আকস্মিক আক্রমণের মাত্র তিনদিনের মাথায় সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। তারা শহরটির কয়েকটি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর)। ২০১৬ সালে বিদ্রোহীদের আলেপ্পো থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারি বাহিনী। এর পর থেকে এটিই বিদ্রোহীদের বড় লড়াই। খবর বিবিসি।

এসওএইচআর জানিয়েছে, বুধবার থেকে এ পর্যন্ত আক্রমণে ২০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিকসহ ২৭৭ জন নিহত হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে এটিই সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের বড় পদক্ষেপ।

সামরিক সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, আলেপ্পোর বিমানবন্দর ও শহরে ঢোকার সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার এসওএইচআর পরিচালক রামি আবদেল রহমান বলেন, ‘বিদ্রোহীরা উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধের মুখোমুখি না হয়েই আলেপ্পোর অর্ধেক দখল করতে সক্ষম হয়েছে। সরকারি বাহিনী পিছু হটায় কোনো সংঘর্ষ হয়নি। এমনকি একটি গুলিও ছোড়া হয়নি।’

এর আগে শুক্রবার সরকারি বাহিনী জানায়, বুধবার হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো অভিযান শুরু করার পর তারা আলেপ্পো ও ইদলিব প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনরায় অবস্থান নিয়েছে।

ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী এইচটিএসর সঙ্গে যোগসূত্র আছে এমন চ্যানেলে পোস্ট করা ভিডিওতে শহরের ভেতরে গাড়িতে বিদ্রোহীদের দেখা গেছে। বিবিসি ভেরিফাই ভিডিওতে দেখানো দৃশ্য আলেপ্পোর পশ্চিমাংশের শহরতলি বলে চিহ্নিত করেছে।

২০১১ সালে গণতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভ দমনে সরকারি বাহিনীর অভিযানের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আসাদ সরকারের বিরোধিতাকারী জিহাদিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এ বিশৃঙ্খলাকে কাজে লাগিয়ে বিশাল ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সিরিয়ার সরকার পরে রাশিয়া ও অন্য সহযোগীদের সহায়তায় দেশটির অধিকাংশ এলাকা পুনর্দখল করে। ইদলিব এখনো বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি। এর বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এইচটিএস। তবে তুর্কি সমর্থিত বিদ্রোহীদের একাংশ ও তুর্কি বাহিনীও সেখানে অবস্থান করছে।

এসওএইচআর জানিয়েছে, শুক্রবার ইদলিবের কাছে সিরিয়া ও রাশিয়ার বিমান ২৩ বার হামলা চালিয়েছে। রুশ হামলায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছে।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা চরমপন্থী বাহিনীর ওপর বোমা হামলা চালিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সিরিয়া সরকারকে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব আক্রমণের মুখে রয়েছে।’

শুক্রবার বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগসূত্র আছে এমন চ্যানেলে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের বাহিনী আলেপ্পো শহরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বিবিসি যাচাই করতে পেরেছে এমন ভিডিওতে দেখা গেছে, আলেপ্পো শহরের কেন্দ্র থেকে সাত কিলোমিটারের মধ্যে একটি সড়কে সশস্ত্র ব্যক্তিরা দৌড়াচ্ছে।

সিরিয়াবিষয়ক জাতিসংঘের আঞ্চলিক মানবিক সমন্বয়ক ডেভিড কারডেন জানান, ক্রমবর্ধমান সহিংসতা কীভাবে বেসামরিক নাগরিকদের প্রভাবিত করছে তা নিয়ে তিনি খুব উদ্বিগ্ন। গত তিনদিনে লাগাতার হামলায় অন্তত ২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে আট বছরের শিশুও রয়েছে।

২০২০ সাল থেকে ইদলিবে লড়াই অনেকটাই কমে এসেছে। কারণ সিরিয়ার প্রধান মিত্র তুরস্ক ও রাশিয়া যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সহায়তা করেছে।

তবে বুধবার এইচটিএস ও তার মিত্ররা জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে সরকার ও তাদের মিত্র মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বৃদ্ধির অভিযোগ এনেছে এবং তারা আগ্রাসন ঠেকাতে অভিযান শুরু করেছে।