বিশ্বব্যাপী সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বাস করছে ৪৭ কোটি ৩০ লাখ শিশু। সে হিসেবে প্রতি ছয়জনে একজনের বেশি শিশু সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বাস করে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর আল জাজিরা।
গাজা, সুদান, ইউক্রেনসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল ও গাজার মধ্যকার প্রায় ১৫ মাসের লড়াইয়ে কমপক্ষে ১৭ হাজার ৪৯২ শিশু নিহত হয়েছে। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘সংঘাতময় এলাকার শিশুদের জন্য ইউনিসেফের ইতিহাসে ২০২৪ সাল সবচেয়ে খারাপ বছরগুলোর মধ্যে একটি। এ বছর অধিকসংখ্যক শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং তাদের জীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সংঘাতমুক্ত এলাকার একটি শিশুর তুলনায় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী একটি শিশু স্কুলে যেতে পারে না, ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকতে হয় এবং তাদের ঘর ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। যা স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়া উচিত নয়। বিশ্বের চলমান যুদ্ধের কারণে আমরা একটি প্রজন্মের শিশুদের দুর্ভোগে পড়তে দিতে পারি না।’
ইউনিসেফ জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী শিশুদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে প্রায় ১০ শতাংশ থেকে আজ প্রায় ১৯ শতাংশ হয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ৪ কোটি ৭২ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত হয়।
২০২৪ সালের পরিস্থিতি থেকে অনুমান করা যায় যে হাইতি, লেবানন, মিয়ানমার, ফিলিস্তিন ও সুদানের মতো অঞ্চলে সংঘাত আরো খারাপ হওয়ার কারণে বেশিসংখ্যক মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হবে। ২০২৩ সালে জাতিসংঘ ২২ হাজার ৫৫৭ শিশুর বিপরীতে ৩২ হাজার ৯৯০টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা জানিয়েছে, যা এ ধরনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ শুরু করার পর থেকে সংখ্যায় সর্বোচ্চ।
ইউনিসেফ বলেছে, গুরুতর লঙ্ঘনের সংখ্যা সামগ্রিকভাবে বাড়ছে এবং চলতি বছর আরো বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। কারণ গাজা ও ইউক্রেনে হাজার হাজার শিশু নিহত ও আহত হয়েছে। ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘বিশ্ব এ শিশুদের জন্য যথেষ্ট কিছু করছে না। ২০২৫ সালের দিকে তাকিয়ে আমাদের অবশ্যই তাদের সাহায্য করতে হবে এবং তাদের জীবনকে উন্নত করতে আরো পদক্ষেপ নিতে হবে।’










