ইতালির রাজধানীর রোমে তাপমাত্রা বৃদ্ধির আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে হাসপাতালে বেড়েই চলেছে তাপজনিত অসুস্থতায় আসা রোগীর সংখ্যা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

কিছু হাসপাতালের জরুরি ইউনিটে পানিশূন্যতা বা অতিরিক্ত গরমে সৃষ্ট অন্যান্য অসুস্থতায় রোগী ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) রোমে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে তাপমাত্রা, যা ২০২২ সালের জুনের ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ড ভেঙেছে। সিসিলিতে প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে আসে পারদ, আর সার্ডিনিয়ায় ছিল ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নেপলসের একটি হাসপাতাল জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জরুরি বিভাগে ২৩১ জন রোগী এসেছে, গড়ে প্রতি ছয় মিনিটে একজন। ২০২০ সালের কভিড-১৯ এর পর দৈনিক হিসেবে এটি সর্বোচ্চ।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বেশিরভাগ রোগীই বয়স্ক। তবে পর্যটকসহ বড় বয়সী মানুষ রয়েছেন।

হাসপাতালের মহাপরিচালক আন্তোনিও ডি’আমোর জানান, গত ১৭ জুলাই ভর্তি রোগীদের ২ শতাংশের অবস্থা গুরুতর ছিল আর ৩৮ শতাংশ ছিল মাঝারিভাবে গুরুতর।

ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে রোম, ফ্লোরেন্স, বোলোগনা, বারি, কাটানিয়া, ক্যাগলিয়ারি, পালের্মো ও তুরিনসহ ২৩টি শহরে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। এর মানে হলো তাপমাত্রা জনসাধারণের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। শুধু শিশু বা বয়স্ক নন সবাই ঝুঁকিতে রয়েছেন। রেড অ্যালার্টের পাশাপাশি কিছু পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে যে গত গ্রীষ্মে ইউরোপ জুড়ে ৬১ হাজার ৬৭২ জন মানুষ তাপজনিত কারণে মারা গিয়েছেন। ওই সময় বিস্তৃত এলাকাজুড়ে রেকর্ড উষ্ণতা বিরাজ করছিল। মৃত্যু সবচেয়ে বেশি ছিল ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও পর্তুগালে।

চলমান চরম আবহাওয়া চলতি গ্রীষ্মে উত্তর গোলার্ধ জুড়ে তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। গত মাস ছিল বিশ্বব্যাপী রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণতম জুন এবং জুলাইয়ের প্রথম দিনগুলো ছিল রেকর্ড সবচেয়ে উষ্ণতম দিন। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের তাপমাত্রা ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি।

পৃথিবীর উষ্ণতম স্থান হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিতে গত ১৬ জুলাই তাপমাত্রা ৫৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা বিশ্ব রেকর্ড। একই দিনে বেশ কয়েকটি তাপ সতর্কতা জারি করে চীন এবং পশ্চিম জিনজিয়াং অঞ্চলে ছিল রেকর্ড ৫২ দশমিক ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা।

ইউরোপে ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও গ্রিস জুড়ে দাবানল বাতাসে ধোঁয়ার পরিমাণ দিন দিন বাড়িয়ে তুলছে।

মূলত মানব সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাধ্যমে বৈশ্বিক উত্তাপ বৃদ্ধিতে নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে। যা উদীয়মান এল নিনোকে শক্তি জোগাচ্ছে।