বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর (২০১২ সালে প্রকাশিত) শুরুটা খুব অর্থবহ। তিনি তার জন্মস্থানের একটি অস্তিত্ববাদী বর্ণনা দিয়েছেন নদীর সঙ্গে সম্পর্ক করে। নদীটি হলো মধুমতী, ফরিদপুর আর খুলনাকে যে জলপ্রবাহ ভাগ করেছে। তার পূর্বপুরুষদের কেউ সঠিকভাবে জানে না যে এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ বোরহানউদ্দিন নামে একজন ধর্মভীরু লোক বহু বছর আগে, সম্ভবত মোগল আমলে কেন এই মধুমতি নদীর তীরে বসতি স্থাপন করেছিলেন। অন্য অনেক বাঙালির মতোই বাংলার নদীর সঙ্গে শেখ বংশের একটা বহুমাত্রিক সম্পর্ক ছিল। বঙ্গবন্ধুর অনেক পূর্বপুরুষ ছিলেন নদীকেন্দ্রিক উদ্যোক্তা।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে, যখন নীল চাষ ছিল ঔপনিবেশিক অর্থনীতির একটি অন্যতম শোষণ শক্তি, শেখ কুদরতুল্লাহর ব্যবসা ছিল নৌকার বহরে ফরিদপুর থেকে কলকাতায় পণ্য নিয়ে যাওয়া। আঁকাবাঁকা নদীপথে নৌকা বহর যাওয়ার সময় এক চাঁদাবাজ ইংরেজ আর তার স্থানীয় লাঠিয়াল বাহিনী সবসময় নৌকা থামিয়ে পণ্য ছিনিয়ে নিত। একসময় সংঘর্ষ হলো এবং ঘটনা আদালতে গড়াল। সবাইকে অবাক করে শেষ পর্যন্ত ঔপনিবেশিক আদালতের রায় গেল কুদরতুল্লার পক্ষে। যদিও ওই ইংরেজের জরিমানা ছিল অতিসামান্য কিন্তু তার বিপক্ষে স্থানীয় একজন বাঙালি ব্যবসায়ীর এই জয় কালের চাকায় ঘুরতে ঘুরতে হয়ে গেল লোকগাথার মতো।
মনে হতে পারে বাংলার নদীগুলো যেন শেখ পরিবারের উত্থান আর বিপর্যয়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। শুধু নদী নয়, বাংলার মাটির গল্পগুলোও শেখদের পারিবারিক বিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। ঔপনিবেশিক আমলে কয়েক বংশের মধ্যেই শেখ বংশ জমিজমাবিষয়ক সংকট নিয়ে আদালতে যেতে যেতে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। পূর্ব বাংলার অনেক পরিবারের মতোই শেখ বংশের গল্প ছিল এই বঙ্গীয় উপদ্বীপের নদীনালা, খালবিল, আর মাটিকে ঘিরে।
বঙ্গবন্ধুর প্রাথমিক রাজনৈতিক জীবন ছিল এই নদীমাতৃক বাংলার আনাচেকানাচে ছুটে বেড়ানোর একটি হোমারিও মহাকাব্য। তার বাহন ছিল নৌকা, লঞ্চ, আর রেল। ছাত্ররাজনীতি আর আন্দোলন করতে গিয়ে দেশভাগের আগে ও পরে—আগে ভারত উপমহাদেশের মুসলিমদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের দাবি এবং পরে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ প্রাদেশিক সরকারের আমলে বাঙালির স্বাধিকার অধিকারের আন্দোলন—বঙ্গবন্ধু বহুবার গোপালগঞ্জ থেকে কলকাতা, ঢাকা থেকে বরিশাল, খুলনা থেকে ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইল এবং বাংলার আরো অনেক এলাকায় ঘুরে বেরিয়েছেন। এই রাজনৈতিক অডিসিগুলোর সময় তিনি পূর্ব বাংলার নদী-মাটির ভৌগোলিক চরিত্রের মধ্যে একটি গভীর জলজ-নৃতাত্ত্বিক উপলব্ধি করেছিলেন।
