বর্তমান সরকার চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসীন। গত ১৫ বছর একই সরকারের ধারাবাহিকতা থাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে সে কথা উল্লেখ বাহুল্যমাত্র। কিন্তু অন্য অনেক ক্ষেত্রের চেয়ে সংস্কৃতির চর্চা, বিস্তার ও সুরক্ষায় সরকারের দৃশ্যমান পরিকল্পনার চিত্র অনুপস্থিত। কাজেই সংস্কৃতির উন্নয়ন বহুমাত্রিকভাবেই দুর্বল! দীর্ঘ ১৫ বছরেও একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল কিংবা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন থাকা আওয়ামী লীগ এ দেশের সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে ঘনিষ্ঠদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে যথাযথ ভূমিকা পালনে সক্রিয় হতে পারেনি। অর্থাৎ সংস্কৃতিচর্চার জন্য যে উৎসাহ, উদ্দীপনা, আর্থিক এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রণোদনা দরকার তা বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে গত ১৫ বছরে পর্যায়ক্রমিক ও বিস্তৃতভাবে দৃশ্যমান হয়নি। তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলায় তরুণ ও কিশোরদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ভয়ংকরভাবে দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংস্কৃতিচর্চার অভাব অনুভূত হওয়ায় দেশব্যাপী আলোচনার টেবিলে ঝড় উঠেছে! হাজার বছরের ভূমিজ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় নতুন প্রজন্ম বিপথগামী হচ্ছে—এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে সংস্কৃতির মানোন্নয়নসহ সংস্কৃতিচর্চার পক্ষে উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং আর্থিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রণোদনা দানের প্রতিশ্রুতিনির্ভর আলোচনা গণমাধ্যমকে জর্জরিত করেছিল। একটু পেছনে তাকিয়ে হোলি আর্টিজান ও শোলাকিয়াসহ বিভিন্ন জঙ্গি হামলার স্মৃতিচারণে এ সত্য উপলব্ধি সম্ভব। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের ফলে জঙ্গি কর্মকাণ্ড সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণে আসায় সংস্কৃতিচর্চার প্রতি পূর্বোক্ত গুরুত্ব কেউ আর অনুভব করে না। গণমাধ্যম তোলপাড় করা যাবতীয় প্রতিশ্রুতিও ‘অদ্ভুত আঁধারে’ মিশে গেছে! দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির চর্চা, সুরক্ষা ও প্রসারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জাতীয় সংস্কৃতিচর্চায় সরকারের মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন। বলার অপেক্ষা রাখে না, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং পরিকল্পিত আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমেই সংস্কৃতিচর্চা ও সুরক্ষায় প্রাণ সঞ্চার সম্ভব। 

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভাবাদর্শ বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রভৃতি। পাশাপাশি ‘উদারনীতি’কে দলটি সমসাময়িক ভাবাদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে। বর্ণিত ঐতিহ্যগত ভাবাদর্শের অন্তত দুটি প্রত্যয়ের সঙ্গে (বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা) এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আচরিত সংস্কার-সংস্কৃতির গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। আর এ কারণেই সংস্কৃতিপ্রেমী দেশবাসী রাজনৈতিক দল কিংবা সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে দীর্ঘতর প্রত্যাশায় উন্মুখ ছিল। কিন্তু গত ১৫ বছরেও সংস্কৃতিপ্রেমী ও সংস্কৃতি কর্মীদের সন্তুষ্ট করা হয়নি। 

রাজনৈতিক যত বিতর্কই থাকুক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের অভাবিত সাফল্য দৃশ্যমান। তা সত্ত্বেও বর্তমান আলোচনায় স্পষ্ট যে, একটি প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে প্রণোদনা বা উৎসাহ প্রয়োজন ছিল তা আদর্শগত নৈকট্যের এ সরকারের কাছে পাওয়া যায়নি। ফলে বাঙালির সাংস্কৃতিক বিনির্মাণে যেমন একটা ফাঁক থেকে গেছে তেমনি দীর্ঘমেয়াদে জাতীয়ভাবে পরিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ধারণা সংবলিত সাংস্কৃতিক চেতনাসম্পন্ন মানস গঠনেও বিস্তর ফাঁক নিয়ে একটি প্রজন্মের বিকাশ ঘটছে! বর্তমানে যে প্রজন্মের বয়স ২০ বা ২২ তারাও সেই ফাঁক তথা অস্পষ্ট সাংস্কৃতিক আবহের মধ্য দিয়ে জীবনের যোগফলই কেবল বড় করে তুলেছে! বলার অপেক্ষা রাখে না, এ ফাঁক প্রগতিশীল মননচর্চার ভিত্তিকেও দুর্বল করছে। এ কথা সত্য, ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ইসলামিক রীতিনীতির বিস্তার ও বিকাশ ঘটবেই। তাই বলে আমরা আমাদের হাজার বছরের জাতীয়তাবোধ ও বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনাকে অবহেলা করতে পারি না, আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকেও আড়াল করতে পারি না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি গোষ্ঠীর অপতৎপরতায় দেশে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাই ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের মানস গঠনে মৌলবাদী চিন্তা ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবই যেন আজ বেশি স্পষ্ট। এসবেরই বিস্তৃত রূপ জঙ্গিবাদ। 

