২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর। শফিউল আলম তার বন্ধু রুবাইয়াত হোসেন ও রুহুল আমিনকে নিয়ে ফেসবুকে পেজ খুলে অনলাইনে দই বিক্রি শুরু করেন। নাম দেন ‘গোয়ালা’। এ ব্যবসার ধারণা মাথায় এসেছিল নিজের সন্তানের জন্য নিরাপদ খাবার খুঁজতে গিয়ে। শফিউলের বাড়ি বগুড়ায়। এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে দই বিক্রির চিন্তা করেন তিনি। বগুড়ায় দইয়ের জনপ্রিয়তার কথা জানতেন। কিন্তু বাজারে খাঁটি বগুড়ার দই খুঁজে পাওয়া কঠিন। এ চিন্তা থেকেই ঢাকার পান্থপথে ছোট একটি ঘর থেকে গোয়ালার যাত্রা শুরু। সেই থেকে গোয়ালার নাম এখন বেশ পরিচিত।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়া শেষ করার পর শফিউল আলম পেশাজীবন শুরু করেন ফ্রিল্যান্সিং দিয়ে। শুরুতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নিজের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছিলেন। পরে নিজের সব ধ্যান-জ্ঞান দিয়ে শুরু করেন গোয়ালা।

গোয়ালা মূলত একটি অনলাইন প্লাটফর্ম। তারা দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য ই-কমার্স বা অনলাইন সেবার মাধ্যমে ক্রেতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি এসব পণ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরিতে কাজ করছে। শুরুর মাত্র ছয় মাসেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে গোয়ালার ফেসবুক পেজ। জনপ্রিয়তা পাওয়ায় শেরপুরের একটি দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে দই বিক্রি শুরু করেন। দইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় ঘি। কিছুদিন পরে দুধের চাহিদাও আসতে শুরু করে। ২০১৭ সালে খাঁটি দুধ বিক্রি শুরু করে গোয়ালা।

একসময় নিরাপদ খাবারের পাশাপাশি দইয়ের ঐতিহ্য ও স্বাদ অক্ষুণ্ন রেখে মানসম্মত প্যাকেজিংয়ের বিষয়টি মাথায় আসে শফিউলের। মিষ্টির পাশাপাশি সবাই যাতে দইকে উপহার হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন, সে লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকেন। সাফল্য আসে।

গোয়ালায় দুগ্ধজাত পণ্যের মধ্যে এখন আছে সরা দই, কাপ দই, ক্ষীরশা। এর পাশাপাশি ঘি, সন্দেশ, রসমালাইও বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। সরিষার তেলও পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন করতে শুরু করেছে।