পর্যটনের জন্য বিখ্যাত গ্রিসের রোডস দ্বীপের বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাঁচদিন ধরে দ্বীপটি জ্বলতে থাকায় শনিবার হাজার হাজার মানুষ গ্রাম ছেড়ে স্থল ও সমুদ্রপথে পালাতে বাধ্য হয়েছে। খবর রয়টার্স।
কোস্টগার্ডের মুখপাত্র নিকোস অ্যালেক্সিউ স্কাই টেলিভিশনে বলেছেন, দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের কিওটারি ও লারডোস এলাকার নিকটবর্তী সমুদ্রসৈকত থেকে কোস্টগার্ডের জাহাজ এবং ৩০টিরও বেশি ব্যক্তিগত নৌকা পর্যটকসহ কমপক্ষে দুই হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে। কিওটারি ও গেন্নাদির সমুদ্রসৈকত থেকে প্লিমমিরির দিকের আরো প্রায় ৬০০ মানুষকে সরিয়ে নেয়ার অভিযান চলছে।
গ্রিসে সর্বশেষ দাবদাহ এমন সময় এল যখন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে জটিলতায় পড়েছে ভ্রমণে আসা মানুষ। দেশটির ফায়ার সার্ভিস জানায়, সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে তারা। এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহের মধ্যে এখন প্রচণ্ড বাতাসসহ দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে দ্বীপটি। দেশটির জলবায়ু সংকট ও নাগরিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এখন পর্যন্ত কেউ আহত হয়নি। ফায়ার ব্রিগেডের মুখপাত্র ভ্যাসিলিস ভাথ্রাকোগিয়ানিস বলেছেন, পেফকি, লিন্ডোস ও কালাথোস গ্রামের দিকে আগুন ধেয়ে আসায় কর্তৃপক্ষ অন্তত এক হাজার লোককে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এয়ার ওয়াটার বিমান দিয়ে স্লোভাকিয়ার দমকল কর্মীরা নতুন এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে লড়াই করছেন। তবে প্রবল বাতাসের কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে।
গ্রিক টেলিভিশন ভ্রমণে এসে দাবানলে আটকে পড়াদের উদ্ধার অভিযান দেখিয়েছে। যাতে দেখা গেছে, লাগেজ হাতে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া পর্যটকদের দীর্ঘ সারি। তাদের ঠিক পেছনেই আগুনের ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছিল। রোডসের ডেপুটি মেয়র কনস্টান্টিনোস তারাসলিয়াস ওপেন টিভিকে বলেন, ‘আমরা গত রাতে লায়ারমা গ্রামের চারপাশে ফায়ারব্রেক (আগুন নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) স্থাপন করেছি। কিন্তু আজ সকালে বাতাসের গতির ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তনের ফলে আগুনের তীব্রতা কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। দাবানল এখন একটি পর্যটন এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।’
তারাসলিয়াস বলেছেন, যাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে তাদের একটি ইনডোর স্টেডিয়ামে ও রোডস দ্বীপের হোটেলে রাখা হচ্ছে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তিনটি যাত্রীবাহী ফেরিও রাতে পর্যটকদের বহন করবে। ম্প্রতি পাহাড়ি এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার ঘন জঙ্গলটি পুড়ে গেছে। এথেন্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার কিওটারির সমুদ্র-তীরবর্তী গ্রামের অন্তত তিনটি হোটেল আগুনে পুড়ে গেছে। নাগরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, গ্রিসজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (১১৩ ফারেনহাইটে) পৌঁছার আশঙ্কা করা হয়েছে। তাই আজ (রোববার) গ্রিসের রোডসসহ অন্যান্য অনেক অঞ্চলে দাবানলের ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের রোডসে পাঠানো হচ্ছে।










