রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলবন্দি হয়ে ফরিদপুরে থাকলেও তিনি ছিলেন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রধান স্থপতি। একুশের ঘটনা স্মরণ করে জেলখানায় বসে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন: ‘মাতৃভাষা আন্দোলনে পৃথিবীতে এই প্রথম বাঙালিরাই রক্ত দিল। দুনিয়ার কোথাও ভাষা আন্দোলন করার জন্য গুলি করে হত্যা করা হয় নাই। জনাব নূরুল আমিন বুঝতে পারলেন না, আমলাতন্ত্র তাঁকে কোথায় নিয়ে গেল। গুলি হল মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের এরিয়ার ভেতরে, রাস্তায়ও নয়। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলেও গুলি না করে গ্রেফতার করলেই তো চলত। আমি ভাবলাম, দেখব কি না জানি না, তবে রক্ত যখন আমাদের ছেলেরা দিয়েছে তখন বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা না করে আর উপায় নাই।’ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’-তে এভাবেই একুশের রক্তদান এবং এই রক্তদানের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৬৬ সলের ৮ জুন বুধবার জেলবন্দি বঙ্গবন্ধু শহীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে স্রষ্টার কাছে নীরবে প্রার্থনা করেন এবং অন্তরের মণিকোঠায় নেন সুদৃঢ় সংগ্রামের শপথ।

‘কারাগারের রোজনামচায়’ বঙ্গবন্ধু লিখেছেন: ‘বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য যেভাবে এ দেশের ছাত্র-জনসাধারণ জীবন দিয়েছিল তারই বিনিময়ে বাংলা আজ পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা। রক্ত বৃথা যায় না। যারা হাসতে হাসতে জীবন দিল, আহত হলো, গ্রেফতার হলো, নির্যাতন সহ্য করল তাদের প্রতি এবং তাদের সন্তানসন্ততিদের প্রতি নীরব প্রাণের সহানুভূতি ছাড়া জেলবন্দি আমি [বঙ্গবন্ধু] আর কি দিতে পারি! আল্লাহর কাছে এই কারাগারে বসে তাদের আত্মার শান্তির জন্য হাত তুলে মোনাজাত করলাম। আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম, এদের মৃত্যু বৃথা যেতে দেব না, সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। যা কপালে আছে তাই হবে। জনগণ ত্যাগের দাম দেয়। ত্যাগের মাধ্যমেই জনগণের দাবি আদায় করতে হবে।’ এ প্রতিজ্ঞা বঙ্গবন্ধু শেষ পর্যন্ত রক্ষা করেছিলেন এবং সে কারণেই বাঙালি পেয়েছিল একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় যুবলীগের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠান এবং সেখানে ভাষাবিষয়ক একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেছিলেন তত্কালীন যুবনেতা শেখ মুজিবুর রহমান। বিশিষ্ট ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হক লিখেছেন, ‘সম্মেলনের কমিটিতে গৃহীত প্রস্তাবগুলো পাঠ করলেন সেদিনের ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান।’ সেই প্রস্তাবে ছিল: ‘পূর্ব পাকিস্তান কর্মী সম্মেলন প্রস্তাব করিতেছে যে, বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের লিখার বাহন ও আইন আদালতের ভাষা করা হউক। সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হইবে তৎসম্পর্কে আলাপ-আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার জনসাধারণের উপর ছাড়িয়া দেওয়া হউক এবং জনগণের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গৃহীত হউক।’ এ দাবি থেকেই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। কিন্তু সরকারের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’-তে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘ফেব্রুয়ারি ৮ হবে, ১৯৪৮ সাল। করাচিতে পাকিস্তান সংবিধান সভার (কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি) বৈঠক হচ্ছিল। সেখানে রাষ্ট্রভাষা কী হবে সে বিষয়ও আলোচনা চলছিল। মুসলিম লীগ নেতারা উর্দুকেই রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষপাতী। পূর্ব পাকিস্তানের অধিকাংশ লীগ সদস্যেরও সেই মত। কুমিল্লার কংগ্রেস সদস্য [তখন ‘জাতীয় কংগ্রেস’ নামে রাজনৈতিক দল ছিল; তিনি সেই দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন।] বাবু ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত দাবি করলেন বাংলা ভাষাকেও রাষ্ট্রভাষা করা হোক। কারণ পাকিস্তানের সংখ্যাগুরুর ভাষা হলো বাংলা। মুসলিম লীগ সদস্যরা কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না। আমরা দেখলাম, বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে বাংলাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার।’ মূলত ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছড়িয়ে পড়ে ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবি এবং সে সূত্রেই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে। তমদ্দুন মজলিশ ও মুসলিম ছাত্রলীগের যৌথ সভায় এ পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলের এ সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, আবুল কাসেম, রণেশ দাশগুপ্ত, অজিতকুমার গুহ প্রমুখ।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ঢাকা শহরে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ সভা, সাধারণ ধর্মঘট বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ওইদিন পূর্ববাংলায় সফল হরতাল পালিত হয় আর বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে এভাবেই প্রত্যক্ষ সংগ্রামের সূচনা ঘটে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এটাই ছিল প্রথম হরতাল। হরতালে বিক্ষোভ দেখানোর সময় সচিবালয়ের প্রথম প্রবেশদ্বার বা গেটে পিকেটিংয়ে অংশ নেন শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদ প্রমুখ, দ্বিতীয় প্রবেশদ্বারে অন্যরা। এ প্রত্যক্ষ সংগ্রাম সূচনা করতে গিয়ে পুলিশ ও শাসক দলের ভাড়াটে গুণ্ডাদের হাতে বহু আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা আহত এবং অনেক ছাত্রনেতা গ্রেফতার হন। গ্রেফতারকৃত ছাত্রনেতাদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অন্যতম। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’-তে এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ১১ মার্চ তাদের জেলে নেয়া হয়েছিল, আর ১৫ তারিখ সন্ধ্যায় মুক্তি দেয়া হয়। জেলগেট থেকে শোভাযাত্রা করে তাদের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বন্দি ছাত্রদের মুক্তি দেয়া হলেও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে এবং জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দিনই বঙ্গবন্ধু এ বিক্ষোভে শামিল হন। শুধু শামিল নয়, বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের সমাবেশে তাঁকে সভাপতিত্ব করতে হয়।

