নর’ইস্টার ঝড় সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে সৃষ্টি হয়। এগুলো উত্তর দিক থেকে আসা ঠান্ডা আর্কটিক বাতাস এবং আটলান্টিক মহাসাগর থেকে আসা উষ্ণ, আর্দ্র বাতাসের সংঘাতে তৈরি হয়। ঘনবসতিপূর্ণ পূর্ব উপকূলে এই ঝড়গুলো তুষারঝড়, অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যা ডেকে আনে।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিদ মাইকেল ম্যানের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটিতে ১৯৪০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৯০০টি ঝড় বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, সবচেয়ে তীব্র নর’ইস্টার ঝড়গুলোর সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ১৯৪০ সালের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। গবেষক ম্যান জানান, বাতাসের গতিবেগে এ ধরনের বৃদ্ধির ফলে ঝড়ের ধ্বংসক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ঝড়ের সময় বৃষ্টি ও তুষারপাতের হারও বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। মাইকেল ম্যান বলেন, ‘উষ্ণ সমুদ্র ও বায়ু বেশি বাষ্প সৃষ্টি করে, যা বৃষ্টির বা তুষারের রূপে ঝড়ের মধ্যে চলে আসে। এটা একেবারেই মৌলিক পদার্থবিদ্যার বিষয়।’
১৯৯৩ সালের ‘শতাব্দীর ঝড়’ এবং ২০১০ সালের ‘স্নোমাগেডন’ নামের ভয়াবহ ঝড়ের কথা উল্লেখ করে গবেষকরা বলেন, এসব ঝড়ে শতাধিক প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। ১৯৬২ সালের ‘অ্যাশ ওয়েডনেসডে’ ঝড়টি আজকের মূল্যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় আরো বলা হয়, ভবিষ্যতে এসব ঝড়ের সংখ্যা কিছুটা কমে গেলেও, তাদের তীব্রতা বাড়বে। কারণ আর্কটিক অঞ্চলের দ্রুত উষ্ণায়নের ফলে ঠান্ডা ও উষ্ণ বায়ুর মধ্যে বৈপরীত্য কমে যাচ্ছে, যা ঝড় তৈরির প্রধান উপাদান। তবে একবার ঝড় তৈরি হলে, তা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক হতে পারে।
এ গবেষণায় যুক্ত না থাকলেও, জলবায়ু বিজ্ঞানী জেনিফার ফ্রান্সিস বলেন, ‘উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় শহরগুলোকে এখনই সতর্ক হতে হবে। ঝড়ের আগে প্রস্তুতি নেয়া ঝড়ের পর উদ্ধার কার্যক্রমের চেয়ে অনেক কম ব্যয়বহুল।’
অন্যদিকে এমআইটির জলবায়ু বিজ্ঞানী জুডাহ কোহেন বলেন, ‘এই গবেষণা দেখিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবসময় প্রত্যাশিত উপায়ে প্রকাশ পায় না। অনেক সময় তা ঠান্ডা আবহাওয়ার চরম রূপও ডেকে আনতে পারে।’
গবেষক মাইকেল ম্যানের মতে, ‘বিশ্ব উষ্ণ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে বরফঝড় ও তীব্র শীতের প্রবণতা বজায় থাকবে। এমনকি ভবিষ্যতের ঝড়গুলো একেকটি হতে পারে আরো শক্তিশালী ও বিপজ্জনক।’