টুঙ্গিপাড়ায় নিজ গ্রামে ফিরতে তাকে সবসময় নৌকায় যেতে হতো মধুমতি নদী ধরে। আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিচারণ করেছেন যে নৌযাত্রার সময় নদীমাত্রিক পূর্ব বাংলার স্থানিক বৈশিষ্ট্যকে শুধু আত্মস্থই করেননি, নৌকার মাঝির সঙ্গে স্বভাবজনিত আলাপচারিতায় জানতে চেয়েছেন গ্রামীণ বাংলার সুখ-দুঃখের রোজনামচা। একবার মধুমতি ধরে নৌকা নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, এই নদীর দেশে মানুষের কখনই নৌকায় ঘুমিয়ে যেতে অসুবিধা হয় না। খুবই সাধারণ একটি কথা কিন্তু এর পেছনে আছে গভীর পরিবেশগত মনস্তত্ত্ব: জল-মাটির বদ্বীপ আর বাংলার মানুষের একটি আত্মিক সম্পর্ক আছে। এ ধারণা ধীরে ধীরে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক মতাদর্শ, তার ন্যায়বিচার, সহাবস্থান এবং ত্যাগের রাজনীতির ভিত্তি তৈরি করেছে।
পূর্ব বাংলার মুসলিম মানুষদের মনোজগৎ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিচার্ড ইটন তার বই দ্য রাইস অব ইসলাম অ্যান্ড দ্য বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারে (১৯৯৩) বলেছেন: পূর্ব বাংলায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার অন্যতম কারণ হচ্ছে এখানে ইসলাম ধর্ম এসেছে কৃষির মাধ্যমে, এক ধরনের কৃষিজ-ইসলামী চেতনা থেকে। সুলতানি আর মোগল আমলে উত্তর-পশ্চিম থেকে পীর, দরবেশ এবং অন্য মুসলিম নেতারা এ অঞ্চলে এসে বনবাদাড় পরিষ্কার করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি কৃষিভিত্তিক জীবন ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন। ধীরে ধীরে এই জনগোষ্ঠী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। এ অঞ্চলের ইসলামকে ইটন বলছেন, লাঙলের ধর্ম—যে ধর্ম এবং এর সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পূর্ব বাংলার মাটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
আরেকটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আকবর আলি খান তার ডিসকভারি অব বাংলাদেশ (১৯৯৬) বইটিতে লিখেছেন, পূর্ব বাংলার মানুষের চরিত্র ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য তৈরি হয়েছে এখানকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ভেতর দিয়ে; বাংলার বদ্বীপে নদী-খালের আধিক্য এবং তার ফলে পানি সরবরাহের পর্যাপ্ততার কারণে যেহেতু এ অঞ্চলে সুসংগঠিত প্রশাসনিক গ্রাম সংস্কৃতি তৈরি হয়নি, সেহেতু এখানকার মানুষ সমান্তরালভাবে স্বাধীনচেতা এবং নিয়মমাফিক জীবনবোধে অপরিপক্ব। মূলকথা হলো, পূর্ব বাংলার মানুষের সামাজিক রীতিনীতির উৎস বাংলার মাটি আর নদী। ১৯৪০ আর ১৯৫০-এর দশকে পূর্ব বাংলার গ্রামগঞ্জে ঘুরে বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করেছিলেন, এই বদ্বীপের ভূগোলেই মিশে আছে বাংলার মানুষের অস্তিত্ব। তাদের সুখ-দুঃখ, তাদের হাসি-কান্না। আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে অক্টোবর ১৯৭০ সালে, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বঙ্গবন্ধু নৌকাকেই তার পার্টির প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তার দৃষ্টিতে পূর্ব বাংলার ভৌগোলিক আর সামাজিক অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে নৌকার চেয়ে সক্ষম আর কিছু নেই।
