রাশিয়া চীনা ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নতুন দূর পাল্লার ড্রোন তৈরি করছে। এরই মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধেও এই ড্রোন ব্যবহার করেছে রাশিয়া। খবর রয়টার্স।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আলমাজ অ্যান্তের ভর্তুকি প্রতিষ্ঠান আইইএমজেড কুপলের কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে ইউরোপীয় গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা নথি থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ এরো বেশি গারপিয়া ড্রোন তৈরি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে আরো জানা গেছে, রাশিয়া এরই মধ্যে ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই ড্রোন ব্যবহার করছে। এতে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সামরিক ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে ড্রোনটির অস্তিত্ব নিয়ে এর আগে গণমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

ড্রোনটি চীনা ইঞ্জিনসহ বেশ কিছু যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি। গারপিয়া দেখতে ইরানের শাহেদ ড্রোনের মতো হলেও এতে কিছু পার্থক্য আছে। ড্রোনের ইঞ্জিন চীনের জিয়ামেন লিমবাচ কোম্পানির তৈরি।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও কুপোলের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ইউরোর একটি চুক্তির মাধ্যমে ইজেভস্কের পুরনো একটি সিমেন্ট কারখানায় ড্রোনগুলো উৎপাদন করা হচ্ছে।

ড্রোনটির উৎপাদন চীনের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর একটি উদাহরণ। এ বিষয়ে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনা প্রযুক্তি সরবরাহের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইরান এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এমনকি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে পণ্য রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক কোনো বিধিনিষেধ নেই।