১৯৪৮ সালের ১৭ মার্চ আগের দিনের প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়। বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের আহ্বানে নঈমুদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভায়ও ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ ও বক্তব্য প্রদান করেন। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান সরকার গ্রেফতার করে বিনা বিচারে আটকে রাখে। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীও ‘একুশকে নিয়ে কিছু স্মৃতি, কিছু কথা’ প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘শেখ মুজিব ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৬ তারিখ ফরিদপুর জেলে যাওয়ার আগে ও পরে ছাত্রলীগের একাধিক নেতার কাছে চিরকুট পাঠিয়েছেন।’ এ চিরকুটে ছিল আন্দোলন সম্পর্কে দিকনির্দেশনা। এ ব্যাপারে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’-তে বঙ্গবন্ধু নিজে সব প্রকাশ করে গেছেন। আসলে ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারির পর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায় আরম্ভ হয় এবং আরম্ভকারীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের পল্টন ঘোষণার পর জেল হাসপাতালে বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল এমন: যে ঢাকায় বসে খাজা নাজিমুদ্দিন ওয়াদা করেছিলেন সেই ঢাকায় বসেই উল্টো বললেন। জেল হাসপাতালে সন্ধ্যায় মোহাম্মদ তোয়াহা ও অলি আহাদ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এলে তারাসহ বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগের আরো নেতা নিয়ে রাত ১টায় জেল হাসপাতালের গোপনীয় স্থানে সভা করেন। এ সভা করাটি ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ আইবির লোকজন, পুলিশের সদস্য, গোয়েন্দা কর্মচারীরা আর সাধারণ ডাক্তার-নার্স— এত সংস্থা ও লোকের চোখ এড়িয়ে মধ্যরাতের এ সভা আহ্বান করা একজন বন্দির জন্য স্বাভাবিক কর্ম ছিল না। বঙ্গবন্ধু সেই ঝুঁকি নিয়েছিলেন এবং সে রাতের অনানুষ্ঠানিক সভায় যে পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছিল সেই পরিকল্পনা অনুসারেই পরে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পথ সূচিত হয়েছে। এ সভা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন ,‘বারান্দায় বসে আলাপ হল এবং আমি বললাম, সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করতে। আওয়ামী লীগ নেতাদেরও খবর দিয়েছি। ছাত্রলীগই তখন ছাত্রদের মধ্যে একমাত্র জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান। ছাত্রলীগ নেতারা রাজি হলো।

