মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনী গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার অনিয়মিত অভিবাসীকে আটক করেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অভিন্ন সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ না করলে দেশটির ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। দেশটির কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

১ অক্টোবর থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে, যা বছরের শেষের দিকে আরো জোরদার হতে পারে সে রকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে দেশটির সরকার জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় নয় লাখ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

অনিয়মিত অভিবাসী হলেন তারা, যারা আইনি অনুমতি বা নথিপত্র ছাড়া কোনো দেশে প্রবেশ বা অবস্থান করে। এটি ঘটতে পারে যদি কেউ অনুমতি ছাড়া সীমান্ত অতিক্রম, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও অবস্থান অথবা অভিবাসন আইন অমান্য করে।

মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ান রামোন দে লা ফুয়েন্তে শুক্রবার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি পুরো বিষয়টি যে মডেলে কাজ করে তা আরো উন্নত করা সম্ভব। তবে এর মাধ্যমে অভিবাসন পরিস্থিতি কার্যকরভাবে সামাল দেয়া সম্ভব হয়েছে।’ প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউমের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সীমান্তে অভিবাসী আটক ৮১ শতাংশ কমেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোলেজিও দে লা ফ্রন্টেরা নর্টের অভিবাসনবিষয়ক গবেষক ইসরায়েল ইবারা বলেন, ‘‌আটকের সংখ্যা বৃদ্ধির আংশিক কারণ ট্রাম্পের সঙ্গে শেইনবাউমের সাম্প্রতিক আলাপচারিতায় মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সংখ্যা হ্রাস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।’

নভেম্বরের শেষের দিকে শেইনবাউম ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ হয়। এর আগে রিপাবলিকানরা মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়। তা করা হবে যদি উভয় দেশ বিশেষ করে ফেন্টানিলসহ অন্যান্য মাদক ও অভিবাসীদের আগমন বন্ধ করতে সমর্থ না হয়।