মানুষ শারীরিকভাবে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেই কি তিনি প্রয়াত হয়ে যান? তার কাজকর্ম, চেতনা, দর্শন সব ধীরে ধীরে ধূলির মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যায়? অন্যরা তাকে ভুলে যান? না, সব মানুষের ক্ষেত্রে তা হয় না। যারা সমাজ ও সভ্যতাকে একটু হলেও এগিয়ে দেয়ার জন্য অবদান রাখেন, তারা মানুষের মাঝেই বেঁচে থাকেন; যারা জ্ঞান ও দর্শনের আলো ছড়িয়ে অন্যদের সমৃদ্ধ করেন, ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য ভূমিকা রাখেন—মানুষই তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। ফলে তাদের ক্ষেত্রে ‘প্রয়াত’ শব্দের প্রয়োগটা বোধহয় চলে না। এমনই একজন মানুষ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ। তিনি তার অনন্য চিন্তা ও নানামুখী কর্মগুণে বেঁচে আছেন এবং থাকবেন অগণ্য হূদয়ে—আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে। ২২ মে তার নবম মৃত্যুবার্ষিকী। নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার প্রতি জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি। 

একটা সাংস্কৃতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে মুসলমান মধ্যবিত্ত সমাজে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বেড়ে উঠেছিলেন। তার লেখালেখির শুরুটাও হয়েছিল মূলত কবিতা ও গল্প দিয়ে। এরপর অর্থনীতির পাশাপাশি শিক্ষা, নির্বাচন, গণতন্ত্র এগুলো নিয়েও তিনি লিখেছেন। তার লেখা হাজার খানেক প্রবন্ধ ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনায়। এছাড়া রয়েছে বুক রিভিউ, আছে অন্যদের গ্রন্থের সমালোচনা, সাক্ষাত্কার, কলাম ইত্যাদি। ১৯৮০ সালে অধ্যাপক আহমদ ও ড. রেহমান সোবহানের প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছিল। এর পরে ২০টি বই প্রকাশিত হয়েছে অধ্যাপক আহমদের। তার বেশির ভাগ বইই বিদেশ থেকে প্রকাশিত হতো। বিশেষ করে দিল্লি, শ্রীলংকা, ভারত ও ম্যানিলা থেকে।

অধ্যাপক আহমদের ছোটবেলার সে সময়ের যে পরিবেশ-পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক আবহ ছিল, সেখানে ‘দেশপ্রেম’ বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তখনকার রাজনীতিবিদরা দেশের জন্য যা করতেন, এটা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করত। সুতরাং রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না হয়েও রাজনীতি সচেতন হওয়ার একটা ক্রিয়াও অধ্যাপক আহমদের ভেতরে ছোটবেলা থেকেই বিশেষভাবে কাজ করতে শুরু করে। মানুষকে বোঝা, মানুষকে চেনা, তার সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা বোঝার চেষ্টা করার যে মন, সেটা খুব ছোটবেলায় পরিবার থেকেই অধ্যাপক আহমদের মাঝে তৈরি হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে সেই মনটা আরো সুসমৃদ্ধ হয়েছিল বই পড়ে। এছাড়া ছোটবেলা থেকেই অধ্যাপক আহমদের ভেতরে simple living high thinking-এর চেতনাবোধও তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ সাধারণভাবে জীবনযাপন কিন্তু উন্নত চিন্তা করা। অর্থের প্রয়োজন যেটুকু ছিল তা শুধু বই কেনার ক্ষেত্রে। পারিবারিকভাবেই এ জিনিসটা নির্দিষ্ট ছিল। ছোটবেলায় বই কেনার কথা পরিবারকে বললে সেই বই যদি উপযোগী কিংবা ভালো বই হতো তাহলেই কেবল তাকে কিনে দেয়া হতো। এ চেতনা ও মূল্যবোধগুলো অধ্যাপক আহমদ সারা জীবনই নিজে অনুসরণ করেছেন এবং অন্যদের অনুসরণ করতে উৎসাহিত করেছেন। 

