ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম সংক্ষেপে আইবিএস। এটি অন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের একটি সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, ১৫-২০ শতাংশ মানুষের এ সমস্যা হয়ে থাকে। আইবিএসের কারণে একদিকে মানুষ দীর্ঘ আমাশয় সমস্যায় ভোগে, অন্যদিকে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগেও ভুগতে থাকে। ফলে আইবিএসের লক্ষণ শনাক্ত করা রোগী এবং চিকিৎসক উভয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়ায়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের এ সমস্যা বেশি দেখা দেয়।

আইবিএসের সমস্যা হলে সাধারণত পেটে ব্যথা হয়, পেট ফেঁপে থাকে, অ্যাসিডিটি হয়, পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দেয় (কখনো পাতলা কখনো শক্ত), মাথাব্যথা হয়। তবে সবগুলো লক্ষণই যে সবসময় দেখা দেবে, এমনটি নয়। এ সমস্যাগুলো অন্য কোনো কারণেও হতে পারে। কিন্তু সাধারণত উপরের লক্ষণগুলোর কারণে আইবিসের সমস্যা হয়ে থাকে বলে ধরে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা মনে করেন, ব্রেন এবং অন্ত্রের মধ্যকার সমস্যার কারণে মানুষ ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে ভুগতে থাকে।

প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী, যাদের আমাশয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যপ্রধান আইবিসের সমস্যা রয়েছে; তাদের লোপেরামাইড, অ্যামিট্রিপটাইলিন, অ্যান্টিবায়োটিক রিফ্যাক্সামিনের মতো ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। আর পেটব্যথার সমস্যায় অ্যান্টি-স্পাম মেডিসিন অথবা রিলাক্সেশনের ওষুধ দেয়া হয়। কারণ দুশ্চিন্তার কারণে এ সমস্যা বেশি হয় বলে চিকিৎসকরা মনে করেন। কিন্তু প্রাকৃতিক উপায়ে আইবিএস রোগ নিরাময় করা সম্ভব। জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। খাবার গ্রহণে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। কী খাচ্ছেন আর কী খেতে হবে, তা মাথায় রাখতে হবে। যেসব খাবার খেলে আইবিএসের সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেসব খাবার পরিহার করতে হবে।