যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের আগে কূটনৈতিক সম্পর্কের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করতে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুক্রবারের এ বৈঠকে দুই দেশের নেতারা নতুন মার্কিন প্রশাসনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। কারণ অনেকেরই ধারণা, ট্রাম্পের আগমনে বিশ্বব্যাপী জোটগুলোর কর্মপরিকল্পনা বিপর্যস্ত হতে পারে। খবর রয়টার্স।

ওয়াশিংটন ও তার দুটি ঘনিষ্ঠ এশীয় মিত্রের মধ্যে এ বৈঠক এমন সময় অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরো তিক্ত হওয়ার কথা বলছেন অনেকে। বিশেষ করে ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের পর তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুল্ক বাড়ানোর মাধ্যমে চীনের অর্থনীতিকে চাপে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন করার জন্য উত্তর কোরিয়ার সৈন্য পাঠানো, পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা কমে যাওয়া এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের বিপজ্জনক সম্প্রসারণের জন্য উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার নেতাদের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

পেরুর লিমায় অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইন বৈঠকে বাইডেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইউল ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা একসঙ্গে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হন।

বৈঠকের পর তিনটি দেশ একটি ত্রিপক্ষীয় সেক্রেটারিয়েট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য সম্পর্ককে আরো আনুষ্ঠানিক করা এবং নিশ্চিত করা যে এটি শুধু একটি বৈঠকের সিরিজ না হয়ে বাস্তব পদক্ষেপে পরিণত হবে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানকে একত্র করা বাইডেনের প্রেসিডেন্সির শেষ দিকে একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ ১৯১০-৪৫ সালের মধ্যে জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে আক্রোশের সম্পর্ক বিদ্যমান।

বাইডেন মনে করেন, তিন দেশের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক চীনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা কৌশল হিসেবে কাজ করবে। তবে বেইজিং এ ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে।

যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশ আরো ঘোষণা করেছে যে তারা ফিলিপাইনের সঙ্গে আরো সহযোগিতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।