জীবনে বহু ছোট ঘটনা, মূল্যবোধ ও উপযুক্ত শিক্ষার সমন্বয়ে সমন্বিত হয়েই নিজেকে অন্য রকমভাবে গড়ে তুলেছিলেন জ্ঞানসাধক ও কর্মবীর অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ। ফলে তিনি সবসময় উচিত কথা বলতেন। এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে ধর্মাচরণও করতেন। তিনি একটি ন্যায়পরায়ণ সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখতেন। দীর্ঘ জীবনে তিনি গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য লড়েছেন, পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কাজ করেছেন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রেখেছেন, শিক্ষা ভাবনার মাঝে দিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের কথা বলেছেন। সত্যিকারের দেশপ্রেম না থাকলে একজন ব্যক্তির পক্ষে এত বিষয় নিয়ে নিরন্তর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে যাওয়া সম্ভব নয়।

তার মধ্যে কখনই কোনো অর্থবিত্তের লোভ ছিল না। সবকিছুকে তুচ্ছ করে দেশ-জাতি-সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য তিনি কাজ করে গেছেন। সাধারণ জনগণের সঙ্গে সহজেই মিশেছেন, জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করেছেন। নানা সংগঠন ও আন্দোলনের মান উন্নয়নে তিনি আজীবন প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। তিনি সবসময় ন্যায় ও সত্যের কথা বলতেন, সেই পথে হেঁটেছেন এবং সে পথে হাঁটতে গিয়ে যখন কেউ সাড়া দেয়নি, তখন তিনি একলাই চলেছেন, হেঁটেছেন। আর সেই হাঁটা ও চলার প্রেরণা পেয়েছেন তিনি রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতা থেকে। যারা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ও পথে আছেন, তাদের উদ্দেশ করে তিনি বলতেন, ‘নানান প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও সত্য ও ন্যায়ের পথ এবং মত যেন আমরা না ছাড়ি।’ তার উদাহরণ তাই নিঃসন্দেহে আমাদের নানাভাবে অনুপ্রাণিত করে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন তিনি

দুর্নীতিকে সমাজের সর্বগ্রাসী ও সর্বব্যাপী সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থা ও অবস্থান গ্রহণে তিনি সবাইকে উদ্বুদ্ধ ও উদ্যোগী করে তুলতে নিবিষ্ট ছিলেন। টিআইবি, সুজন, বাপাসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের মাধ্যমে দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছেন তরুণ সমাজকেও। দুর্নীতি সমাজের সাধারণ মানুষদের কতভাবে বঞ্চিত করছে তা তিনি খুব গভীরভাবেই অনুভব করতে সমর্থ হয়েছিলেন। অন্যদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সারা দেশে ব্যাপক জনমত বিরাজ করছে তাও তিনি স্পষ্টভাবেই লক্ষ করেছিলেন। এছাড়া দুর্নীতি কীভাবে মানুষের মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে তা দেখে তিনি বিস্মিত ও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। দুর্নীতি নির্মূলের জন্য যথাযথ আইনি কাঠামো, কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিরোধ—এ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি তিনি সবসময়ই জানিয়ে এসেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক কর্মী বা কর্মকর্তা এবং আমলাতন্ত্রের যে দুষ্টচক্র দুর্নীতিকে ব্যাপ্তি ও গভীরতা দিয়েছে, সেটি দূর করতে হলে শক্তিশালী, কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশনকে নিয়ম-নীতির মধ্যে, সরকারি প্রশাসনের তদারকির ঊর্ধ্বে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।’ কার্যকর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সামাজিক অবস্থা গড়ে তোলা প্রায় অসম্ভব, সেকথাও তিনি নানা সময়েই নানাভাবে বলে গেছেন। পাবলিক স্পেসে যারা কাজ করেন, তাদের সবার সম্পদের বিবরণী জানা থাকা প্রয়োজন, সে প্রয়োজনীয়তার দাবিটিও তিনি সবার সামনে নিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছিলেন।  

গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট ও ব্রতী ছিলেন তিনি

দুর্বৃত্তরা আজ আমাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়ে গিয়েছে। রাজনীতি হয়ে পড়েছে নিতান্ত হীন ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার একটি নগ্ন ব্যবসায়—এ অবস্থা দেখে তিনি নিজের ভেতরে গভীর বেদনা অনুভব করেছেন। এ ধারাবাহিকতা আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথে বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে বলেও তিনি অভিমত পোষণ করেছিলেন। দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে নির্বাচন পদ্ধতিকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করে তুলতে নিবিষ্ট মনে কাজ করেছেন তিনি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার করা প্রয়োজন, সে গুরুত্বের জায়গাটিও নানাভাবে উদাহরণ দিয়ে দেখিয়ে দিতে তিনি সমর্থ হয়েছিলেন। তিনি নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার পক্ষে দৃপ্ত কণ্ঠস্বর ছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানে নির্দলীয়, নির্ভীক ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের মনোনয়ন প্রদানের দাবিও জানিয়ে এসেছিলেন তিনি। শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনই আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের তথা সজ্জনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়া আবশ্যক—একথাও তিনি সচেতনভাবে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়ে গেছেন। এজন্য তিনি অসৎ, অযোগ্য, দুর্নীতিবাজ, চোরাকারবারি, কালো টাকার মালিক, ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, পেশিশক্তির অধিকারী তথা দুর্বৃত্তদের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে দূরে রাখার পক্ষেই জোরালো অবস্থান গ্রহণ করে এসেছিলেন।  

