(গতকালের পর)

অর্থনীতি বিভাগের বন্ধু ফিরোজ, এখন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী, বন্ধু মইন উল করিম চৌধুরী মইন, ওয়াশিংটন মেরিল্যান্ডের স্থায়ী বাসী। শরীফ থাকে যুক্তরাষ্ট্রের এলএতে। বন্ধু মইনুস সুলতান। খুব কাছের বন্ধু মোস্তফা সাফকাত আনোয়ার, সফল এবং কীর্তিমান ব্যাংকার। বহুদিন মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে দায়িত্ব পালন করে ও এখন অবসর জীবনযাপন করছে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে। কলেজজীবন থেকেই বন্ধু তাজদিক, ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে লোকপ্রশাসন বিভাগে ছিল। পরে বাংলাদেশ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মচারী হিসেবে অবসর নিয়ে এখন স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে আছে। লোকপ্রশাসন বিভাগের আরেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল সবুজ, সফল ব্যাংকার এবং বাংলাদেশের জনপ্রিয় বিউটি সেলুন ‘পার্সোনা’র অন্যতম মালিক। এ প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা এবং প্রধান হলেন সবুজের স্ত্রী কানিজ।

মনে পড়ে আশির দশকের বিটিভির জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান  ‘আইন আদালত’-এর প্রধান আর্কিটেক্ট, উপস্থাপক ও চৌকস পরিচালক বন্ধু রেজাউর রহমান রেজার কথাও। রেজা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের ছাত্র ছিল। সে এখন কানাডাপ্রবাসী, সুপরিচিত আইনজীবী।

উল্লেখিত আমাদের বন্ধুরা প্রত্যেকেই কেবল ছাত্রজীবনেই সুপরিচিত ছিল না, তাদের পেশায়ও সুনাম অর্জন করেছেন নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনে, কোথায়ও তারা পিছিয়ে নেই। উল্লেখ্য, আমাদের বন্ধুরা ছাত্রজীবনে আমরা অনেকেই শেষের বেঞ্চে বসলেও জীবনের বাস্তবতার কঠিন ময়দানে পেছনে ছিলাম না। আমাদের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের বন্ধুরা একাডেমিক সফলতা এবং অন্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মনে পড়ে, বন্ধু রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কথা, জাফর ওয়াজেদের কথাও। তাদের প্রত্যেককে নিয়েই একেকটি অধ্যায় রচনা হতে পারে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের ব্যাচের মতো কোনো চৌকস ব্যাচ ছিল কিনা জানা নেই, যারা নিজেদের নীতি-নৈতিকতা এবং পেশাগত দক্ষতায় কোথাও ব্যর্থ হয়েছে।

ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি ছাত্র সেভাবে না হলেও, আরো কয়েকজন বন্ধু ছিল আমাদের সমসাময়িক। তাদের মধ্যে খুব বেশি করে মনে পড়ে ডক্টর এম এ মোমেনের কথা। অত্যন্ত মেধাবী, স্মার্ট, পরবর্তী সময়ে দক্ষ একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। প্রায়ই আমাদের সঙ্গে আড্ডায় বসত সে। কিন্তু সে ভীষণ সময়সচেতন ছিল বলেই আমাদের অনেকের মতো ঘড়ির কাঁটার বাইরে কখনোই আড্ডা দিত না। তবু তার কিছুক্ষণের উপস্থিতি আমাদের আনন্দ দিত। অত্যন্ত সৎ এবং মেধাবী একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মচারী হিসেবে তার সুনাম আছে। দক্ষ অনুবাদক এবং গল্পকার মোমেন। সাহিত্য, গল্প, উপন্যাসের বাজারে তার আরেকটা নাম, আন্দালিব রাশদী।

আমাদের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা এবং নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ডিবেট প্রোগ্রাম, নাট্যচর্চা, সংগীত চর্চা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, ইন্টার ডিপার্টমেন্ট খেলাধুলা সবসময়ই অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে আমাদের সময় ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন শ্রদ্ধেয় ড. ফজলুল হালিম চৌধুরী স্যার। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং উৎসাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশটা ছিল অনেক অর্থেই উৎসবমুখর।

তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডাকসুর’ ভিপি ছিলেন জনপ্রিয় ছাত্রনেতা এবং বক্তা মাহমুদুর রহমান মান্না। রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চাতেও আমাদের কোনো রকম পশ্চাত্মুখী পদক্ষেপ ছিল না। আমাদের সময় চালু ছিল ‘লেখক শিবির’, ‘প্রাকসিস’। প্রগতিশীল চিন্তা এবং রাজনীতির ক্ষুদ্র ম্যাগাজিন ‘প্রাকসিস’। উদ্যোক্তা ছিল ডক্টর সলিমুল্লাহ খান। আমাদের কবিবন্ধু ও সাহিত্যিকদের একটা পত্রিকা বের হতো ‘রাখাল’ নামে। আমি কবি, সাহিত্যিক বা গল্পকার না হলেও এ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সংগীতে তখন আমাদের বন্ধু মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না, আমাদের একটু সিনিয়র বন্ধু, পরে সে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হন, লিয়াকত আলী লাকি, অসাধারণ জনপ্রিয় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতির সংগীতাঙ্গনেও।

১৯৭৭-৭৮ সালের কথা। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ হলের অনাবাসিক ছাত্র। কিছু একটা কাজে হলে গিয়েছিলাম। হল অফিসের কাছে নোটিস বোর্ডে লাগানো একটা লেখার দিকে দৃষ্টি গিয়ে পড়ল। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে এসএম হল থেকে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে। এ নির্বাচনে হলের অনাবাসিক এবং আবাসিক ছাত্রদের মধ্যেও বিতর্ক প্রতিযোগিতা হবে। সে অনুষ্ঠানে যারা বিজয়ী হবেন তাদের হল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ টেলিভিশনের জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এসএম হলের পক্ষে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন দেবে।

ঘোষণাটি পড়ে খুব খুশি হলাম, সিদ্ধান্ত নিলাম এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করব। তখনই অফিসে নাম দিয়ে এলাম। বলা হলো, আমি এ হলের যেহেতু অনাবাসিক ছাত্র, তাই আমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে পরে। জিজ্ঞেস করলাম, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন কারা। জানানো হলো, সিদ্ধান্ত দেবেন প্রভোস্ট স্যার। তখন হলের প্রভোস্ট ছিলেন ড. ইয়াজউদ্দিন স্যার। তিনি পরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও ছিলেন।

এর বেশ কিছুদিন পর হলে গিয়ে জানতে চাইলাম, আমার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা! অফিস কর্মকর্তা জানালেন, পরের সপ্তাহে একটা প্রাথমিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা হবে হলের আবাসিক ছাত্রদের এবং অনাবাসিক ছাত্রদের মধ্যে। সে প্রতিযোগিতায় যদি উত্তীর্ণ হতে পারি তাহলে মূল প্রতিযোগিতায় আমাকে ডাকা হবে। রাজি হয়ে গেলাম। নির্দিষ্ট দিন-তারিখে হলের আবাসিক ছাত্র এবং অনাবাসিক ছাত্রদের মধ্যে একটা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হলো। যেটুকু মনে পড়ে, অনাবাসিক ছাত্রদের মধ্যে কেবল আমি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। বিচারকের চেয়ারে ছিলেন হলের কয়েকজন হাউজ টিউটর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন স্যার। কামরুদ্দিন স্যার ছিলেন সম্ভবত। বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘নির্দিষ্ট শিক্ষা, না স্বশিক্ষাই জ্ঞান অর্জনে সহায়ক’। বিতর্কের বিষয়বস্তুটা দেখেই মনে হলো এ কথাটার মধ্যে একটা ফাঁক আছে। ওই মুহূর্তে মনে মনে প্রস্তুত হয়ে গেলাম প্রস্তাবের বিপক্ষে বলব। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাকে শেষ মুহূর্তে এ প্রস্তাবের পক্ষে কথা বলার জন্য বলেন।

