টোকিওর একটি সংস্থায় ফুল-টাইম চাকরি করেও ২৫ বছর বয়সী শো-কি মোরিয়ামা প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা স্মার্টফোনে ব্যয় করেন। তার মতে, 'তথ্য-যুদ্ধের' এ সময়ে ফোনটি তার খুবই প্রয়োজন। শুধু মোরিয়ামা নন, স্ক্রল করা, খবর ও সোশ্যাল মিডিয়া দেখা এবং মেসেজিং অ্যাপে ডুবে থাকা ছাড়া জাপানের এই প্রজন্মের জীবন যেন অকল্পনীয়।
অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা হলেও, জাপান এর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে, মধ্য জাপানের টয়োআকে শহর তাদের ৬৯ হাজার বাসিন্দার মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহার দিনে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার একটি প্রস্তাব চালু করেছে। যদিও এই নিয়ম না মানলে কোনো শাস্তির বিধান রাখা হয়নি।
মোরিয়ামাসহ ২০-এর কোঠায় থাকা বেশ কয়েকজন তরুণ এই ২ ঘণ্টার সময়সীমা মেনে চলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। তাদের এই অভিজ্ঞতায় দারুণ সাফল্যও ছিল, আবার ছিল ব্যর্থতাও।
নিয়মিতভাবে দৈনিক প্রায় আট ঘণ্টা ফোন ব্যবহারকারী মোরিয়ামা জানান, ২ ঘণ্টা তার জন্য ‘খুবই কম’, কারণ এত কম সময়ে সবকিছুর সঙ্গে ওয়াকিবহাল থাকা সম্ভব নয়। তবে চ্যালেঞ্জের শেষে তিনি মাত্র ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট ফোন ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘বাড়তি সময়টা বই পড়তে, একটু পড়াশোনা করতে এবং জিমে যেতে ব্যবহার করেছি, ফলে দিনটা নষ্ট হয়নি।‘
মোরিয়ামার সহকর্মী তোমোমি হানাওকা দৈনিক ৬-৭ ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করেন। তিনিও ২ ঘণ্টার মধ্যেই ফোন ব্যবহার সীমাবদ্ধ রেখে বাড়তি সময়টুকু বই পড়ে কাটিয়েছেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী আকারি সাইতো তার ৩-৪ ঘণ্টার ফোন ব্যবহার কমাতে পারেননি। ট্রেনে বা হাঁটার সময় ফোন সরিয়ে রাখা তার জন্য কিছুটা কঠিনই ছিল। তবে তিনি স্বীকার করেন, ফোন ব্যবহার কমালে দিনটি ‘আরো অর্থপূর্ণ’ হতে পারে।
টোকিও শহরের মেয়র মাসাফুমি কোকি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, কমবয়সীরা স্ক্রলিং এবং টেক্সট করার জন্য ঘুম ও পারিবারিক সময় নষ্ট করছে। তিনি বলেন, ‘যদি কেউ দুই ঘণ্টা শব্দটি শোনে, তবে তারা সত্যিই কতক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহার করে তা নিয়ে একবার ভাববে। এটাই মূল লক্ষ্য।‘
জাপানে তরুণরা সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে গড়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি অনলাইনে সময় কাটায়। আয়া নামের এক শিক্ষার্থী প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করেন। তিনি ২ ঘণ্টার সীমায় আসতে না পারলেও সচেতন থাকার ফলে তার ফোনের স্বাভাবিক ব্যবহার প্রায় ৬০% কমিয়েছেন। তার মতে, ‘উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিংয়ে যে সময় ব্যয় করতাম, তা মিস করিনি। গল্প করা ও চারপাশটায় মনোযোগ দিতে বেশি সময় ব্যয় করেছি। দিনটি আরো অর্থপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।‘
মেয়র কোকির মতে, যদি এই প্রস্তাব সামান্য কয়েকজনকেও তাদের অভ্যাস নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করে, তবেই এই উদ্যোগ সফল।
দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে










