চলতি বছর পাম অয়েলের বৈশ্বিক চাহিদা রেকর্ড বেড়েছে। তবে সম্প্রতি শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পণ্যটির উৎপাদন ও মজুদ কমে আসার পূর্বাভাসে ভোজ্যতেলটির দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এতে শুক্রবার কার্যদিবেসে পাম অয়েলের দাম বেড়ে দুই বছরের বেশি সময়ের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে শুক্রবার কার্যদিবস শেষে প্রতি টন পাম অয়েলের গড় দাম দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৪৩ রিঙ্গিত (স্থানীয় মুদ্রা) বা ৬৫৭ ডলার ৭৯ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। কার্যদিবসের শুরুর দিকে পণ্যটির দাম টনপ্রতি ২ হাজার ৭৫৫ রিঙ্গিতে উঠে যায়, যা ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।

কুয়ালালামপুরভিত্তিক খাতসংশ্লিষ্ট দুজন ব্যবসায়ী জানান, বাজারে সরবরাহ ও মজুদ কমে আসার জেরে পাম অয়েলের দামে চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে।

চলতি বছরের অক্টোবরে প্রতিকূল পরিবেশের জেরে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের উৎপাদন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কমে গেছে। এতে সরবরাহ সংকটের শঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম চড়া হতে শুরু করে। এছাড়া আগামী বছর ভোজ্যাতেলটির শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার যৌথ উৎপাদনে মন্দা ভাব বজায় থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস করেছে ভারতের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গোদরেজ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডোরাব মিস্ত্রি বলেন, আগামী বছর ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদনে কিছুটা প্রবৃদ্ধি বজায় থাকতে পারে। তবে মালয়েশিয়ায় পণ্যটির উৎপাদন বেশ কমবে। এতে দুই দেশের যৌথ উৎপাদন কমবে।

এদিকে উৎপাদন হ্রাসের বিপরীতে পণ্যটির চাহিদা বাড়ায় আগামী বছরের মার্চের পর থেকে উদ্ভিজ্জ তেলটির বৈশ্বিক মজুদ কমতে শুরু করবে। এতে সরবরাহ সংকটে ওই সময় পাম অয়েলের দাম আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠতে পারে।