যথারীতি সেভাবেই প্রস্তাবের পক্ষেই বললাম এবং প্রতিযোগিতায় প্রথম হলাম। মনে আছে পরের দিন হলের প্রভোস্ট ডক্টর ইয়াজউদ্দিন স্যার, আমাকে তার অফিসে দেখা করতে বলেন। স্যারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে স্যার জিজ্ঞেস করলেন, আমি এ হলের আবাসিক ছাত্র কিনা। বললাম, না স্যার, আমি আবাসিক ছাত্র না। জানি না সেদিন কেন স্যার আমাকে এসএম হলের আবাসিক ছাত্র করে নেয়ার নির্দেশ দিলেন। হলের ৯৯ নম্বরের রুমটা আমার জন্য বরাদ্দ হলো। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র প্রথম বর্ষের ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলে প্রথম বছরে কোনো অনাবাসিক ছাত্রের আবাসিক ছাত্র হওয়ার ঘটনা কিন্তু বিরল। আমি সে সম্মান অর্জন করলাম। স্যার বললেন, তুমি আমাদের এসএম হলকে প্রতিনিধিত্ব করবে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে। আমি তোমার নাম সিলেক্ট করে দিলাম। খুশিতে স্যারকে পায়ে ধরে সালাম করলাম। স্যার বুকে জড়িয়ে নিলেন, মনে আছে। সেই শুরু আমার এসএম হলে নিয়মিত এবং অনিয়মিতভাবে থাকা।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে ১৯৭৭ সালে শুরু হয় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার জনপ্রিয় অনুষ্ঠানটি। এ অনুষ্ঠানের প্রযোজক ছিলেন তখন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বেলাল বেগ। এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রথম দিকে আমাদের দলনেতা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এখনকার অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক এমএম আকাশ। সঙ্গে ছিল এখন বাহরাইনের অধিবাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তুখোড় ছাত্র ডক্টর ওমর ফারুক। ফারুক ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে আমার এক বছরের জুনিয়র ছিল। আমি, ফারুক এবং আকাশ ভাই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলকে প্রতিনিধিত্ব করি বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ১৯৭৭ সালে।

সম্মানের সঙ্গেই সে প্রতিযোগিতায় আমরা রানার্সআপ হই এবং বক্তা হিসেবে আকাশ ভাই শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন। এর পরের বছরগুলোয় যারা আমাদের টিমে ছিল, তাদের মধ্যে ড. সিনহা এমএ সাঈদের কথা বেশি মনে পড়ে। আমি দু-তিনবার এ দলে ছিলাম প্রতিযোগিতায় ‘প্রথম বক্তা’ হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু বিতর্ক প্রতিযোগিতায়ও অংশগ্রহণ করেছি বেশ ক’বার এবং পুরস্কার পেয়েছি।

বির্তকের বাইরেও উপস্থিত গল্প বলা, কবিতা-আবৃত্তি এবং কিছু নাট্যচর্চায়ও অংশগ্রহণ করতাম। ‘আমি গাধা বলছি’ ওই সময় এ নাটকটা বেশ জনপ্রিয় ছিল আমাদের মধ্যে। নাটকটা পরিচালনা ও নির্দেশনা দিতেন মুজিবুর রহমান দিলু। দিলু ভাই পরে ঢাকার পূর্বাণী হোটেলের বেভারেজ সেকসনের ম্যানেজার ছিলেন। দিলু ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র। সম্ভবত আমাদের দু-তিন বছরের সিনিয়র হবেন। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় আজিমপুর থেকে। দিলু ভাইয়ের আরেক বড় ভাই বাংলাদেশের নাট্যজগতে একজন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান। সম্প্রতিই দিলু ভাই আমাদের ছেড়ে চলেও গেছেন।