শিক্ষা ব্যবস্থায় তিনি আমূল ও ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছিলেন

ভালো মেধাবী ছাত্রদরদি শিক্ষক পেতে হলে অবশ্যই তাদের চাকরির শর্ত ও সামাজিক মর্যাদা এমন পর্যায়ের হওয়া প্রয়োজন, যেটি এ দেশের কৃতী ছাত্রদের শিক্ষালয়ে কাজ করতে উৎসাহ প্রদান করবে—এটাই ছিল তার একান্ত আকাঙ্ক্ষা। তিনি বলেছিলেন, ‘দাবি করে মর্যাদা লাভ করা যায় না। কর্মের মাঝেই শিক্ষক মর্যাদা লাভ করেন, এ কথাটাও শিক্ষকদের মনে রাখা প্রয়োজন।’ শিক্ষকদের জীবনমানের বিষয়টির দিকে যথাযথভাবে দৃষ্টি না দেয়ার কারণেই শিক্ষকরা নানা কর্মে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছেন এবং এর ফলে শিক্ষাদান বিঘ্নিত হচ্ছে; যে সমস্যা থেকে উত্তরণ খুব সহজ হবে না বলেও অভিমত পোষণ করেছিলেন তিনি। একুশ শতকের যে স্ফুরিত জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ক্রমান্বয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য তার মতে ‘শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হবে না।’

পরিবেশ রক্ষায় ছিলেন নিয়ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

১৯৯৭ সালে ‘পরশ’ নামে যে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেছিল, তার শুরু থেকেই তিনি অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন। যে প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ২০০০ সাল থেকে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন’ নামে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রেখে চলেছে। তার নিরন্তর প্রয়াসেই পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আজ দেশের পরিমণ্ডল ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিবেশ রক্ষায়, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে বিবেকসম্পন্ন ও পরিবেশপ্রেমী মানুষের শুধু নয়, সবার সংগঠন হিসেবে নতুন মাত্রায় ও গুরুত্বে পরিচিতি লাভ করেছে। তিনি সবসময়ই মনে রাখতে বলতেন, এ অঞ্চলের সম্পদ হলো জমি, জল, বন ও জীববৈচিত্র্য। এগুলো নিয়েই মানুষের জীবন সমৃদ্ধ হয়। উন্নয়নে তাই এসব সম্পদ সংরক্ষণ সূচক হিসেবে ব্যবহার করার দাবি ছিল তার।

দেশ ও দশের কল্যাণে কোনো উদ্যোগে তিনি কখনই ‘না’ উচ্চারণ করেননি, ছুটে গেছেন দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে! কোথায় ছিলেন না তিনি? মানবাধিকার সুরক্ষায়, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণে, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে, দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূরীকরণ সম্পৃক্ত নানা উদ্যোগে ছিল তার দৃপ্ত পদচারণা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সমাজের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে অবদান রেখে গেছেন।

আমরা তাকে আর সশরীরে পাব না, কিন্তু তার অনুপ্রেরণা এবং আদর্শের কথা মনে রেখে আমরা নিয়ত গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে, পরিবেশ রক্ষায়, দুর্নীতি ও সমাজের সব রকমের অসংগতি দূরীকরণে ও অন্যায়ের প্রতিবাদে আরো সচেষ্ট ও উদ্যোগী হব এবং থাকব এবং তা যেন নিয়ত থাকতে পারি—এটাই আমাদের প্রার্থনা ও প্রতিজ্ঞা হোক! তিনি অমর—তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন নিরন্তর আমাদের মাঝে, সব ভালো কাজে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন চিরজাগরূক!

 

বিধান চন্দ্র পাল: সদস্য, নির্বাহী পরিষদ, নগর গবেষণা কেন্দ্র (সিইউএস, ঢাকা); যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)