দ্য ক্রোওয়েল বার্থ অব বাংলাদেশের (২০০২) লেখক এবং ১৯৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঢাকায় মার্কিন কনসাল জেনারেল (বাংলাদেশে গণহত্যার সত্যিকারের চিত্র ফুটিয়ে তোলাতে নিক্সন প্রশাসনের রোষানলের শিকার), আর্চার ব্লাড অবাক বিস্ময়ে লিখেছেন বঙ্গবন্ধু কীভাবে ত্রাণকর্তার ভঙ্গিতে তার ভাষণে বলতেন—‘আমার জনগণ, আমার মাটি, আমার অরণ্য, আমার নদী।’ নদীতে, নৌকায়, গ্রামের সবুজ জমিতে তিনি যেন অনায়াসে হয়ে যেতেন একজন রাজনৈতিক জীবনানন্দ এবং দেখতেন এই বাংলার অকল্পনীয় ও বিষাদগ্রস্ত সৌন্দর্য, কিন্তু সেখানে শঙ্খচীল হয়ে নয়, বরং এ অঞ্চলের নিপীড়িত মানুষের বন্ধু হয়ে ফিরে আসার লক্ষ্যে ব্যাকুল থাকতেন।
আর্চার ব্লাড তার বইতে বঙ্গবন্ধুকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: ‘মুজিবের অবয়বে ছিল এক ধরনের অশোধিত ক্ষমতা, যার সমান্তরাল উৎস সাধারণ মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা এবং তার নিজের দৃঢ় ব্যক্তিত্ব। সে ছিল সাধারণ বাঙালির চেয়ে লম্বা আর সুঠামদেহী, তার চেহারায় ছিল বলিষ্ঠ সৌন্দর্য আর তীব্র চোখ।’ ছোটবেলা থেকে বঙ্গবন্ধু তীব্র চক্ষু যন্ত্রণায় ভুগেছেন। ১৬ বছর বয়স থেকে তার চোখে চশমা। এক ফ্রয়েডীয় মনস্তাত্ত্বিকতায় তিনি যেন জীবনকে এবং সেই সঙ্গে নদীমাতৃক বাংলার প্রকৃতিকে দেখেছেন কিছুটা জীবনানন্দের মতো, বিষণ্ন চোখ দিয়ে। এই অবলোকন মানসিকতার ফলে বঙ্গবন্ধুর মধ্যে শোনার এক তীব্র প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। চোখের কষ্ট রূপান্তরিত হয়েছিল শ্রবণ ক্ষমতায়. শুনতে কি পেতেন প্রবহমান নদীর শব্দ, বাংলার বাতাসের শব্দ, সবুজ মাঠের শব্দ, আর বাংলার মানুষের অলিখিত গল্প? এটা আমরা জানি, তিনি কারাবাসের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্যান্য রাজবন্দি এবং সাধারণ কয়েদির কথা শুনতেন মনোযোগ দিয়ে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, চোখের বেদনা কি রূপান্তরিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর অসামান্য বাগ্মিতায়?
দেশভাগের আগে ও পরে যখন উপমহাদেশের হিন্দু আর মুসলমানরা সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল, বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক শিক্ষক হুসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী তত্পরতা দিয়ে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িকতার বাণী ছড়িয়ে দিতে তিনি বাংলার আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সময়ের সঙ্গে এই ছুটে বেড়ানোর একটা বৃহত্তর রাজনৈতিক অর্থ তৈরি হয়। সমাজের বঞ্চিত, দারিদ্র্যক্লিষ্ট আর নিম্নবিত্ত মানুষদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। এ অবস্থান থেকে উৎসারিত হয় নিপীড়িত মানুষের প্রতি তার সহানুভূতির রাজনীতি। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একদিকে বাংলার নদীনালা, খালবিল আর বিস্তীর্ণ বদ্বীপ দেখা এবং আরেকদিকে দুই পাকিস্তানের অসম রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণে বাংলার মানুষের ভাগ্যহীনতা উপলব্ধি করা যেন এক হয়ে যায়। কারণ বদ্বীপের নদীনির্ভর পরিবেশ আর বাংলার মানুষের গল্পের উৎস একই—সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার যুদ্ধ।