সমাজবিজ্ঞানে আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধা এবং প্রিয় শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন ডক্টর রঙ্গলাল সেন, ডক্টর আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, প্রফেসর আফসার উদ্দিন, প্রফেসর সাদুদ্দিন, কামরুল হাসান চৌধুরী, মাহমুদা আপা ও নাইমা আপা। বাইরে থেকে যখন দেশে যেতাম, আমার অনেক স্বভাবের মধ্যে একটা ছিল অন্তত একবার হলেও ইউনিভার্সিটিতে আমাদের সমাজবিজ্ঞান ফ্যাকাল্টিতে যাওয়া এবং স্যারদের সঙ্গে দেখা করা।

একবার গিয়ে দেখি সব স্যারের রুমে তালা দেয়া, একটা রুমে ড. রঙ্গলাল সেন তার টিউটোরিয়াল ক্লাস নিচ্ছেন। আমি দরজায় নক করে স্যারের রুমে প্রবেশ করি। অনেক বছরের ব্যবধানে স্যার ঠিক চিনতে পারছিলেন না। আমি স্যারকে পায়ে ধরে সালাম করে বললাম, স্যার আমি আপনার ছাত্র, ১৯৭৬ ব্যাচের। স্যার আমাকে তখন চিনতে পারলেন এবং তার সামনে বসা অন্য ছাত্র-ছাত্রীদের আমাকে দেখিয়ে বললেন, দেখো আমার এ ছাত্র তোমাদের অনেক বছর আগে এ বিভাগেরই ছাত্র ছিল। তোমরা দেখলে আজ ও আমাকে পায়ে ধরে সালাম করল। এটাই আমাদের কৃষ্টি। শিক্ষক বা গুরুজনকে সম্মানের প্রথা তোমরা এখন ভুলে গেছো। স্যারের এ কথা শুনে আমি সেদিন আমার চোখের পানি আটকাতে পারিনি। কথাটা মনে হলে এখনো আমার চোখে পানি আসে। আমাদের সময় ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটা এমনই ছিল।

আমার সহপাঠী ও বন্ধু মিহির কিছুদিন আগে আমাকে লিখেছে, সেও হলে থাকত। হলে থাকা অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের অভিজ্ঞতা সব হলে এক রকম ছিল না। তবে মিহিরের যে কথাটা উল্লেখ না করে পারছি না, সে লিখেছে পরীক্ষার আগে তখন ওদের হলের প্রভোস্ট এবং হাউস টিউটরদের পায়ে ধরে সালাম করার একটা প্র্যাকটিস ছিল তখনো। এটাও একটা দৃষ্টান্ত আমাদের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের কেমন ছিল ছিল।

আমাদের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় এবং রাজনৈতিক চিত্রপটে কেমন ছিল। অনেকেই হয়তো বিষয়টা মনে রাখিনি। তবে এখন মনে পড়ে। রাজনৈতিকভাবে তখন ১৯৭৬-৮১। আমরা একটা দারুণ ক্রান্তিলগ্ন অতিক্রম করছিলাম। আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করি, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা এক অর্থে অস্থির ছিল। কারণ তার কয়েক মাস আগেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং অন্যতম স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আবার আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে বের হব, ঠিক ওই সময় বাংলাদেশের আরেক রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জেনারেল জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একইভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

এ দুটি হত্যাকাণ্ডই ঘটেছিল ভোররাতের দিকে। মনে আছে, ৩০ এপ্রিল, ১৯৮১ সকাল বেলা আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসে ছিলাম। হঠাৎ শুনি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে। রাষ্ট্র ও সমাজ তখন আরেকটা ক্রান্তিকালের মধ্যে পড়ে। [চলবে]

 

মাহমুদ রেজা চৌধুরী: সমাজ ও রাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র (১৯৭৬-৮১)