বিদ্রোহীদের উত্তরাঞ্চলীয় হামা গ্রামাঞ্চলে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে আরো সেনা মোতায়েন করেছে সিরিয়ার সামরিক বাহিনী। হায়াত তাহরির আল-শামের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা আকস্মিক আক্রমণ শুরু করে আলেপ্পোসহ নিকটবর্তী একটি প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশের দখল নেয়ার পর এ ঘটনা ঘটেছে। খবর এপি।

হায়াত তাহরির আল-শামের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা শনিবার আলেপ্পোর অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেয় এবং হামায় প্রবেশ করার দাবি করে। বিদ্রোহী কমান্ডার কর্নেল হাসান আব্দুলঘানি বলেছেন, ‘পৃথকভাবে বিদ্রোহীরা শহরের উত্তর-পূর্বে আলেপ্পো শিল্প শহর, আলেপ্পোর সামরিক একাডেমি ও দক্ষিণ-পশ্চিমে ফিল্ড আর্টিলারি কলেজ শেখ নাজ্জারের নিয়ন্ত্রণও নেয়।’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘তেহরান সিরিয়ার সরকার ও সেনাবাহিনীকে সমর্থন দেবে।’

অতর্কিত ও দ্রুত গতিতে চলা এ হামলা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের জন্য বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তার সামরিক বাহিনী কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রধান মিত্র ইরান ও রাশিয়া। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন চলমান সংঘাতের কারণে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে দেশ ও তাদের অঙ্গসংগঠন।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, সরকারি বাহিনী গত তিনদিনে প্রায় এক হাজার বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে। তবে কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি।

হোয়াইট হেলমেট নামে পরিচিত সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স অনুসারে, বিদ্রোহীদের দখলে থাকা ও আলেপ্পো থেকে ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে হামা প্রদেশের কাছে অবস্থিত ইদলিব শহর। সেখানে রাতভর সরকারি বিমান হামলায় চারজন বেসামরিক লোক নিহত ও ৫৪ জন আহত হয়েছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা ও যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জানিয়েছে, সেনাবাহিনী রাতারাতি হামা প্রদেশের উত্তরাঞ্চলীয় গ্রামাঞ্চলে বিদ্রোহীদের হটিয়ে দিয়েছে।

ব্রিটেনভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, সিরিয়ার সরকার উত্তর হামা গ্রামাঞ্চলে আরো সৈন্য পাঠিয়েছে এবং একটি ‘শক্তিশালী প্রতিরক্ষামূলক লাইন’ তৈরি করে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস ও সিরিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত নিউজ নেটওয়ার্ক আল-ইখবারিয়া উভয়ই জানিয়েছে, ইদলিব ও বর্তমানে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যান্য অঞ্চল লক্ষ্য করে রুশ বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

আক্রমণ শুরুর পর প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতিতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ঘোষণা করেন, সিরিয়া ‘সন্ত্রাসী ও তাদের সমর্থকদের’ বিরুদ্ধে তার স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা অব্যাহত রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিরোধী শক্তিগুলোর আক্রমণ যতই তীব্র হোক না কেন, সিরিয়া তাদের পরাজিত করার সামর্থ্যের ওপর আত্মবিশ্বাসী।