যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভয়াবহ ভূমিকম্পের মুখে পড়েছেন ১৪৬ জন ভেনেজুয়েলান। তাদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তির এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া কয়েকজন জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় তারা ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় লা গুইরা শহরের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। খবর এপি।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট পরিচালিত আইসিই ফ্লাইট মনিটরের তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার মিয়ামি থেকে একটি বহিষ্কার ফ্লাইটে ১৪৬ জন ভেনেজুয়েলানকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ১৯ জন নারী ও সাত শিশু। দেশে পৌঁছানোর পর তাদের লা গুইরার একটি হোটেলে রাখা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পরই ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। দেশটির সরকার জানিয়েছে, এ দুর্যোগে এক হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বহিষ্কৃত ৫৮ বছর বয়সী লিসবেথ পোর্তিয়ো জানান, তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তার সঙ্গে আরো প্রায় ২০ জন ব্যক্তি সড়কে নেমে সাহায্যের খোঁজ করেন। চারদিকে আতঙ্কিত মানুষ দৌড়াচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, আমরা প্রায় পাঁচ কিলোমিটার হেটেছি। আমি শুধু কাঁদছিলাম। কারো সঙ্গে যোগাযোগের কোনো উপায় ছিল না। পরে একটি ন্যাশনাল গার্ড ভবনে পৌঁছে স্বজনদের ফোন করার সুযোগ পাই।
পোর্তিয়ো বলেন, আমি নতুন জীবন পেয়েছি। ঈশ্বর আমাকে দ্বিতীয়বার বাঁচার সুযোগ দিয়েছেন। কথা বলতে গিয়েই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পোর্তিয়ো আরো জানান, হোটেলে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছিল। জানানো হয়েছিল, পরদিন তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে। তিনি আরো ১৬ জন নারীর সঙ্গে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে ছিলেন। সমুদ্রের দিকে তাকাতে বারান্দায় গিয়ে তিনি অস্বাভাবিক গরম আবহাওয়া ও কালো আকাশ দেখতে পান। কক্ষে ফিরে কিছুক্ষণ পরই ভূমিকম্প শুরু হয়।
হঠাৎ বিকট শব্দ শুনলাম, তারপর দেখি আমার পাশের নারীরা মাটিতে পড়ে যাচ্ছেন। সবাই চিৎকার করে সাহায্য চাইছিল বলেন তিনি।
২৪ বছর বয়সী জেনি রদ্রিগেজ, যিনি একই ফ্লাইটে ছিলেন, স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ার পর এক সহযাত্রীর সহায়তায় তিনি প্রাণে বাঁচেন। অন্যদিকে টেক্সাসের এল পাসো থেকে বহিষ্কৃত ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সন্ধান না পেয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন তার সঙ্গী লিলিয়ানা রোহাস।
তিনি বলেন, কেউ কোনো তথ্য দিচ্ছে না। আমরা জানিই না তিনি কোথায়।
২০২১ সালে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন পোর্তিয়ো এবং তাঁর আশ্রয় আবেদন তখনো বিচারাধীন ছিল। ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে তিনি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বামীকে ফোন করে বলেন, আমি বেঁচে আছি।










