কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ‘শাটডাউন’ এড়াতে বিল পাস করেছে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত মার্কিন সিনেট। শনিবার মধ্যরাতের সময়সীমা অতিক্রম করার কিছুক্ষণ আগেই বাজেট চুক্তিটি পাস হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে বিলটি পাস করেছিল কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদও। ফলে ২০১৯ সালের পর প্রথমবার মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকার শাটডাউন এড়াল। খবর সিএনএন।
হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস একই বিল অনুমোদন করার কয়েক ঘণ্টা পরই সিনেটে অনুষ্ঠিত হয় এ ভোট। বিলটির পক্ষে ৮৫ ও বিপক্ষে পড়েছে ১১ ভোট।
বিলটি আগামী ১৪ মার্চ পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নের মেয়াদ বাড়াবে এবং দুর্যোগে আক্রান্ত রাজ্যগুলোর জন্য ১০০ বিলিয়ন ও কৃষকদের ১০ বিলিয়ন ডলার প্রদান করবে। তবে এ বিল ঋণসীমা বাড়াবে না।
নতুন বিলটি পাস না হলে গতকাল থেকেই শাটডাউনের মুখে পড়ত মার্কিন সরকার। শাটডাউনে পড়লে কিছু জরুরি সেবা বাদে অন্যান্য সেবা খাতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেত যুক্তরাষ্ট্রে। এতে অনেক সরকারি কর্মীর বেতন পর্যন্ত বন্ধ হওয়ার শঙ্কা ছিল। বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের ছুটির মুখে লাখ লাখ মার্কিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠতে পারত ফেডারেল গভর্নমেন্ট শাটডাউন।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পরও (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) প্রতিনিধি পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন এড়াতে আনা সংশোধিত বিল পাসে ব্যর্থ হয় রিপাবলিকানরা। এমনকি দলটির কিছু প্রতিনিধিও বিলের বিপক্ষে ভোট দেন। বিলটি পাসে সংসদের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন ছিল।
তৃতীয় দফা চেষ্টার পর হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস অর্থ বিলটি পাস করার পরও শাটডাউন রোধে মার্কিন সিনেটরদের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। একজন সিনেটর আপত্তি তুললেও শেষ পর্যন্ত অনুমোদন মিলেছে।
চলতি বছরের ১৪ মার্চ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ফেডারেল ব্যয় বিল উত্থাপন করা হয়। তখন এ বিলের প্রবল বিরোধিতা করেন রিপাবলিকান সদস্যরা। সে বিলকে ‘ভয়ানক ক্ষতিকর’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি ইলোন মাস্ক। নভেম্বরে ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে বিলটি বাতিলের কথা ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার জনসন।
শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে সরকারের ব্যয়সংক্রান্ত তহবিল ফুরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ফলে সরকারের ব্যয় মেটানোর অর্থ না থাকলে কার্যক্রম বন্ধ বা শাটডাউন হয়ে যেত। শেষমেশ তা হয়নি।
শাটডাউন এড়াতে আনা বিলটির বিরোধিতা করেছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল। এর পেছনে তার যুক্তি এ বিলে এমন কিছু ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেটি পাস হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরো বেশি ঋণের ফাঁদে পড়বে।










