিও কয়লার আমদানি ও ব্যবহার কমিয়ে আনছে। দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় সবচেয়ে বেশি কয়লা ব্যবহার হয়। তবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে জার্মান সরকার। ২০৩৮ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনতে চায় দেশটি। এর বদলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে জনপ্রিয় হচ্ছে সূর্যের আলো, পানি, বাতাসের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার।
জার্মানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সর্বশেষ সক্রিয় দুটি কয়লা খনির উত্তোলন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরিবেশবাদীদের দাবির মুখে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহারও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০৩৮ সাল নাগাদ জার্মানিতে সক্রিয় সর্বশেষ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এর জের ধরে ওই বছরে জার্মানিতে জ্বালানি পণ্যটির
ব্যবহার শূন্যে নেমে আসতে পারে।
২০১৮ সালে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি হ্রাস পেয়েছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। সে বছর দেশটিতে ৪ কোটি ৫০ লাখ টন কয়লা আমদানির প্রাক্কলন করেছিল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লবি গ্রুপ। যদিও সে বছরের করা প্রাক্কলনের তুলনায় কম কয়লা আমদানি হয়।
ইউরোপে আমদানি হওয়া কয়লার ৬৯ শতাংশ যায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। অবশিষ্ট একটি অংশ ব্যবহার হয় ইস্পাত কারখানায়; বাকি অংশ তাপ সরবরাহ কাজে ব্যবহার হয়।
কিন্তু পরিবেশের কথা বিবেচনা করে ইউরোপে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ক্রমে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভিডিকেআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ইউরোপে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ২২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে গেছে। এর পরিবর্তে বাতাস ও সূর্যের আলোর মতো নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াচ্ছে ইউরোপ।










