যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তি উত্তেজনার মধ্যেই ছয় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদে’ যোগ দিয়ে এসব এয়ারলাইন একতরফাভাবে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

গত বুধবার মধ্যরাতে ভেনেজুয়েলার বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্পেনের আইবেরিয়া, পর্তুগালের ট্যাপ, কলম্বিয়ার আভিয়ানকা, চিলি ও ব্রাজিলের লাতাম, ব্রাজিলের গোল এবং তুরস্কের টার্কিশ এয়ারলাইনসের অপারেটিং পারমিট বাতিল করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব এয়ারলাইন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচারণায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সতর্ক করে জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আকাশপথে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে কারাকাস বলছে, ‘ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা নিয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার এফএএ'র নেই।’

এদিকে পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো রাঙ্গেল ভেনেজুয়েলার সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক’ উল্লেখ করে বলেছেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্যাপ সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করেছিল এবং লিসবন সরকার কারাকাসকে পারমিট পুনর্বহালের অনুরোধ জানিয়েছে।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মাদক সরবরাহে জড়িত, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। তবে মাদুরো এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছেন।

আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) জানায়, ভেনেজুয়েলা এয়ারলাইনগুলোকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফ্লাইট পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছিল। তবে কয়েকটি এয়ারলাইন তা মানেনি। আইবেরিয়া জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তারা আবার ফ্লাইট চালু করবে। আভিয়ানকা ৫ ডিসেম্বর থেকে কারাকাসে উড়ান পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করছে।

এর মধ্যে এয়ার ইউরোপা ও প্লাস আল্ট্রার ফ্লাইট স্থগিত থাকলেও তাদের পারমিট বাতিল হয়নি। অন্যদিকে কপা এয়ারলাইনস, তাদের লো-কস্ট ইউনিট উইঙ্গো এবং কয়েকটি দেশীয় এয়ারলাইন এখনো প্রতিবেশী দেশে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।