বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর মূল্যস্ফীতির হার কম। রিয়াদভিত্তিক বিনিয়োগ পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কামকো ইনভেস্টের করা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বব্যাপী অন্যান্য দেশের তুলনায় জিসিসিভুক্ত দেশগুলোয় মূল্যস্ফীতির হার উল্লেখযোগ্য হারে কম। খবর আরব নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি প্রবণতা ২০২৩ সালে আগের বছরের তুলনায় ধীরে ধীরে কমছে। সুদহার বাড়ানোর মতো কঠোর নীতি গ্রহণের পর চাহিদা সংকুচিত হয়েছে, ফলে খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানির দামে পরিবর্তন এসেছে। বৈশ্বিকভাবে খাদ্যের দাম কমার বড় কারণ ছিল ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ বাতিল হয়ে যাওয়ার পরে ইউক্রেনীয় বন্দরগুলো থেকে শস্য রফতানি পুনরায় শুরু হওয়া।
যদিও বছরের প্রথম সাত মাসে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী হেডলাইন মূল্যস্ফীতি শীর্ষে পৌঁছেছে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী প্রকৃত মূল্যস্ফীতি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপর, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ।
জিসিসি দেশগুলোয় খাদ্য ও পানীয়ের ভোক্তা মূল্য সূচকে নামেমাত্র পরিবর্তন এসেছে। সৌদি আরবে জুনে সূচকটি ১ শতাংশ মাসিক বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। অন্যদিকে, কুয়েতে বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। উপসাগরীয় দেশগুলোয় মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল মূলত আবাসন খাতে। সৌদি আরবে এ খাতে জুনে বার্ষিক ৯ দশমিক ১ ও কুয়েতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিউনিকেশন উপখাতে দৃশ্যটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। কারণ সাব-ইনডেক্স বেশির ভাগ জিসিসি দেশে কমেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাই সিপিআই জুলাই ২০২২ সালের মধ্যে ৫ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ার তুলনায় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ১ শতাংশ বেড়েছে, যা ছিল গত ১৭ মাসে দুবাই সিপিআইর সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি।
অন্যদিকে ২০২৩ সালের জুনে বার্ষিক মাত্র দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে বাহরাইনের মূল্যস্ফীতি মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। আর ওমানের ভোক্তা মূল্য সূচক ২০২৩ সালের জুনে বার্ষিক দশমিক ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, কাতারের মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের জুনে বার্ষিক ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২১ সালের জুলাইয়ের পর থেকে সর্বনিম্ন বৃদ্ধির রেকর্ড।










