গতকাল ভোরে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের তিন গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা—নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহানে হামলা চালিয়েছে পেন্টাগন, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার গতিপথ নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের। এটি আরো তীব্র হবে কিনা তা নির্ভর করবে ইরান এবং তার মিত্ররা কীভাবে জবাব দেয় তার ওপর। মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, এ অভিযানে অংশ নেয় ১২৫টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও স্টিলথ বি-২ বোমারু। যারা ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বাংকার-বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করে। একই সঙ্গে
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে ছোড়া হয় ডজনখানেক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। যার লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। যদিও ইরান বলছে, তারা স্থাপনাগুলো থেকে আগেই পারমাণবিক উপকরণ সরিয়ে ফেলেছে। তার ইঙ্গিত মিলছে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার এক বক্তব্যে। সংস্থাটি বলছে মার্কিন হামলার পর ওই স্থাপনাগুলো থেকে তেজস্ক্রিয়তা নির্গত হয়নি।
যেভাবে চালানো হয় ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’: যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, হামলার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বি-২ বোমারু বিমান স্থানীয় সময় শুক্রবার উড্ডয়ন করে। ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট শেষে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছে হামলা চালায় বিশেষ এ বিমান। পেন্টাগনে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে কেইন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একাধিক শাখা পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। তিনি জানান, তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে ১২৫টির বেশি বিমান ব্যবহার করা হয়েছে। এ অভিযানে বোমারু বিমানগুলোকে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপরে ডিকয় হিসেবে মোতায়েন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছিল। বোমারু বিমানগুলো ইরানের দুটি পরমাণু কেন্দ্র, ফোরদো ও নাতাঞ্জে ১৩ হাজার ৬০০ কেজি ওজনের পেনিট্রেটর বোমা ফেলেছে। ইস্পাহানের দিকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। বিমানগুলো মিসৌরির একটি ঘাঁটি থেকে উড়ে গিয়েছিল। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর থেকে এটি দীর্ঘতম বি-২ মিশন ছিল। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যে এ প্রথম ইরানের বিরুদ্ধে এ অস্ত্র ব্যবহার করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে হামলা চালানোর সময় দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিরোধ আসেনি বলে উল্লেখ করেন জেনারেল কেইন। তিনি বলেন, ‘ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে কোনো গুলি ছোড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইরানের যুদ্ধবিমানও আকাশে ওড়েনি, মনে হচ্ছে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমাদের শনাক্তই করতে পারেনি।’
ক্ষয়ক্ষতি কতটুকু: হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। জেনারেল কেইন বলেছেন, প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এখনো চলমান। তবে তিনটি সাইটেই মারাত্মক ধ্বংস হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে অভিযানে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে গুরুতর বলতে কী বোঝানো হয়েছে তার ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ‘প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এখনো সম্পন্ন হয়নি। তাই এ মুহূর্তে কী ধ্বংস হয়েছে বা কী অবশিষ্ট আছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করা খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে।’
আল জাজিরা বলছে, ইরানের সবচেয়ে বড় ও সুরক্ষিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ফোরদোতে মার্কিন হামলার প্রভাব ঠিক কতটা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এক ইরানি আইনপ্রণেতার ভাষ্যমতে, স্থাপনাটির কেবল বাহ্যিক বা সামান্যই ক্ষতি হয়েছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানায়, হামলার পর পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর আশপাশে বিকিরণের কোনো মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টিলথ বিমান হামলার আগে ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের চিত্র ধরা পড়েছে স্যাটেলাইটে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উপগ্রহ চিত্র সরবরাহকারী সংস্থা ম্যাক্সার ১৯ ও ২০ জুন উচ্চমানের স্যাটেলাইট ছবি তুলেছে। তাতে দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থ ফুয়েল এনরিচমেন্ট (জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ) কেন্দ্রটির টানেলের প্রবেশপথ ঘিরে ছিল ব্যতিক্রমী ট্রাফিক এবং ভারী যান চলাচল। ছবিতে দেখা যায়, ১৬টি মালবাহী ট্রাক সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছে ফোরদোর প্রবেশপথ বরাবর, যা সরাসরি টানেলের প্রবেশপথের দিকে যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এ ট্রাকগুলোর বেশির ভাগই সরিয়ে নেয়া হয় প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, মূল প্রবেশপথ থেকে কিছুটা দূরে, যা ইঙ্গিত করে—তেহরান হয়তো হামলার পূর্বাভাস পেয়েছিল, যার ফলে তারা পরমাণু উপকরণ সরিয়ে নিয়েছে।
আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান
ইরানকে সতর্ক করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘হয় শান্তি আসবে, নতুবা ইরানের জন্য গত আট দিনে আমরা যা দেখেছি তার চেয়েও বড় ট্র্যাজেডি হবে। মনে রাখবেন, অনেক টার্গেট এখনো বাকি আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ছিল আজ রাত এবং সম্ভবত সবচেয়ে মারাত্মক। কিন্তু যদি শান্তি দ্রুত না আসে, তবে আমরা নির্ভুলভাবে, দ্রুততা এবং দক্ষতার সঙ্গে অন্যান্য টার্গেটে যাব।’
ইরানে মার্কিন হামলার লক্ষ্য দেশটির সরকারের পরিবর্তনের লক্ষ্যে নয় বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ। পেন্টাগনে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এ মিশনের লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ঠেকানো। যুক্তরাষ্ট্র এখনো চায় ইরান আলোচনায় ফিরে আসুক। আমরা একাধিক গোপন ও প্রকাশ্য চ্যানেলে ইরানকে বার্তা পাঠিয়েছি। তারা চাইলে এখনো আলোচনায় বসতে পারে।’ তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক হামলা ছিল ‘ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত’ পরিসরে। যাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র এখনো চায় ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরে আসুক।
কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে ইরান
পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তবে বাস্তবে পাল্টা জবাব দেয়ার মতো খুব বেশি বিকল্প নেই তেহরানের কাছে। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রতিনিধি জুলিয়ান বর্জার বলেন, ‘গত কয়েক দিনের ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের অনেক দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এখনো ইরানের স্বল্পপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বহর শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ার করেছেন, ইরান পাল্টা হামলা করলে যুক্তরাষ্ট্র আরো গভীরভাবে যুদ্ধে জড়াবে।’ এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিই হামলার লক্ষ্য হতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া ইরানের ‘অক্স অব রেজিস্ট্যান্স’ নামে পরিচিত আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্কও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র মজুদও ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। ইরানপন্থী ইরাকি গোষ্ঠী কাতায়িব হিজবুল্লাহ হুঁশিয়ার করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো এখন তাদের জন্য ‘শিকারভূমি’ হয়ে উঠবে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলায় যুক্ত হলে তারা লোহিত সাগরের মার্কিন জাহাজগুলোতে হামলা চালাতে পারে।
সমকালীন যুদ্ধনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জ্যাঁ-মার্ক রিকলি বলেন, ‘ইরানের সামনে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার একটি বিস্তৃত পরিসর আছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রথম বিকল্প হলো কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখানো। ইরানের ভাবমূর্তি ও অভ্যন্তরীণ অবস্থানের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে এটি। দ্বিতীয় বিকল্প হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা সম্পদের ওপর পাল্টা আঘাত হানা।’
আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রিকলি বলেন, ‘সম্ভবত এমন কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে, যা এ দুই চরম অবস্থার মাঝামাঝি কিছু হবে। তবে সমস্যা হচ্ছে ইরানকে এমন পথ খুঁজতে হবে, যাতে আমেরিকা সামরিকভাবে পুরোপুরি জড়িয়ে না পড়ে। কারণ, যদি যুক্তরাষ্ট্র তার পুরো সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, তাহলে ইরানের পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব।’
জেনেভা সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসির বৈশ্বিক ঝুঁকিবিষয়ক এ প্রধান বলেন, ‘২০২০ সালে ইরান যেভাবে জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যার প্রতিশোধ নিতে আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়ে ইরাকে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল, সেই উদাহরণও সামনে রাখা যেতে পারে।’
পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে মস্কো যাচ্ছেন আরাঘচি: সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে আলোচনা করতে মস্কো যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আজ ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন বলে জানা গেছে। তুরস্কের ইস্তানবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে আরাঘচি বলেন, ‘রাশিয়া ইরানের বন্ধু ও আমাদের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে। আমরা সবসময় একে অপরের সঙ্গে পরামর্শ করি ও অবস্থান সমন্বয় করি।’
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ইরানকে আবারো আলোচনায় ফিরতে বলায় ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি তাদের উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে জানতে চান, ‘গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ছিলাম আমরা, ইসরায়েল সেই কূটনীতি ধ্বংস করেছে। চলতি সপ্তাহেও আমরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলছিলাম, তখন যুক্তরাষ্ট্র বোমা ফেলে সেই কূটনীতিকে উড়িয়ে দিয়েছে।’
ইসরায়েলে হামলা জোরদার: মার্কিন হামলার পর ইসরায়েলের ওপর হামলা জোরদার করেছে ইরান। গতকাল ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরসহ অন্তত ১০টি স্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। বিমানবন্দর ছাড়াও ইরানি হামলার লক্ষ্যে ছিল সাপোর্ট বেইজ, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং একটি জৈব গবেষণাগার। ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার মুখপাত্র বলেছেন, ইসরায়েলের ১০টি স্থানে রকেট ও গোলা হামলা হয়েছে। কারমেল, হাইফা, তেল আবিব ও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে এসব হামলা হয়েছে। দেশটির বেশির ভাগ এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশ্বনেতারা কী বলছেন: ট্রাম্পের এ পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত আরো বিপজ্জনক রূপ নেয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশ্বনেতা ও কূটনীতিকদের কেউ কেউ এর নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যরা উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি এ হামলাকে উত্তেজনাপূর্ণ একটি অঞ্চলে বিপজ্জনক মাত্রায় উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলা চালানোর এ দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এ হামলা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে বেইজিং। পাশাপাশি সংঘাতের সব পক্ষকে, বিশেষ করে ইসরায়েলকে দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘ইরানকে কখনই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র সেই হুমকি কমাতে পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরার ও এ সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছার আহ্বান জানান। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, রিয়াদ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে চলমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি। বিবৃতিতে উত্তেজনা কমাতে সংযম প্রদর্শন এবং সংঘাত এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এছাড়া ইউরোপের দেশগুলো থেকে শুরু করে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মেক্সিকো, চিলি, ভেনিজুয়েলা, ওমান, কাতার, ইরাকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ৪০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে ইরানের নেতৃত্বে যে ধরনের হামলাই হোক, এসব ঘাঁটি তার মূল লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র হয়তো বদলে যাবে। কিন্তু এ পরিবর্তন শান্তির দিকে যাবে, না আরো সংঘাতের—তা নির্ধারিত হবে আসন্ন সপ্তাহগুলোতে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কীভাবে কূটনৈতিক পরিসরে সংকট মোকাবেলা করে তার ওপর। কারো মতে ট্রাম্প সাহসিকতা দেখিয়েছেন। আরেক পক্ষের মতে, বিশ্বকে ঠেলে দিয়েছেন এক নতুন অন্ধকারের দ্বারপ্রান্তে।
বাংলাদেশের উদ্বেগ: ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ। গতকাল এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, এ ধরনের পরিস্থিতি একটি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আরো বিঘ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি স্বরূপ। সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।










