যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই রাজ্যের মাউই দ্বীপে শোক ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। পুড়ে ছারখার হওয়া দ্বীপটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৩ জনে। আহত ও নিখোঁজ রয়েছে বহু। ফলে মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বাড়তে পারে উল্লেখ করে হাওয়াইয়ের গভর্নর জস গ্রিন জানানম এখনো বহু মরদেহ শনাক্ত করার অপেক্ষায়। খবর বিবিসি।

দমকলবাহিনী জানিয়েছে, দাবানলটি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তবে দাবানলে মাউইয়ের ঐতিহাসিক শহর লাহাইনার বড় অংশই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। দাবানলকবলিত লাহাইনার ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত বাসিন্দারা অভিযোগ করেছে তাদের বাড়িঘরে লুটপাট চালানো হয়েছে, যদিও পুলিশ এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি।

কর্তৃপক্ষ কীভাবে দাবানলের কারণে সৃষ্ট সমস্যায় সাড়া দিয়েছে তা নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে হাওয়াইয়ের অ্যাটর্নি জেনারেল। তবে কর্মকর্তারা অঞ্চলটির বাসিন্দাদের দ্রুত সতর্ক করেছিলেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ সপ্তাহের শুরুতে অগ্নিকাণ্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো লাহাইনাকে জনগণের বসবাসের জন্য খুলে দেয়া হয়। উপকূলীয় শহরটির বেশির ভাগ অংশ দাবানলে ধ্বংস হয়ে গেছে।

লাহাইনার চলাচলযোগ্য রাস্তাগুলোর মধ্যে একটি হলো হোনোয়াপিইলানি হাইওয়ে। হাইওয়ের রাস্তার গাড়িগুলোয় অনেক পরিবার দেখা যায়। তাদের দেখে ধারণা করা যাচ্ছিল, তারা ক্লান্ত ও চিন্তিত। 

গভর্নর জস গ্রিন সতর্কবার্তায় জানান, এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ তারা আগে কখনো দেখেনি। এটিকে তাদের স্বাগত জানাতে হবে। লাহাইনার আগে একটি উপকূলীয় এলাকা পাউকুকালোতে টাকডেরান পরিবারের ২৩ জন সদস্য ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিতে আত্মীয়দের সঙ্গে জড়ো হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন ২৬ বছর বয়সী ব্রায়ান আগুইরান। ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তিনি লাহাইনা ছেড়ে যাননি। বড় বালতি দিয়ে পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছেন এবং অলৌকিকভাবে তার পরিবারকে বাঁচিয়েছেন। কিন্তু তিনি আর নিজের শহরে ফিরে যেতে চান না। লাহাইনা ও কানাপল মাউইয়ের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। এ দুটো শহরে এখনো পানি, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন। অনুসন্ধান কর্মীরা এখনো এলাকায় দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের সন্ধান করছেন।

ফেডারেল কর্মকর্তা জেরেমি গ্রিনউড জানিয়েছেন, প্রায় এক হাজার লোকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি, তাদের অনেকে নিরাপদেই রয়েছেন। কোস্টগার্ড জানায়, তারা এখন পর্যন্ত শহরের বন্দর থেকে ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে কিছু মানুষকে সমুদ্রের পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দাবানল থেকে বাঁচতে তারা পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। মাউই দ্বীপে দাবানলের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে অনেক বছর সময় লাগবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। শুধু লাহাইনায় এক হাজারের বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে।

গভর্নর জস গ্রিন শুক্রবার হাওয়াইয়ানদের সতর্ক করে বলেন, ‘‌তারা লাহাইনার যে অবস্থা দেখতে পাচ্ছে, তা মেনে নেয়া কঠিন।’ লাহাইনা এখন পুরোপুরিভাবে বিধ্বস্ত। সবাইকে নিরাপদ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।