সুদান পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধের ঝুঁকির সম্মুখীন, যা পুরো অঞ্চলের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
খার্তুমের পাশের শহর ওমদুরমানের একটি আবাসিক এলাকায় বিমান হামলায় প্রায় ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর এ সতর্কবার্তা দেয়া হলো। এ সংঘাতে এরই মধ্যে প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি, নিপীড়ন ও চিহ্নিত জাতিগত হত্যাযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে দারফুর অঞ্চলে ব্যাপক লুটপাট ও মানবতাবিরোধী সম্ভাব্য অপরাধও হচ্ছে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।
নিয়মিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) বিমান হামলার দায় স্বীকার করেছে। এতে ৩১ জন নিহত হয়েছে। বর্তমানে আরএসএফ আবাসিক এলাকায় ঘাঁটি স্থাপন করেছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের তাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বিমান হামলার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন ঘটনা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এর মাত্রা এমনই যে এটি গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাকে তীব্র করে তুলছে।’
তিনি এ ঘটনাকে মানবিক ও মানবাধিকার আইনের প্রতি বিপজ্জনক অবজ্ঞার বলে তুলে ধরেন। সুদানের সংঘাতের কারণে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং প্রায় সাত লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে। আরএসএফ ও মিত্র মিলিশিয়াদের ব্যাপক নীতি লঙ্ঘনের জন্য জাতিসংঘ এবং আফ্রিকান ব্লকের দেশগুলো দারফুরে সংঘাতে জাতিগত হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ সংকট সমাধানে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও পূর্ব আফ্রিকান ব্লকের উন্নয়ন সম্পর্কিত আন্তঃসরকারি কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে জাতিসংঘ।
ইথিওপিয়া, কেনিয়া, সোমালিয়া ও দক্ষিণ সুদানের নেতাদের সংকট মোকাবেলায় বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও সুদানের সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সেখানে অনিশ্চিত। অসংখ্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও চলতি সংঘাতটি শিগগিরই কোনো স্থায়ী সমাধান আনবে বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা।










