দাবানলের কবলে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের
মাউই দ্বীপে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলছে। আগেই জানা যায়, পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ঐতিহাসিক শহর লাহাইনা।
এখন হালনাগাদ খবরে বলা হচ্ছে, বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আগুনে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে
৩৬। খবর বিবিসি।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দ্বীপের কাছে
সৃষ্টি হয়েছে ঘূর্ণিঝড়। আগুন ছড়িয়ে পড়তে এর বাতাসের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
দ্বীপের হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর
সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা। তবে এখনো অনেক মানুষের
নিখোঁজের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
স্ত্রী ও ছয় বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন স্থানীয় বাসিন্দা কামুয়েলা কাওয়াকোয়া। বার্তা সংস্থা
এপি-কে তিনি বলেন, ‘সেখানে বসে থাকা ও নিজের শহরকে পুড়ে ছাই হতে দেখা খুব কঠিন ছিল।
অসহায় হয়ে দেখা ছাড়া আমি কিছুই করতে পারছিলাম না।’
রাজ্যটির মার্কিন সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটেজ
সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, লাহাইনা প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
সঙ্গে জানান, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা
এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। উদ্ধারকর্মীরা অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা
চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মাউইয়ের হাসপাতালে
অনেক মানুষ ভর্তি হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগ অগ্নিদগ্ধ বা ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে
ভুগছেন।
গতকাল ভোরে কিছু লোক আগুন থেকে বাঁচতে
সাগরে ঝাঁপ দিয়েছেন। অন্তত ১২ জনকে পানি থেকে উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন
কোস্ট গার্ড।
এক সংবাদ সম্মেলনে মাউই কাউন্টির মেয়র
রিচার্ড বিসেন জুনিয়র বলেন, অনেক বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে
গেছে।
শহরটিতে প্রায় ১২ হাজার লোক বাস। শুধু
বাড়িঘরই নয় আগুনের শিকার হয়েছে নৌযানও। স্থানীয় বাসিন্দা ক্রিসি লোভিট সংবাদমাধ্যমকে
জানান, বন্দরের প্রতিটি নৌকা জ্বলছে। যুদ্ধের সিনেমায় যেভাবে দেখা যায়, বন্দরের অবস্থা
তেমন।
মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সতর্ক
করে কর্মকর্তারা বলছেন, মাউইতে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। বাস্তুচ্যুত
হয়েছেন প্রায় দুই হাজার ১০০ মানুষ।
লাহাইনার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পরিবারের
নিখোঁজ সদস্যদের নিয়ে তারা চিন্তিত। তাদেরই একজন টিয়ারে লরেন্স। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো
জানি না আমার ছোট ভাই কোথায় আছে। আমার সৎ বাবা কোথায় জানি না। লাহাইনায় যাদের চিনি
তাদের সবার বাড়িঘর পুড়ে গেছে।’










