শান্তিপুরের বাসিন্দা আব্দুল গফুর শেখ, দিন আনি দিন খায় হাতের কাছে যে কাজই পায় তাই করে একভাবে দিন কেটে যায়। দুই সন্তানের বাবা তিনি পরিবারে আছে বৃদ্ধ অসুস্থ মাও। তার সন্তান, স্ত্রী এবং মাকে নিয়ে পরিবারের সদস্য মোট পাঁচজন। এদের নিয়ে কোনোভাবে দিন কেটে যাচ্ছিল আব্দুল গফুর শেখের। তিন বেলা কোনো রকম নুন, ডাল, ভাত খেয়ে দিন কাটত তাদের। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ছিল আগের চেয়ে অনেক বেশি। তারপর আবার লাগামহীন বেড়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম, আগে যাও নুন-ভাত দিয়ে একভাবে তিন বেলা খেয়ে কেটে যাচ্ছিল তাদের এখন সেটার জোগান দিতেও যেন আব্দুল গফুর শেখের নাজেহাল অবস্থা। আগে তিন বেলা ডাল, নুন, ভাত পেলেও এখন তারও জোগান দিতে পারছে না আব্দুল গফুর। এ ভয়াবহ বিপদের মধ্যে হঠাৎ একদিন আব্দুল গফুরের দেখা দেয় ম্যালেরিয়া জ্বর। এবার দেখা দেয় অভাবের চূড়ান্ত রূপ, কেননা পরিবারে কাজের জন্য লোক তো তিনি নিজে। তিনি যদি কাজ করতে না পারেন পরিবারের সব সদস্যকেই না খেয়ে থাকতে হবে। খুবই সামান্য উপার্জন হওয়ার কারণে তার নেই কোনো সঞ্চয়। এদিকে জ্বরে তার অবস্থা ভয়াবহ, নড়াচড়া করার শক্তিটুকুও নেই। এ যেন এক দুর্বিষহ জীবন। এ শান্তিপুরে যেন তাদের কোনো শান্তি নেই।

এ শান্তিপুর গ্রামকে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করি এবং আব্দুল গফুর শেখের সঙ্গে তুলনা করি বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষের। সারা দেশে যেন আজ অভাব আর অভাব।

এদিকে মধ্যবিত্তের অবস্থা যেন না খেয়ে মরবে তারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েই চলেছে একদম লাগামহীন। গ্রামের কৃষকের অবস্থা তো আর বলার মতো নেই। কৃষিপণ্যের দাম একদম পাচ্ছে না তারা, অন্যদিকে সারসহ সব ধরনের কৃষি উৎপাদন পণ্যের দামও বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের ৮৭ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারের আয়ের উৎস কৃষি, তাই এরা যদি বিপাকে পড়ে তাহলে বাংলাদেশের মানুষের অনেক বড় অংশ বিপদে পরবে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে বেরিয়ে এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। তৈরি হচ্ছে সেতু, মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্প। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ এখন অনেক উন্নতশীল রাষ্ট্র। তবে অন্য দিকে জনগণের প্রশ্ন, এত উন্নয়ন দিয়ে কী হবে যদি সাধারণ মানুষ খাবার না পেয়ে মারা যায়। সরকারের উচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কেন বাড়ছে এদিকে আলোকপাত করা এবং ওইসব অসাধু ব্যবসায়ীক আইনের আওতায় নিয়ে আসা, যাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য রিজার্ভের জন্য আজ সবকিছুর দাম এত বৃদ্ধি।

 

মো. যায়েদ: শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