অলি আহাদ ও তোয়াহা বলল, যুবলীগও রাজি হবে। আবার ষড়যন্ত্র চলছে বাংলা ভাষার দাবিকে নস্যাৎ করার। এখন প্রতিবাদ না করলে কেন্দ্রীয় আইনসভায় মুসলিম লীগ উর্দুর পক্ষে প্রস্তাব পাস করে নেবে। নাজিমুদ্দিন সাহেব উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার কথাই বলেন নাই, অনেক নতুন নতুন যুক্তিতর্ক দেখিয়েছেন। অলি আহাদ যদিও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সদস্য হয় নাই, তবুও আমাকে ব্যক্তিগতভাবে খুবই শ্রদ্ধা করত ও ভালবাসত। আরও বললাম, খবর পেয়েছি, আমাকে শীঘ্রই আবার জেলে পাঠিয়ে দিবে, কারণ আমি নাকি হাসপাতালে বসে রাজনীতি করছি। তোমরা আগামীকাল রাতেও আবার এসো। আরো দু-একজন ছাত্রলীগ নেতাকে আসতে বললাম। শওকত মিয়া ও কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মীকেও দেখা করতে বললাম। পরের দিন রাতে এক এক করে অনেকেই আসল। সেখানেই ঠিক হলো আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করা হবে এবং সভা করে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করতে হবে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের কনভেনর করতে হবে। ফেব্রুয়ারি থেকেই জনমত সৃষ্টি করা শুরু হবে। আমি [বঙ্গবন্ধু] আরও বললাম, আমিও আমার মুক্তির দাবি করে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে অনশন ধর্মঘট শুরু করব।’ বঙ্গবন্ধুর এ পরিকল্পনা অনুসারে তার সুপরিচিত কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক মনোনীত করে ৩১ জানুয়ারি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালে যে আন্দোলন শুধু ছাত্ররা করে আসছিল তাতে সর্বমহল যুক্ত হয়, এতে রাজনীতিবিদরা আসার সুযোগ পান। সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সভায় পূর্ববাংলা আইনসভার অধিবেশন আহ্বানের দিন অর্থাৎ একুশে ফেব্রুয়ারি হরতাল আহ্বান করা হয়। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে এ আন্দোলনের ডাকের প্রতি জনসমর্থন বৃদ্ধি পায় অনেক গুণে।

বঙ্গবন্ধু পরিকল্পনা অনুসারে জেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন যে তাকে বিনা বিচারে আটক রাখা হয়েছে। হয় তাকে মুক্তি দেয়া হবে, তা না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি অনশনের মাধ্যমে দেহত্যাগ করে জেলমুক্ত হবেন। এ গোপন সভার সংবাদ নিশ্চয়ই কর্তৃপক্ষের গোচরে আসে এবং সে কারণেই সম্ভবত বঙ্গবন্ধুকে ফরিদপুর জেলে দ্রুত স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা থেকে ফরিদপুরে আসার সময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের পথে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি হোটেলে আবার গোপন রাজনৈতিক বৈঠক করেন বঙ্গবন্ধু নারায়ণগঞ্জের নেতাদের সঙ্গে। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘আমরা আস্তে আস্তে খাওয়া-দাওয়া করলাম, আলাপ-আলোচনা করলাম। ভাসানী সাহেব, হক সাহেব ও অন্যান্য নেতাদের খবর দিতে বললাম। খবরের কাগজে যদি দিতে পারে চেষ্টা করব। বললাম, সাপ্তাহিক ইত্তেফাক তো আছেই। আমরা যে আগামীকাল থেকে অনশন শুরু করব, সেকথাও তাদের বললাম, যদিও তারা পূর্বেই খবর পেয়েছিল। [...] তারা আমাকে বলল, ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে নারায়ণগঞ্জে পূর্ণ হরতাল হবে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি তো আছেই, আপনাদের মুক্তির দাবিও আমরা করব।’

এভাবেই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংগঠিত ও বিভিন্ন স্থানে বিস্তারে বঙ্গবন্ধু জেলবন্দি থাকার পরও নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফরিদপুর জেলে এসে বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দিন আহমেদ পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুসারে অনশন আরম্ভ করেন এবং একুশে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা শারীরিকভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে যান। এভাবেই বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পরিকল্পনা করেন এবং জেলের ভেতরে নিজে অনশন করে অংশও নেন।

 

সৌমিত্র শেখর: অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়