গত কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন স্পেন। গত ২৯ অক্টোবর প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় পূর্বাঞ্চলের ভ্যালেন্সিয়া প্রদেশসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ৮ ঘণ্টারও কম সময়ে এক বছরের সমপরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। নদীর পানি ভূমধ্যসাগরের দিকে প্রবল বেগে প্রবাহিত হতে থাকে। পানির বেগ এতটাই বেশি ছিল যে সেতু পর্যন্ত ভেঙে গেছে। এখন পর্যন্ত ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে। খবর সিএনএন।

১৯৫৭ সালের অক্টোবরে ভ্যালেন্সিয়া একই ধরনের ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল, যা গোটা ফ্রিয়া বা কোল্ড ড্রপ নামে পরিচিত একই মৌসুমি আবহাওয়ার কারণে ঘটেছিল। প্রায় ৭০ বছর পর আবার তা দেখা দেয়। ভ্যালেন্সিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় তুরিয়া নদী উপচে পড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সময়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য কয়েক মিলিয়ন অর্থ ব্যয় করা হয়। এর পরও কীভাবে ভ্যালেন্সিয়ায় আবারো বন্যা হলো সে বিষয়ে জনসাধারণের মাঝে প্রশ্ন জেগেছে।

ভ্যালেন্সিয়ায় স্পেনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা এইএমইটি গত ২৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টায় ভারি বৃষ্টিপাতের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। কিছু এলাকায় লাল সতর্কবার্তা দেখানো হয় এবং বন্যার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সড়ক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়।

সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ লোম্বাইয়ের মতো অভ্যন্তরীণ শহরগুলোয় দমকল কর্মীরা বন্যার পানিতে আটকা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আশপাশে খুব বেশি বৃষ্টি না হলেও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলে এইএমইটি। কারণ পাহাড় থেকে পানি প্রবল বেগে নেমে আসতে থাকে এবং সমুদ্রপথে খাদ ও খাল দ্রুত ভরতে শুরু করে।

দুপুরের দিকে ভ্যালেন্সিয়ার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট কার্লোস মাজন ঝড় শান্ত হচ্ছে বলে সংকটকে কম গুরুতর দেখানোর চেষ্টা করেন। এ-সংক্রান্ত একটি বিবৃতি তার অফিসের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল। তবে পরে তা ডিলিট করা হয়। বিকাল ৫টার মধ্যে ভ্যালেন্সিয়ার জরুরি পরিষেবাগুলোয় পুরো অঞ্চল থেকে সাহায্যের জন্য শত শত আবেদন আসতে থাকে।

রাত ৮টা নাগাদ জনসাধারণকে বাড়ির ভেতরে থাকতে বলে মোবাইলে সতর্কবার্তা দেয়া হয়। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিশেষ করে ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দারা আরো আগে সতর্কবার্তা পেলে পূর্বপ্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পেত।

বন্যা-পরবর্তী পানি নেমে গেছে। কিন্তু ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে উঠতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি মাসও লেগে যেতে পারে। ভ্যালেন্সিয়ার মহাসড়কগুলো এখনো অবরুদ্ধ বা আংশিক ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় আছে। অনেক সড়ক বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় এখনো যানবাহন আটকে আছে। স্পেনের রেল কর্তৃপক্ষ আদিফ জানিয়েছে, রেললাইন এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে কয়েক সপ্তাহে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।