ভারতের মোট সম্পদের ৪০ ভাগ রয়েছে মাত্র এক ভাগ মানুষের হাতে। আর ৯৯ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে বাকি ৬০ ভাগ সম্পদ। আজ সোমবার (১৬ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের ‘‌সারভাইভাল অব দ্য রিচেস্ট’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে ২০২০ সালে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ছিল ১০২ জন। ২০২২ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৬ জনে। অর্থাৎ ধনীরা ধনী হচ্ছেন, আর অন্যদিকে দরিদ্ররা আরো দরিদ্র হচ্ছেন। বেঁচে থাকার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণেও ব্যর্থ হচ্ছেন অনেকে।

সংস্থাটি এ বৈষম্যকে ‘‌অশ্লীল’ মন্তব্য করে অতি ধনীদের ‌সম্পত্তির ওপর কর আরোপের সুপারিশ করেছে। অক্সফামের দাবি, মিলিয়নিয়ার ও বিলিয়নিয়াররা পাঁচ শতাংশ হারে ট্যাক্স দিলে তার পরিমাণ দাঁড়াবে বছরে এক দশমিক সাত ট্রিলিয়ন ডলার। এই অর্থ দেশের দুই বিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করতে পারে। ভারতের মাত্র ১০ জন ধনী ব্যক্তির ওপর যদি ৫ শতাংশ করে কর আরোপ করা হলে সে টাকা দিয়ে আগামী তিন বছর শিশুদের শিক্ষার ব্যায়ভার মেটানো সম্ভব।  

সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, ভারতের ধনকুবেররা যদি তাদের সম্পূর্ণ সম্পদের ওপর একবার মাত্র ২ শতাংশ কর দেন তাহলে আগামী তিন বছরের জন্য ভারতে অপুষ্টির শিকার মানুষের পুষ্টির জন্য ৪০ হাজার ৪২৩ কোটি টাকার প্রয়োজন মিটবে।