জর্জিয়ার একটি বিদ্যুতচালিত গাড়ির (ইভি) ব্যাটারি কারখানায় অভিযান চালিয়ে সম্প্রতি কয়েকশ দক্ষিণ কোরিয়ান কর্মীকে আটক করেছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বিদেশী কর্মীনির্ভর বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক কোম্পানি এরই মধ্যে আইনি পরামর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে কর্মীদের ভ্রমণ স্থগিত করা হয়েছে। খবর এফটি।

গত সপ্তাহে জর্জিয়ার এলাবেলে নির্মাণাধীন হুন্দাই-এলজি এনার্জি সলিউশন ফ্যাক্টরি থেকে ৪৭৫ কর্মীকে আটক করা হয়, যাদের বেশিরভাগই দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। এ পদক্ষেপকে হোয়াইট হাউজের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অবস্থান বিষয়ে নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, আটকদের কারখানার বাইরে পায়ের গোড়ালি, হাতের কবজি ও কোমরে শিকল পরানো অবস্থায় রাখা হয়েছে। আইসিই জানিয়েছে, ফেডারেল ওয়ারেন্ট কার্যকরের সময় তারা এমন ব্যক্তিদের খুঁজে পেয়েছে যারা পর্যটক ভিসা ব্যবহার করে কাজ করছিলেন।

আইনি সংস্থা এইচএসএফ ক্রেইমারের বিজনেস ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান ম্যাথিউ ডান বলেন, ‘আমাদের ক্লায়েন্টরা বন্যার মতো প্রশ্ন পাঠাচ্ছেন। তারা জানতে চাইছেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় কোম্পানির সদর দপ্তরের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কিনা। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ব্যবস্থাপকদের সামনে কী ঝুঁকি রয়েছে এবং বৈধ ভিসায় থাকা বিদেশী কর্মীরাও কি সরকারের টার্গেটে পড়তে পারেন।’

অভিবাসন আইনজীবীদের ধারণা, গ্রেফতারদের অনেকেই বি-১ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন, যা মূলত ব্যবসায়িক আলোচনার জন্য ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রবেশ করেছিলেন। সমস্যাটি হলো—আটকদের অনেকেই সাবকন্ট্রাকটারের মাধ্যমে কাজ করছিলেন।

তবে ভিসার শর্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আইনি সংস্থা ডব্লিউআরের অংশীদার ড্যান মারানসি বলেন, বি-১ ভিসা নিয়ে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। কারণ এটি ব্যবসায়িক বৈঠকের জন্য হলেও অনেক সময় কাজের অনুমতি সম্পর্কেও ব্যবহার হতে পারে। আবার আইসিই হয়তো আইনের সীমা ছাড়িয়ে কড়াভাবে তা প্রয়োগ করছে।

আটকদের কয়েকজনকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে আটলান্টাভিত্তিক কাক বক্সটার। সংস্থার অংশীদার চার্লস কাক জানান, গ্রেফতার হওয়া অনেক কোরিয়ান কর্মী এমন ভিসা নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যা সরঞ্জাম ইনস্টলেশনে সহায়তার অনুমতি দেয়।

এ ঘটনায় কাকের অনেক ক্লায়েন্ট আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে দুই করপোরেট গ্রাহক জানতে চেয়েছেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ যদি কারখানা পরিদর্শনে আসে, তবে কীভাবে আগাম প্রস্তুতি নেয়া উচিত।

ডিজিএ গ্রুপের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরামর্শক ও ইউএস–কোরিয়া বিজনেস কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট তামী ওভারবি বলেছেন, কিছু বড় বিদেশী কোম্পানি এরই মধ্যে কর্মীদের ভ্রমণ স্থগিত করেছে এবং জর্জিয়ার অভিযানের আইনি প্রভাব পুনর্মূল্যায়ন করছে। কারণ এটি শুধু দক্ষিণ কোরিয়া কোম্পানি সম্পর্কিত ঘটনা নয়। জাপান, তাইওয়ান ও অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদাররাও যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করেছে।

অবশ্য মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টি নোমের মতে, এ অভিযান যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। বরং কোম্পানিগুলো কর্মী নিয়োগে তাদের সীমা বুঝতে পারবে।

ওভারবির মতে, এ দমন অভিযানে বিদেশী কর্মীনির্ভর কিছু শিল্প ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে ব্যাটারি উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে— যেখানে মার্কিন কর্মীদের তুলনায় এশীয়রা অনেক বেশি দক্ষ।