জঙ্গিবাদের উত্থান ও আক্রমণ লক্ষ করলে কেবল তখনই আমরা সাংস্কৃতিক জাগরণের কথা বলি। প্রতিশ্রুতিনির্ভর বাহাসে গণমাধ্যম গরম করে ফেলি! কার্যত বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রচার-প্রসার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কোনো পরিকল্পনাই দেখি না। আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে আমরা তেমন প্রবল কোনো সাংস্কৃতিক আদর্শ স্থাপন করি না বলেই কিছুদিন আগেও গণমাধ্যমে তরুণদের ‘হিজরত’-এর সংবাদ দেখেছি। সেই সঙ্গে দেখেছি হিজরতকারীদের পাকড়াও করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বাত্মক চেষ্টাও! আমাদের সন্তানরা পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও ভিন্নতর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের জীবন পণ করে আত্মঘাতী সন্ত্রাসের পথে চলে যাচ্ছে? তরুণরা সমাজ ও পরিবার থেকে কেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে? তাদের এ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পেছনে আসলে কী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সক্রিয়? অনেক সময় বলা হয়, নতুন প্রজন্মের সামনে উচ্চতর কোনো আদর্শ নেই, নেই সাংস্কৃতিক চেতনাবোধের প্রতি কোনো মমত্ববোধও। তরুণদের সম্মুখে একদিকে সাংস্কৃতিক শূন্যতা, অন্যদিকে মৃত্যুর পর অন্তহীন ভোগবিলাসের দীর্ঘ দৃশ্যপটের রোমান্টিক আবেদন—এসবই তাদের সহিংস করে তুলছে। 

বলতে দ্বিধা নেই, সংস্কৃতিচর্চায় আমাদের দীর্ঘ নিদ্রা তরুণদের শিকড়হীন ও জঙ্গিবাদে উৎসাহী করছে। সামাজিক নানা ঘটনা, মুক্তবাজার আর্থসংস্কৃতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির চিত্তাকর্ষক উপকরণের মধ্যে মধ্যবিত্ত আজ দীর্ঘ নিদ্রায় বিভোর! কোনো সমাজের মধ্যবিত্ত যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন তার ঘরে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে চোর। তারা মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে! ওপরে বর্ণিত হিজরত-সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী গ্রেফতারের ঘটনাগুলো তরুণ প্রজন্মের সাংস্কৃতিক বিচ্যুতিকেই প্রকট করে। প্রসঙ্গত স্বীকার করতে হবে, স্থানিক এবং বৈশ্বিক বহুমুখী প্রবঞ্চনায় বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত কিছুটা দিকভ্রান্ত ও বিভ্রান্ত। এ বিভ্রান্তির ফাঁকেই আমাদের তরুণরা ভিন্নতর আদর্শে দীক্ষা নিচ্ছে, নিজস্ব সংস্কৃতির শিকড় ছিন্ন করে তারা হয়ে উঠেছে আত্মঘাতী! ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ তাদের আশ্রয় ও তৃষ্ণা মেটাতে পারছে না! তারা বাঙালির শাশ্বত আদর্শের চেয়ে শ্রেয়তর মনে করে পরাশ্রয়ী আদর্শ। যে আদর্শের সঙ্গে বাঙালির আবহমানকালের সংস্কার-সংস্কৃতি এমনকি দার্শনিক কোনো সাযুজ্য নেই! এরাই ধীরগতির বিষক্রিয়ায় বাঙালির আবহমান সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে নিস্তেজ ও নিষ্ক্রিয় করে দিচ্ছে। বিনষ্ট করছে বাঙালির সহস্রবর্ষের সাংস্কৃতিক যাবতীয় কৃত্যাচার।

প্রিয় সন্তান হারিয়ে, উজ্জ্বল স্বপ্ন হারিয়ে, ঐতিহ্যিক সব স্মারক ও সাংস্কৃতিক চেতনা হারিয়ে এ মধ্যবিত্তই আজ তরুণদের উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শিক্ষায়ও শিক্ষিত করে তোলার অনিবার্যতা প্রকাশ করছে। মধ্যবিত্তই অনুভব করছে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কার-সংস্কৃতি এবং প্রকৃত ধর্ম-দর্শন সম্পর্কে বাঙালির শাশ্বত অনুরাগ। তাই তারা স্কুল-কলেজ থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বোধ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াসের ওপর জোর দেন, সংস্কৃতিচর্চায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করেন। দেখা গিয়েছিল, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল-পড়ুয়া, নামি-দামি বেসরকারি কিংবা বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের জঙ্গিবাদী আদর্শে দীক্ষা গ্রহণের পেছনে লব্ধ শিক্ষার সঙ্গে সাংস্কৃতিক চেতনাবোধের অভাব ছিল। জঙ্গিদের ত্রাস সৃষ্টি মাত্রা দেখে এ ধরনের পরামর্শও এসেছিল, সাংস্কৃতিক চর্চার পরিধি স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্তৃত করতে হবে।

