চীনে গত বছরের ডিসেম্বরে তামা আমদানি ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। কভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ওই মাসে দেশটির শিল্প উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। দুর্বল হয়ে পড়ে ধাতুটির চাহিদা। এ কারণেই উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি কমিয়ে দেয়। এদিকে আমদানি কমায় ধাতুটির বাজারদর আবারো বেড়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ডিসেম্বরে অগঠিত তামা ও তামাজাত পণ্য আমদানি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৯ টন। ২০২১ সালের একই সময় আমদানি হয়েছিল ৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৫ টন। এ সময় অ্যানোড, অ্যালয়, পরিশোধিত ও আধা পরিশোধিত তামা আমদানি করা হয়েছে।

সাংহাই মেটালস মার্কেটের তামা বিশেষজ্ঞ ওয়াই ই জিয়ানহুয়া বলেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ নাগাদ তামার ব্যবহার শ্লথ হয়ে পড়ে। এ কারণে আমদানি চাহিদা কমে যায়।

ডিসেম্বরে চীন জিরো-কভিড নীতি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়া। এতে দেশটিতে আবারো করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তামা উৎপাদন ও চাহিদা।

দ্য কাইজিন প্রকাশিত চীনের উৎপাদন পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেস্ক (পিএমআই) ডিসেম্বরে কমে ৪৯ পয়েন্টে নেমেছে, নভেম্বরে যা ছিল ৪৯ দশমিক ৪ পয়েন্টে।

এদিকে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় অনেক ধাতব পণ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সৌরবর্ষের ছুটি শুরুর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কারখানার উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। গত মাসে আমদানি কমে যাওয়ার কারণে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই ফিউচারসে ধাতুটির দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি আমদানি কমলেও গত বছর মোট আমদানি ২০২১ সালের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮ লাখ ৭০ হাজার টনে।

এএনজেড রিসার্চ এক নোটে জানায়, শিল্প খাতের কার্যক্রম ও পাওয়ার গ্রিডে রেকর্ড বিনিয়োগ আমদানিতে স্থিতি ফেরাতে পারে।

অন্যদিকে ডিসেম্বরে চীন ৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৩২ টন অগঠিত অ্যালুমিনিয়াম ও অ্যালুমিনিয়ামজাত পণ্য রফতানি করেছে। এসবের মধ্যে ছিল প্রাইমারি, অ্যালয় ও আধা পরিশোধিত অ্যালুমিনিয়াম। গত বছর দেশটি সব মিলিয়ে ৬৬ লাখ টন অ্যালুমিনিয়াম রফতানি করে, ২০১৩ সালের পর যা সর্বোচ্চ।