২০১৮ সালের ২৯ জুলাই ঢাকায় দুই বাসের বেপরোয়া প্রতিযোগিতার কারণে দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর ৮ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশজুড়ে চলছিল স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন বাংলাদেশে এর আগে শিক্ষার্থীদের মতো এমন আলোড়ন কেউ তৈরি করতে পারেনি। শিশু-কিশোররা দেখিয়ে দিয়েছে সড়কে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কীভাবে আন্দোলন করতে হয়, কীভাবে রাজপথে নেমে ট্রাফিক পরিচালনা করতে হয়। সেই ফলপ্রসু আন্দোলনের পর পরই সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সে আইনের ৮৪, ৮৫ এবং ১০৫ নং ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। সরকার মালিক সমিতির অব্যাহত চাপের মুখে দাবি মানতে বাধ্য হয়েছে।
বাস মালিক সমিতি এবং জনগণ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। জনগণের যেমন প্রয়োজনে পরিবহন সুবিধা গ্রহণ করতে হয়, তেমনি বাসমালিকদের প্রয়োজন সেবার বিনিময়ে আয়-রোজগার করা। তাই সড়ক পরিবহনে নৈরাজ্য কমাতে উভয়েরই সহযোগিতার বিশেষ প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকারও এ নৈরাজ্য হ্রাসের প্রথম ও প্রধান অংশীদার। পরিবহন চালক এবং জনগণ উভয়ের সুবিধার্থে সরকার বিভিন্ন কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নেয়। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও প্রকল্প কখনো মন্থর আবার কখনো দ্রুতগতিতে শেষ হয়ে যায়। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের খাতায় অনেক সময় রাজধানী ও শিল্পোন্নত নগরীর বাইরে অনুন্নত জেলার পরিবহন যোগাযোগের উন্নয়ন প্রকল্প লেখা হয় না। অনেক সময় লেখা হলেও বাস্তবায়নে থেকে যায় নানা ত্রুটি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। দেখা যায় একই সড়ক বারবার সংস্কার করার পরও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পরবর্তী বছরের জন্য কিছু কাজ রেখে যায়। ফলে জনগণের ভোগান্তি বরাবরের মতো অবশিষ্ট থেকেই যায়।
এদিকে শহরে অপরিকল্পিত ফ্লাইওভার নির্মাণের ফলে যানজট নিরসনের বদলে অনেক ক্ষেত্রে এ সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। অসুস্থ রোগী তীব্র যানজটের করাল গ্রাসে সড়কেই প্রাণ হারাচ্ছে, পরীক্ষার্থী সঠিক সময়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে পারছে না, অফিসের কর্মকর্তারা পড়ছে মহাবিপদে, যা জনজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সড়কে যানজটের বিশৃঙ্খলা ও মৃত্যুহারের পশ্চাতে যে বিষয়গুলো লক্ষণীয় তা হলো, অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা, হেলমেট না থাকা, সিটবেল্ট না বাঁধা, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, হেল্পারকে দিয়ে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, লাইসেন্সবিহীন মোটরযান চালানো, যানবাহনে যান্ত্রিক ত্রুটি, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালপত্রবোঝাই, বেপরোয়া গতি, সড়ক নির্মাণে ত্রুটি, যথাযথ ট্রাফিক আইন প্রয়োগ না করা প্রভৃতি।
মো. তারেকুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়










