গতকাল বণিক বার্তায় প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭-২২ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা বেড়েছে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ হারে আর খাদ্যোৎপাদন বেড়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হারে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের দিক থেকে তথ্যটি উদ্বেগজনক। পুরো বিশ্বে খাদ্য ও জ্বালানিপণ্য নিয়ে নানা সংশয় তৈরি হয়েছে। অর্থ দিয়েও অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে খাদ্য মিলছে না। ফলে অধিকাংশ দেশই খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে, উৎপাদন বাড়াতে নিচ্ছে নানা পদক্ষেপ। বাংলাদেশও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সেটির ফলাফল দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি এখনো। বরং সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে আসছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসছে। ফলে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছে। এমনিতেই বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান পেছনের সারিতে। চাহিদা পূরণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে। বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কৃষি খাতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। নইলে খাদ্যনিরাপত্তায় বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হবে।
খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দোদুল্যমান আন্তর্জাতিক বাজারসহ নানা কারণেই দেশের কৃষি খাত পুরোপুরি বিকশিত হতে পারেনি। কৃষির উৎপাদনশীলতা এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে উপনীত হতে পারেনি, যদিও বাংলাদেশের টোটাল ফ্যাক্টর প্রডাক্টিভিটি স্কোর (টিএফপি) বৈশ্বিক গড় থেকে ভালো। বাংলাদেশের টিএফপি ১ দশমিক ২৩ আর বৈশ্বিক গড় ১ দশমিক ১৮। তবে ভারত (১.২৪) ও চীন (১.৪) থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে। কৃষিতে সরকারের ব্যয়ের দিক থেকে বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশের জন্য এটি কাঙ্ক্ষিত নয়। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, উৎপাদনশীলতায় পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ উৎপাদন উপকরণের উচ্চব্যয়। সরকারের ভর্তুকির কারণে অতিরিক্ত সেচের পানি, অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি কৃষকের অজ্ঞতা ও যথাযথ প্রশিক্ষণের ঘাটতির ফল। এক্ষেত্রে শস্য উৎপাদনে আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা, জৈব সার ও উন্নতমানের বীজের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে একরপ্রতি উৎপাদন বাড়বে। কৃষির উৎপাদনশীলতা কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়ার অন্যতম কারণ কার্যকর প্রতিষ্ঠানের অভাব। গত ৩০ বছরে বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ৩৮টি উচ্চফলনশীল জাত আবিষ্কার করে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষিকে এখন আরো উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। শস্য বহুমুখীকরণ, একাধিক ফসল উৎপাদন, উন্নত মানের বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপ দ্রুত নিতে হবে। বাংলাদেশের কৃষির উৎপাদন প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো জমির স্বল্পতা। ২০১৮ সালের তথ্যানুযায়ী ছোট আয়তনের এ দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে ১২৩৯ জন মানুষ বসবাস করছে। মানুষ আর কৃষিজমির অনুপাত বিবেচনায় বিষয়টি আশঙ্কাজনক। শিল্প ও বসবাসের চাহিদা পূরণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি জমির উর্বরতা শক্তিও ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়ছে, পক্ষান্তরে চাষযোগ্য জমি প্রতি বছর ১ দশমিক ২ শতাংশ হারে কমছে। যদিও বাংলাদেশ কৃষিক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করেছে, তার পরও দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সরবরাহ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ খাদ্য মানুষ কতটা পাচ্ছে, সে সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কৃষিতে প্রযুক্তি ও যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু এর গতি ধীর। ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু ধান রোপণও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানে যন্ত্রের ব্যবহার আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কৃষিতে লাভ কম বলে কৃষক এখনো সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করেন। গবেষকরা বলছেন, প্রতি হেক্টরে আট টন ফসল উৎপাদন হবে। সেখানে প্রকৃতপক্ষে কৃষকরা তিন-চার টনের বেশি উৎপাদন করতে পারছেন না। এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে না পারলে দানাদার শস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখা কঠিন হবে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কৃষিতে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। খাদ্যের নিরাপত্তা, টেকসই ও দায়িত্বশীল কৃষি। কিন্তু আমাদের সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দিয়েই অনেক বেশি উৎপাদন করতে চাই। জমি ফেলে রাখছি না। আমাদের এখন খোরপোশ কৃষি থেকে লাভজনক বাণিজ্যিক কৃষিতে উত্তরণ ঘটাতে হবে। বিশ্বব্যাপী কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্য যে চ্যালেঞ্জটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, তা হলো জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব। জলবায়ু পরিবর্তনে যেসব দেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। জলবায়ুু পরিবর্তনের কারণে দেশের ঋতুচক্র বদলে যাচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব কৃষি উৎপাদনের ওপর পড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ুর এ বিরূপ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য বিশেষ করে বিভিন্ন অভিযোজন কলাকৌশল রপ্ত করতে হবে, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষিকে মুক্ত রাখা বা ঝুঁকি কমানো যায়।
শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছে। ২০৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ৯৫০ কোটির বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, এখন যে খাদ্যোৎপাদন হয়, এর চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি খাদ্যোৎপাদন করতে হবে। ২০৩০ সালে পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে খাবারের সংকটে থাকবে। স্বাধীনতার পর দেশে যে সবুজ বিপ্লব শুরু হয়েছিল, তার সুফল পাওয়া গেছে। যদিও কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। যেমন জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া ও খাদ্যে বিষক্রিয়া। বর্তমানে খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো মানসম্পন্ন ও উন্নত জাতের স্বল্পতা, সর্বোপরি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব। উত্তরাঞ্চলে সেচের সংকট, হাওরাঞ্চলে বন্যা, দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এটি মোকাবেলায় প্রয়োজন বন্যা-খরা ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন। দ্রুত সময়ে ফসল ঘরে তোলা, একরপ্রতি উৎপাদন বাড়াতে হলে গবেষণা জোরদার করতে হবে।
বিশ্বজুড়ে কয়েক মাসের মধ্যেই খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এর সঙ্গে একমত হয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও বলেছে, বৈশ্বিকভাবে যে হারে আমদানি পণ্য ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে তাতে মূল্যস্ফীতির ঘোড়াকে সামলে রাখা কঠিন হবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশে উঠেছে। এছাড়া চীন, ভারত, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, কানাডাসহ বিশ্বের খাদ্যোৎপাদনে নেতৃত্বদানকারী দেশগুলোতে অতিরিক্ত বন্যা, খরা কিংবা দাবানলে বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফলে উৎপাদন কমেছে। আগামী মৌসুমেও উৎপাদন কম হবে ব্যাপক হারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ যে অবস্থানে আছে, সেখান থেকে খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থা টেকসই করতে নিজস্ব বীজ উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। তথ্য অনুযায়ী, দেশে যে পরিমাণ বীজের প্রয়োজন, তার ৯৩ শতাংশ আমদানি করা হয়। বাকি ৭ শতাংশ উত্পন্ন হয় স্থানীয় পর্যায়ে। আর বীজের আমদানিনির্ভরতা দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে কৃষি উৎপাদন বাড়লেও প্রকৃত কৃষক যৌক্তিক দাম পান না। এটি কৃষি খাতের বড় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে দরকার টেকসই কৃষি অর্থনীতি। সরকারি প্রণোদনা ও