ইউরোপে নিরাপত্তা উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার ধারাবাহিক ড্রোন হামলা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের মত ঘটনাগুলো এ উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে সুইডেনসহ একাধিক দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করেছে। সুইডেনের রাজনীতিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টিও এখন গুরুত্ব দেয়া উচিত। খবর ডেইলি মেইল।

সম্প্রতি কোপেনহেগেনসহ ডেনমার্কের আরো কয়েকটি বিমানবন্দরে ড্রোনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব বিমানবন্দরে একাধিকবার উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে।

এ ঘটনাগুলোকে একটি সমন্বিত ‘হাইব্রিড হামলা’ উল্লেখ করে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য প্রধান হুমকি রাশিয়া।

অন্যদিকে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব ড্রোন অত্যন্ত পেশাদারভাবে পরিচালিত হয়েছে। এগুলো একই সময়ে একাধিক স্থানে দেখা গেছে, যা পরিকল্পিত হামলার-ই ইঙ্গিত দেয়।

এছাড়া ড্রোনগুলোকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির ওপর দিয়েও উড়তে দেখা গেছে। এর ফলে তদন্ত আরো জোরদার করা হয়েছে।

সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা জিমি আকেসন বলেন, সুইডেনের এক সময় পারমাণবিক প্রযুক্তিতে অনেক দক্ষতা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল ভিন্ন। এখন সবকিছুই আলোচনার টেবিলে থাকা উচিত।

এ মতামতকে সমর্থন করেছেন সুইডিশ প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থার গবেষক রবার্ট ডালসজো। তিনি বলেন, এখন আমাদের স্বাধীন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে ন্যাটো ও মিত্র দেশগুলো বাল্টিক অঞ্চলে নজরদারি বাড়িয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নও ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ডেনমার্ক এরই মধ্যে নতুন ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধ প্রযুক্তি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন হামলা প্রতিহত করা যায়।