দেশের প্রধান শিল্প খাতগুলোয় দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সাল নাগাদ নয়টি শিল্প খাতে ৮০ লাখ দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ২০ শতাংশ দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি নিয়েই চলছে দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। শিল্প-কারখানায় এখন অসংখ্য পদ খালি। অথচ দেশে শিক্ষিত বেকারের অভাব নেই। তবে অভাব রয়েছে দক্ষ শ্রমশক্তির। দেশে এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ঝোঁক বাড়ছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হলেও তাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে দক্ষতা গড়ে উঠছে না। আর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে, তার সঙ্গে শিল্প খাতের চাহিদার কোনো সামঞ্জস্য নেই। উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে কোনো একটি কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয়া বা ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার আগ্রহ থাকে না। ফলে শিল্প খাতে এসব উচ্চশিক্ষিত দক্ষ শ্রমিক হিসেবেও নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছেন। এদিকে ২০৪১ সালের মধ্যে শিল্পোন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু বিদ্যমান শিক্ষাকাঠামো ও ব্যবস্থা লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পরিস্থিতি উন্নয়নে শিল্পের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে শিল্প উপযোগী শিক্ষাক্রম তৈরি, অবকাঠামো উন্নয়নসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি দেয়া জরুরি।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি শত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। এ সময় দক্ষ নেতৃত্ব ও গুণগত শিক্ষার ওপর জোর দেয়া আবশ্যক। দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণা, সরকার ও শিল্প খাতের মধ্যে সমন্বয় থাকাটা জরুরি। গবেষণায় আরো অর্থ বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পুরোদমে চালু হলে সেখানে কয়েক লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় যে ধরনের শ্রমশক্তি প্রয়োজন, সেই মানের জনশক্তির বেশ ঘাটতি রয়েছে দেশে। কাজেই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়ে সরকারকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। এ কথা অনস্বীকার্য যে দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা শ্রমবাজারের প্রয়োজনীয়তার নিরিখে সাজানো হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত জনশক্তি শ্রমবাজারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় বেকার বসে থাকছে। দেশে এখন পর্যন্ত সর্ববৃহৎ শ্রমবাজার তৈরি পোশাক শিল্পকেন্দ্রিক। কিন্তু এ শিল্পে মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী জনশক্তি এখনো দেশে তৈরি হয়নি। ফলে এ খাতের বড় উদ্যোক্তারা ভারত ও শ্রীলংকার মতো দেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়ে আসছেন। প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল পেরিয়ে গেলেও দেশের তৈরি পোশাক খাত এখনো ‘মিড লেভেল’ ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারেনি, যা উদ্বেগজনক।
আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় উন্নত দেশগুলো কারিগরি শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে উৎপাদনমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণের ব্যবহার এবং কৌশল প্রয়োগ করে কৃষি ও শিল্পের বিকাশ ঘটিয়েছে। কারিগরি শিক্ষা মূলত একটি উৎপাদনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, যা দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। কারিগরি শিক্ষা শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে, এতে করে শ্রমিক খুব সহজেই শ্রমবাজারে প্রবেশ করে শ্রমশক্তি বৃদ্ধি করে। কারিগরি শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় মূলধন তৈরি করে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব। যেমন কারিগরি দক্ষতার ফলেই চীন তার বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তর করে শিল্পায়নে ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে পাল্লা দিতে শুরু করেছে। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী বলতে আমরা স্বনির্ভর অর্থনীতিকে বুঝি। যার অর্থ, কৃষি, শিল্প ও বিজ্ঞানপ্রযুক্তি-সম্পর্কিত উন্নয়ন, যার জন্য কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে হলেও কারিগরি দক্ষতা ও জ্ঞানের অভাবে তাদের শিল্প খাতে নিয়োগ করা যাচ্ছে না।
দেশের সাধারণ শিক্ষা মূলত সনদকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট সময় পরপর বা নির্দিষ্ট স্তর সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থী সনদ অর্জন করে থাকে এবং নির্দিষ্ট শ্রেণীর বা স্তরের শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পর সনদ প্রদানের জন্যই এ শিক্ষা পরিচালিত হয়। তবুও সৃষ্টি হচ্ছে না যথাযথ কর্মসংস্থান, যার ফলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড নামের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হতে চলেছে। সাধারণ শিক্ষায় কেবল পুঁথিগত তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়, যাতে সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতার অভাব রয়েছে। আবার উচ্চশিক্ষা ব্যক্তিগতভাবে লাভজনক হলেও অনেক সময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করে না। কারণ তা কেবল উন্নতমানের চাকরি পাওয়ার মাপকাঠি, যা কেবল অনুৎপাদনশীল খাতে আয় করতে সুবিধা দেয়।