কৃষিঋণ সঠিক লোক পাচ্ছে কিনা তা কঠোরভাবে তদারক করতে হবে। কারণ সরকারের প্রণোদনা ছাড়া কৃষিতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর বেসরকারি খাতকে সংযুক্ত করার পাশাপাশি অবকাঠামো নির্মাণ ও গবেষণায় জোর দিতে হবে। আবার প্রতি বছর কৃষি খাতে ভর্তুকি দেয়া হলেও সেই অর্থ যথাযথ জায়গায় ব্যবহূত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ভর্তুকির টাকায় কৃষি অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রতি জোর দিতে হবে। এমনকি ব্যাংক থেকে নেয়া কৃষিঋণও সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ হচ্ছে কিনা তাও তদারক করতে হবে।
বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকিতে সেখানে বাংলাদেশের খাদ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। তার পরও বাংলাদেশ প্রতি বছর খাদ্যশস্য আমদানি করে। খাদ্যনিরাপত্তা প্রতিটি দেশের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্য হলো পুষ্টির উৎস আর পুষ্টির ওপর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নির্ভরশীল। তবু টেকসই খাদ্যনিরাপত্তার পথ বেশ কঠিন, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য। কারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার প্রথমেই হলো খাদ্য। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ খাদ্য অর্থাৎ চাল উদ্বৃত্ত উৎপাদন করছে বলে সরকারের দাবি। তার পরও বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য চাল আমদানি করতে হয়। যদিও বাজারে অদৃশ্য হাতের কারসাজির কারণে মাঝে মাঝে দাম বেড়ে যায়, সংকট সৃষ্টি হয়। এ জন্য সরকারকে মজুদ বাড়াতে হবে। চাল-গমসহ খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়লেও জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্যচাহিদা কতটুকু তা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা নেই। বর্তমান উৎপাদন ও ব্যবহারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সুবিন্যস্ত নয়। দেশে খাদ্যপণ্যের সঠিক চাহিদা কত, সেই হিসাব যেমন নেই, তেমনি উৎপাদনের সঠিক পরিসংখ্যানও নেই, যা পরিকল্পনা গ্রহণে খুব বড় সমস্যা তৈরি করে। তথ্যবিভ্রাট হলে পরিকল্পনা ঠিক হয় না। তথ্যের যথার্থতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি নিশ্চিত হতে বিবিএসকে তার দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। উৎপাদন শুধুু নয়, বিভিন্ন খাদ্য ভোগের তথ্যেও বড় বিভ্রাট রয়েছে। বিভ্রান্তি রয়েছে বিবিএসের তথ্যেও। ত্রুটি রয়েছে খাদ্যোৎপাদন, আমদানি ও ব্যবস্থাপনায়, যা দূর করা জরুরি।
এটা স্পষ্ট যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা মানে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া নয়। তাই খাদ্যোৎপাদন নিয়ে তৃপ্ত হওয়ার সময় এখনো সুদূরপরাহত। এ জন্য প্রয়োজন উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত উপকরণগুলোর নিশ্চয়তা, পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, দেশীয় প্রযুক্তির উত্কর্ষ সাধন। টেকসই কৃষি অর্থনীতি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে। স্থানীয় ভোক্তার চাহিদা নিরূপণ, কলকারখানার কাঁচামাল এবং আন্তর্জাতিক বাজার, উত্পন্ন পণ্য—এ তিনভাবে দেখতে হবে বিষয়টিকে। এ তিন জায়গায় সমন্বয় করা গেলে টেকসই কৃষি অর্থনীতি নিশ্চিত করা যাবে। এখানে বীজ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ প্রয়োজন। টেকসই কৃষি অর্থনীতি বাস্তবায়নে উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত উপকরণ, যেমন বীজ, সার, কীটনাশক, সেচযন্ত্র ও প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি, এগুলো কৃষকের আয়ত্তের মধ্যে আছে কিনা, গুণগত মান কেমন—এ বিষয়গুলোও নিশ্চিত করতে হবে। সেচযন্ত্র, পণ্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতির বেশির ভাগ এখন আমদানি করতে হয়। এগুলোর কোনো কোনোটির দাম প্রান্তিক কৃষকের নাগালের বাইরে। প্রশ্ন রয়েছে মান নিয়েও। এসব আমলে নিয়ে বলা যায়, খাদ্যোৎপাদন বাড়লেও দেশের কৃষি ব্যবস্থাটি এখনো ভঙ্গুর। যুদ্ধবিগ্রহ আর অস্থির পৃথিবীতে খাদ্যের প্রাপ্যতা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিকূলতা লক্ষ করা যাচ্ছে, আগামীতে তা আরো তীব্র হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই টেকসই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।










