কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বনাঞ্চলে দাবানল আরো তীব্রতর হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকা থেকে লোকজন সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দ্বিগুণ করেছে প্রশাসন। সামনে পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। খবর রয়টার্স।
দাবানল শুরু হওয়ার পরই ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রাদেশিক সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দাবানলসংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে দ্রুত যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ কার্যকর করা সম্ভব হয়। দাবানল এরই মধ্যে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সংযোগকারী একটি প্রধান মহাসড়কের কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ভয়াবহ এ দাবানলে এরই মধ্যে ব্যাপক সম্পদ ও বিপুল পরিমাণ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল অ্যাবি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ৩৫ হাজার লোককে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আরো মানুষকে যেকোনো সময় সরিয়ে নেয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।’
অ্যাবি জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে যাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে, তাদের জন্য অনেক আশ্রয়কেন্দ্র দরকার এবং আরো অগ্নিনির্বাপক কর্মী প্রয়োজন। হোটেলগুলো সাময়িক আশ্রয় নেয়ার সুযোগ বাড়াতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া প্রদেশটিতে ভ্রমণ না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কর্মকর্তারা দায়িত্বহীন দাবানল পর্যটকদের ওই এলাকায় ড্রোন ওড়ানো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। জরুরি পরিষেবা নির্বিঘ্ন রাখতে দাবানল দেখতে আসা পর্যটক ও ড্রোন অপারেটরদের দূরে থাকতে বলেছেন তারা। আগুন নেভাতে আকাশপথে কিছু ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু ড্রোনের কারণে কর্মীরা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বনমন্ত্রী ব্রুস র্যালস্টন বলেন, ‘আগুনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকা এয়ার ক্রুদের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে ড্রোন। সক্রিয় দাবানলের ছবি তোলার সময় নয় এখন। এ আচরণ শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, অগ্নিকাণ্ডের এলাকায় এগুলো ওড়ানো বেআইনি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক পর্যটক দাবানলের অভিজ্ঞতা পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আগুন দেখার জন্য অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় হ্রদগুলো পরিষ্কার রাখতে বলা হয়েছে। কারণ আগুন নেভানোর জন্য এসব হ্রদ থেকে উড়োজাহাজে করে পানি তোলা হচ্ছে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় সমুদ্রবন্দর ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৮০ মাইল) পূর্বে অবস্থিত শহর কেলোনার বিভিন্ন স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার।
ধারণা করা হচ্ছে গত কয়েক দিনের প্রবল বাতাস ও শুষ্ক বজ্রপাতের ঘটনা থেকে এলাকাটিতে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। কানাডায় বনাঞ্চলে এ ধরনের দাবানল অপরিচিত কোনো ঘটনা নয়। তবে এবারের দাবানলের বিস্তৃতি ও এর ক্ষয়ক্ষতি এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
বর্তমানে কানাডার সক্রিয় মোট ১ হাজার ৬২টি দাবানলের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই জ্বলছে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায়। অঞ্চলটিতে চলমান গ্রীষ্মকালীন গরম বাতাসের প্রভাবে বনের আগুন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ফলে নতুন নতুন এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।










