দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে গ্রেফতারে ব্যর্থ হয়েছে দেশটির তদন্তকারীরা। তাকে গ্রেফতারে বাধা দেয় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস (পিএসএস) বাহিনী। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে এ কথা বলা হয়েছে। খবর এএফপি।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইওলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন দেশটির আদালত। অভিযোগ ছিল, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের পাশাপাশি বিদ্রোহীদের উসকে দিয়েছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন জারি করা হলেও তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে আসতে বারবার অস্বীকৃতি জানান।

গতকাল তাকে গ্রেফতার করতে প্রেসিডেন্টের বাসভবন কমপ্লেক্সে যান দেশটির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্ত কার্যালয়ের (সিআইও) কর্মকর্তারা। তাদের সঙ্গে পুলিশ ছিল। অন্যদিকে গ্রেফতার ঠেকাতে প্রেসিডেন্টের বাস ভবনের বাইরে অবস্থান নেন শত শত সমর্থক। প্রেসিডেন্টের আইনজীবী এ আদেশকে অবৈধ উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের কথা জানান। সেই সঙ্গে ইউনের পিপল পাওয়ার পার্টির নেতাকর্মীরা তদন্তকারীদের অযৌক্তিক গ্রেফতার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

জাতির উদ্দেশে ৩ ডিসেম্বর ভাষণ দানকালে প্রেসিডেন্ট ইউন সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে রাখেন। মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। সামরিক আইন জারির জেরে ১৪ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে অভিশংসিত হন প্রেসিডেন্ট ইউন।

ইউনকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা ঘিরে তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। কয়েক ঘণ্টা ধরে অচলাবস্থা চলার পর তদন্তকারীরা গ্রেফতার প্রচেষ্টা থেকে সরে আসেন। পরে তারা প্রেসিডেন্টের বাসভবন কমপ্লেক্স ত্যাগ করেন। তদন্তকারীরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, অচল পরিস্থিতির কারণে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করাটা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এ পরোয়ানার মেয়াদ আছে। পরোয়ানার মেয়াদের মধ্যে তদন্তকারীরা ইউনকে গ্রেফতারে আবার চেষ্টা করতে পারেন। এ মেয়াদকালের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা না গেলে নতুন করে পরোয়ানা জারির আবেদন জানাতে পারেন তদন্তকারীরা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইউনের সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘর্ষ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ২ হাজার ৭০০ পুলিশ ও ১৩৫টি পুলিশের মোতায়েন করা হয়।