সর্বোপরি শিক্ষার মাধ্যমেই একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। একটি দেশ প্রাকৃতিক সম্পদে ধনী হলেও এর মানে এই নয় যে দেশটি অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধিশালী। যেমন অ্যাঙ্গোলা তেলসমৃদ্ধ দেশ, কিন্তু দরিদ্র। কারণ দেশটিতে শিক্ষাকে গুরুত্ব না দেয়ায় অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ের মতো দেশগুলো দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি লাভ করেছে। জাপান, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি রাষ্ট্র শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। শিক্ষায় বিনিয়োগে রেট অব রিটার্ন সর্বদাই অধিক। শিক্ষায় প্রয়োজনীয় ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ একটি দেশের জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করে অর্জন করতে পারে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনএসডিএ যাত্রা করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তোলা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দক্ষতা কার্যক্রমের উন্নয়ন ঘটানো। এনএসডিএ প্রথমে পলিসি প্রণয়নে নজর দিয়েছে। ‘ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ২০২১’ তৈরি করা হয়েছে। এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে পলিসিকে অনুকরণ করে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এ কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি এখনো। দেশে কারিগরি কলেজ স্থাপন করা হয়েছে, তৈরি করা হয়েছে নানা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। এতেও সুফল মিলছে না। সমস্যা গোড়াতেই, পরিবর্তন আনতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থায়। উচ্চশিক্ষার চেয়ে কারিগরি জ্ঞানসমৃদ্ধ পেশার মর্যাদা বাড়াতে হবে। দেশে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব নেই। সরকার এরই মধ্যে সিলেবাস পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো এখন আর যুগোপযোগী নয়। গত ১০-১২ বছরে পৃথিবীতে যে পরিবর্তন এসেছে আগের ৫০ বছরেও তা হয়নি। সুতরাং পরিবর্তনের সঙ্গে চাহিদারও পরিবর্তন হচ্ছে। এখন শিক্ষা শুধু নৈতিক ও আত্মিক উন্নয়নের জন্য নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের ধারক ও বাহক।
দেশের বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের বড় নয়টি খাত হচ্ছে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, নির্মাণ, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, হেলথ কেয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন ও আতিথেয়তা, চামড়া, হালকা প্রকৌশল ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প। এসব খাতে কর্মরতদের ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশেরই কোনো প্রশিক্ষণ নেই। শিক্ষিত তরুণদের উপযোগী শোভন কাজের সুযোগ সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে আয় বাড়ানো এবং চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করা। বাংলাদেশে উদ্ভাবনী জ্ঞান, উচ্চদক্ষতা, গভীর চিন্তাভাবনা ও সমস্যা সমাধান করার মতো দক্ষতাসম্পন্ন মানবসম্পদ পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হয়নি। তাই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলোয় প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশ থেকে বাধ্য হয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষতাসম্পন্ন পরামর্শক নিয়োগ দিতে হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ খরচ বাবদ ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা যে কার্যকর নয়, তা এ পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়। আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতি ও সফলতা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে শিল্প ও সেবাচালিত অর্থনীতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। অন্যদিকে সবচেয়ে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে প্রযুক্তি খাতে। ফলে শিল্প ও সেবার ধরনেও আসছে পরিবর্তন। তাই এ পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন এবং প্রবল প্রতিযোগিতামূলক বাজারের জন্য নিজেদের যদি তৈরি করা না যায়, তবে হাজার হাজার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো কাজে আসবে না।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আমাদের প্রধানতম লক্ষ্য হতে হবে উপযোগী সুদক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি আর এজন্য প্রয়োজন হবে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে হবে। বাড়াতে হবে গবেষণায় বরাদ্দ। গবেষণাকেই যেন পেশা হিসেবে গ্রহণ করা যায়, সে রকম সুযোগ থাকতে হবে এ দেশের তরুণ মেধাবীদের জন্য। সে রকমটি সম্ভব হলে আমাদের পক্ষে জাপানের মতো মানবসম্পদভিত্তিক একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠন করা অসম্ভব হবে না। কেবল তৈরি পোশাক খাতই নয়, দেশে উদীয়মান আরো অনেক শিল্প খাতেই দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়নি। এমনকি দেশে কাঁচা চামড়ার প্রাচুর্য থাকলেও দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাবে এ খাত বিশ্বদরবারে স্থান করে নিতে পারছে না। তৈরি পোশাক খাত রফতানিতে বড় অবদান রাখলেও এ খাতের কাঁচামাল বহুলাংশে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। চামড়ার ক্ষেত্রে সেই সংকট নেই। দেশেই প্রচুর পরিমাণ কাঁচা চামড়ার সরবরাহ রয়েছে। তা সত্ত্বেও এ খাত শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারছে না। উৎপাদনশীল খাতে এভাবে পিছিয়ে থাকার কারণ অনুসন্ধানের মাধ্যমে ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এক্ষেত্রে প্রথমেই পরিবর্তন আনতে হবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়। অর্থনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে সাজাতে হবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে।










