দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল গতকাল পার্লামেন্টে অভিশংসিত হয়েছেন। স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারির পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয়বার অভিশংসন ভোটের মুখে তার এ পরিণতি হলো। তিনি সাংবিধানিক আদালতের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানো দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট। দেশটির ইতিহাসে আরো অনেকেই তাদের শাসনামলে তিক্ততা ও কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হয়েছেন। খবর এএফপি।
২০১৩ সাল থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসা পার্ক জিউন-হাইকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পার্লামেন্টে অভিশংসিত করা হয়। সাংবিধানিক আদালত ২০১৭ সালের মার্চে সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেন। এরপর তাকে অভিযুক্ত করা হয় এবং কারাদণ্ড দেয়া হয়। তিনি ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
পার্কের পূর্বসূরি লি মিউং-বাক ২০০৮-১৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে দুর্নীতির দায়ে তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তিনি মূলত স্যামসাংয়ের কাছ থেকে ঘুস নেয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সাবেক এ নেতাকে ক্ষমা করে দেন অভিশংসিত হওয়া প্রেসিডেন্ট ইউন।
২০০৩-০৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন রোহ মু-হিউন। তিনি উত্তর কোরিয়ার শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে পরিচিত। উদারপন্থী মু-হিউন ২০০৯ সালের মে মাসে একটি পাহাড় থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। এক ধনী জুতা প্রস্তুতকারক তার স্ত্রীকে ১০ লাখ ডলার ও ভাতিজির স্বামীকে ৫০ লাখ ডলার দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠার পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর গোয়াংজুতে সামরিক নেতা চুন ডু-হোয়ানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়, যা দমন করতে তিনি তার সৈন্যদের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গণবিক্ষোভের মুখে ১৯৮৭ সালে তিনি পদত্যাগ করতে রাজি হন। ডু-হোয়ান ‘গোয়াংজুর কসাই’ নামে পরিচিত ছিলেন।
তিনি রোহ তায়ে-উয়ের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ১৯৯৬ সালে চুনকে ক্ষমতায় বসাতে ১৯৭৯ সালের অভ্যুত্থান, ১৯৮০ সালের গোয়াংজু বিদ্রোহ, দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধের জন্য উভয়কেই রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। রোহকে সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল, পরে তা কমিয়ে ১৭ বছর করা হয়। অন্যদিকে চুনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল, যা পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তন হয়।
পার্ক চুং-হি ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজের সময় তার নিজের গুপ্তচর প্রধানের হাতে নিহত হন। ১৯৬১ সালে সেনা কর্মকর্তা পার্ক চুং-হির নেতৃত্বে এক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট ইয়ুন পো-সুনকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ১৯৪৮ সালে নির্বাচিত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট সিংম্যান রি ১৯৬০ সালে শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।










