চীনের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) বাজারে টিকে থাকার লড়াই ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতার জেরে অনেক কোম্পানি ছিটকে পড়েছে। বাইডু ও গিলির যৌথ স্টার্টআপ জি ইউয়ে হঠাৎ ভেঙে পড়ায় বিষয়টি ফের নতুন করে আলোচনায় এল। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক বিজ্ঞাপন সংস্থার মালিক লি হোংশিং ঋণে জড়িয়ে পড়েছেন ৪ কোটি ইউয়ান বা ৫৬ লাখ ডলার দেনায়। খবর সিএনএন।
শুধু জি ইউয়ে নয়, গত কয়েক বছরে চীনে অসংখ্য ইভি ব্র্যান্ড বন্ধ হয়ে গেছে। তীব্র প্রতিযোগিতা মুনাফাকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে এনেছে। লোকসানে যন্ত্রাংশ বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন সরবরাহকারীরা। অনেক সময় তাদের কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয় পাওনা অর্থের জন্য।
বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির এশিয়াবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ চেতন আহিয়া বলেন, ‘চীনের গাড়ি শিল্পে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা কমানো জরুরি। তবে কেবল বিনিয়োগ কমালেই সমস্যার সমাধান হবে না। এতে কর্মসংস্থান কমে গেলে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।’
চীনের ইভি শিল্পে বর্তমানে শতাধিক ব্র্যান্ড ও ৫০টিরও বেশি নির্মাতা সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু তাদের কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকই ব্যবহার হচ্ছে। দেশটিতে গাড়ি উৎপাদন ক্ষমতার ব্যবহারের হার এখন মাত্র ৫০ শতাংশ। অথচ অটোমোবাইল শিল্পে কর্মরত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ।
তথ্য পরিষেবাদাতা সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কাপের (সিইআইসি) তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থান সরাসরি সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। তাই ইভির বাজার সংকোচন বেইজিংয়ের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
চীন এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইভির বাজার। বিওয়াইডি, চেরি ও জিলির মতো ব্র্যান্ড আন্তর্জাতিক বাজারেও গাড়ি রফতানি করছে। গত বছর চীন থেকে প্রায় ৬০ লাখ গাড়ি রফতানি হয়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। তবে এত বিপুল পরিমাণ রফতানি ইউরোপ, মেক্সিকো ও কানাডায় শঙ্কা তৈরি করেছে। স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় দেশগুলো শুল্ক ও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।










