বিশেষ করে নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু উপযোগী গ্রেড ‘ডেটেড ব্রেন্ট’-এর তুলনায় দ্বিগুণ প্রিমিয়ামে লেনদেন হচ্ছে।
এশিয়ার রিফাইনারিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল। এ অঞ্চলের রিফাইনারি মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের ভারী ও সালফারযুক্ত (সাওয়ার) তেল প্রক্রিয়াজাত করে। বর্তমানে সেখানকার দেশগুলোর উৎপাদন কমে গেছে, অন্যদিকে অনেক ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পার হতে না পারায় আটকে আছে। ফলে বিকল্প তেলের জন্য রিফাইনারিগুলো প্রতি ব্যারেলে ১০ ডলারের বেশি প্রিমিয়াম পর্যন্ত দিতে বাধ্য হচ্ছে। তবে বেশি প্রিমিয়াম পরিশোধ করলেও রিফাইনারিগুলোর মুনাফায় বড় প্রভাব পড়ছে না বলে জানিয়েছে বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ অপরিশোধিত তেলের তুলনায় জ্বালানি পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি রয়েছে। এতে করে উচ্চ দামে তেল কিনেও রিফাইনারিগুলো ভালো মুনাফা করতে পারছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনামূলক কম পরিচিত তেল—মালয়েশিয়ার লাবুয়ান ক্রুড, ইন্দোনেশিয়ার মিনাস ক্রুড এবং ভিয়েতনামের বাচ হো ক্রুডও এখন ডেটেড ব্রেন্টের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে ১০ ডলারের বেশি প্রিমিয়ামে বিক্রি হচ্ছে। যেখানে এসব দেশের ক্রুডের প্রিমিয়াম ছিল সর্বোচ্চ ২ ডলার পর্যন্ত।
কেপলারের সিনিয়র ক্রুড অয়েল বিশ্লেষক মুইউ শু জানান, উচ্চ পরিবহন ব্যয়, দীর্ঘ পরিবহন সময় এবং ব্রেন্টের তীব্র ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ কাঠামো থাকা সত্ত্বেও গত সপ্তাহ থেকে এশিয়ার রিফাইনারিগুলো আটলান্টিক বেসিন ও আমেরিকার তেল কেনা বাড়িয়েছে। জাপানের রিফাইনারিগুলো এপ্রিল ডেলিভারির জন্য অন্তত ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ও মার্স ক্রুড কিনতে পারে। এমনটা হলে তা মাসিক ক্রয় হিসেবে রেকর্ড হতে পারে। এদিকে চীনের রিফাইনারিগুলোও এপ্রিল ডেলিভারির জন্য অন্তত ৯০ লাখ ব্যারেল পশ্চিম আফ্রিকার ক্রুড অর্ডার দিয়েছে, পাশাপাশি মার্চ ও এপ্রিল ডেলিভারির জন্য ব্রাজিলের তেলও সংগ্রহ করছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ সংকট এশিয়ার জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং বিকল্প উৎসের তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।