সরকারি বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সংস্কৃতিচর্চায়ও ‘সরকারি ধরন’ দেখা যায়। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ থাকার কথা। এ দেশে স্বৈরশাসনামলেও সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ কার্যকর ছিল। সে সময় ছাত্র সংসদের ভেতর থেকেই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনও সম্ভব হয়েছিল। পৃথিবীর সর্বত্রই রাজনৈতিক আন্দোলনকে পুষ্টি জুগিয়েছে সাংস্কৃতিক আন্দোলন। স্বৈরতন্ত্রের অবসানের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই কেন্দ্রীয় সংসদ কার্যকর হতে পারেনি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংস্কৃতিচর্চা খাঁচায় বন্দি পাখির মতোই! বলার অপেক্ষা রাখে না, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্যিক সংস্কৃতির ব্যবধান বিস্তর। 

সংস্কৃতিচর্চার ধারা সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে মধ্যবিত্তকেই সোচ্চার হতে হবে। মনে রাখতে হবে, দেশে সংস্কৃতিচর্চার অবকাশ কম এবং দিন দিন তা কেবলই হ্রাস পাচ্ছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি এ ভূখণ্ডে বসবাসকারী বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতিচর্চার প্রতিও সরকারের মনোযোগ প্রয়োজন। নিরাপত্তার প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ায় বিগত কয়েক বছর ধরে বাঙালির নববর্ষসহ অন্যান্য কিছু উৎসবে আমরা সংস্কৃতিচর্চার ওপর সরকারের নেতিবাচক হস্তক্ষেপ দেখে আসছি। বর্তমান সরকারের কাছে যা কোনোভাবেই দেশবাসীর কাম্য নয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি মধ্যবিত্তেরই অবিসংবাদিত নেতা। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ এবং অসাম্প্রদায়িক একটি রাষ্ট্র গঠনে শিল্প-সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব উপলব্ধি করেই সদ্যস্বাধীন দেশে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান সরকারের টানা তিন মেয়াদে নানা খাতে প্রভূত উন্নয়ন হলেও দেশব্যাপী বিস্তৃত শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে আশানুরূপ কার্যকর দেখা যায়নি। রাষ্ট্রের সব উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়েই দেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়নকেও ত্বরান্বিত করতে হবে। বাঙালির হাজার বছরের শাশ্বত সংস্কৃতির চর্চা, বিকাশ ও সুরক্ষায় আমরা আওয়ামী লীগের কাছে সাধারণ মানুষ যে প্রত্যাশা করে আর কোনো রাজনৈতিক দলের কাছেই করে না। 

আমাদের প্রত্যাশা ছিল, দেশের ৬৪টি জেলার শিল্পকলা একাডেমিসহ উপজেলা পর্যায়ের শিল্পকলা একাডেমিগুলো সংস্কৃতিচর্চায় প্রাণচাঞ্চল্য লাভ করবে। সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম অসাম্প্রদায়িক মানসিকতায় মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। সংস্কৃতির চর্চা ও সুরক্ষায় রাষ্ট্রেরই মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন এবং আর্থিক প্রণোদনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের যে আকার তা অন্য সব মন্ত্রণালয়ের চেয়ে ক্ষুদ্র! এর আকার-আয়তন বাড়াতে হবে। সংস্কৃতি বিষয়ক স্বতন্ত্র ক্যাডার পদ সৃষ্টি ও পদায়নের মাধ্যমে দেশের শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে ‘স্মার্ট’ করে গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, নিজস্ব সংস্কৃতি ছাড়া কোনো জাতিই বিশ্বে তার স্বতন্ত্র আত্মপরিচয় প্রকাশে সক্ষম হয়নি। আরো মনে রাখতে হবে, জাতীয় সংস্কৃতির উন্নয়ন সম্ভব না হলে অন্যান্য অর্জন তথা অবকাঠামোগত সব উন্নয়নই অর্থহীন হয়ে পড়বে। মানবিক মননশীল ও সুসংস্কৃত মানুষ না থাকলে সব উন্নয়নের অর্থ দাঁড়াবে ‘ইটের পর ইট, মধ্যে মানুষ কীট’!

ড. আহমেদ আমিনুল ইসলাম: অধ্যাপক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়