১৯৪৭-এর দেশভাগের পরে যখন পূর্ব পাকিস্তানে স্বৈরাচারী মুসলিম লীগ প্রাদেশিক সরকার বাঙালির মাতৃভাষার দাবি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার সহঅধিকার আন্দোলন থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত, বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের পক্ষে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এই জনপ্রতিরোধের সময় তিনি তার কমিউনিস্ট সহকর্মীদের কটাক্ষ করেছিলেন তাদের জনবিচ্ছিন্ন আদর্শবাদিতার জন্য। তিনি বলেছিলেন, মানুষ হাঁটে মাটির ওপরে, আর তোমরা তাদের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে চলো তোমাদের উচ্চমার্গ মতাদর্শের উড়োজাহাজে। এই রূপক সমালোচনায় বঙ্গবন্ধু ব্যবহার করেছেন বাংলার পানি-মাটির ভৌগোলিক উপমা। তার সমালোচনার লক্ষ্য ছিল সেই কার্ল মার্ক্সরূপী নাক উঁচু রাজনীতিবিদরা, যারা মানুষ নিরীক্ষণ করেন আকাশ থেকে, মাটির ওপর থেকে নয়। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন মানুষের সঙ্গে ধানের জমিতে, নদী-খালেই মিশতে হবে। সেখানেই তাদের দৈনন্দিন জীবনকে অনুধাবন করতে হবে। তাহলেই তাদের হূদয় স্পর্শ করা যাবে, তাদের শ্রবণ ইচ্ছা তৈরি হবে। এই ছিল তার ত্যাগের মৌলিক রাজনীতি। তার মতে, আকাশ ভেসে ভেসে ত্যাগী হওয়া যায় না। সত্যিকারের ত্যাগ স্বীকার সম্ভব হয় মাটি থেকে, পানি থেকে, নদী থেকে, নিচ থেকে। সহানুভূতি বা মানুষের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার রাজনীতি উৎসারিত হয় ভেতর থেকে, ভৌগোলিক অবস্থান থেকে, যেখানে নদী, মাটি আর মানুষের গল্প মিলেমিশে একাকার হয়।
কিন্তু তার মানে এই নয় যে বঙ্গবন্ধু মাটিতে দাঁড়িয়ে, নদীতে নৌকায় ভেসে বাংলার মানুষেরও সমালোচনা করেননি। তিনি বাঙালির আত্মঘাতী ভাগ্যবাদের তীব্র ব্যাখ্যা করেছেন। তার আত্মজীবনীতে অবাক বিস্ময়ে ভেবেছেন, এই বদ্বীপের উর্বর জমিতে, নদীমাতৃক প্রাচুর্যের দেশে বাংলার মানুষ কীভাবে অবিরত দারিদ্র্যক্লিষ্ট থাকে। এর কারণ এই মানুষরা নিজের অজান্তেই নিজ দেশের শাসনভার বিদেশী প্রভুর পদপ্রান্তে দিয়ে এসেছে প্রসাদের মতো, নিজের ভাগ্য নিজে গড়ার বদলে এই দায়িত্ব তুলে দিয়েছে অন্যের হাতে। এই নিপীড়নের ইতিহাসের মূলে বাঙালির অন্তর্দ্বন্দ্ব, পরশ্রীকাতরতা আর বিশ্বাসঘাতকতা করার প্রবণতা। তিনি লিখেছেন: ‘সুজলা, সুফলা বাংলাদেশ সম্পদে ভর্তি। এমন উর্বর জমি দুনিয়ায় খুব অল্প দেশেই আছে। তবুও এরা গরিব। কারণ যুগ যুগ ধরে এরা শোষিত হয়েছে নিজের দোষে। নিজকে এরা চেনে না, আর যতদিন চিনবে না এবং বুঝবে না, ততদিন এদের মুক্তি আসবে না।’ কোনো একভাবে বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্যকে আগস্ট ১৯৭৫-এর রক্তাক্ত অধ্যায়ের একটি নির্মম ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ আর বিবর্তন বুঝতে হলে তিনি কীভাবে বাংলার পলি মাটির প্রকৃতি আর এ অঞ্চলের মানুষের মনোজগতের মিলনকে আত্মস্থ করেছিলেন, সেটা বুঝতে হবে। এটা মোটেই কাকতালীয় নয় যে বাংলার জনপ্রিয় কল্পনাজগতে বঙ্গবন্ধুকে নদীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে: ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান, ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।’
ড. আদনান জিল্লুর মোর্শেদ: অধ্যাপক, গবেষক, স্থপতি, নগরবিদ










