ধাতব জৈব কাঠামো বা মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস নামক একটি আণবিক কাঠামোর বিকাশ সাধনের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম. ইয়াগি।

বাংলাদেশ সময় বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকাল পৌনে ৪টার দিকে সুইডেনের স্টকহোম থেকে রসায়নে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

এই তিন নোবেলজয়ী এমন আণবিক কাঠামো নির্মাণ তৈরি করেছেন, যার ভেতর বড় ফাঁকা স্থান বা 'কক্ষ' রয়েছে। এই কক্ষগুলোর মধ্য দিয়ে গ্যাস এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ সহজে চলাচল করতে পারে। মূলত, এটি এমন এক নতুন ধরনের আণবিক কাঠামো যেখানে ধাতব আয়নের ভূমিকা হয় কর্নারস্টোনের মতো এবং আয়নগুলো কার্বনভিত্তিক লম্বা জৈব অণুগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকে।

এই ধাতব আয়ন এবং অণুগুলো একত্রে এমন স্ফটিক বা ক্রিস্টাল তৈরি করে, যেগুলোর অভ্যন্তরে অসংখ্য বড় বড় ছিদ্র বা গহ্বর থাকে। এই ছিদ্রযুক্ত উপকরণগুলোকেই ধাতব জৈব কাঠামো বা এমওএফ বলা হয়।

এই কাঠামো দিয়ে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি আহরণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগ্রহ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ, এমনকি রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

১৯৮৯ সালে রিচার্ড রবসন প্রথমবার তামা আয়ন ও চার বাহুবিশিষ্ট একটি অণু একত্রিত করে এমন এক স্ফটিক কাঠামো তৈরি করেন, যা দেখতে হীরকের মতো হলেও ভেতরে অসংখ্য ফাঁপা গহ্বর ছিল। তবে কাঠামোটি তখন অস্থিতিশীল ছিল। পরবর্তীতে সুসুমু কিতাগাওয়া ও ওমর ইয়াগি ১৯৯২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে পৃথকভাবে একাধিক অ্যাডভান্সড আবিষ্কার করেন, যা এই প্রযুক্তিকে স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়।

নোবেল কমিটি ফর কেমিস্ট্রির চেয়ার হেইনার লিঙ্ক এ আবিষ্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ধাতুব জৈব কাঠামো বা এমওএফ-এর বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কাস্টম-মেড উপকরণ এবং নতুন কার্যকারিতা দিয়ে এটি অভূতপূর্ব সুযোগ নিয়ে এসেছে।