ভারতে ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। গত শুক্রবার অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) ও কংগ্রেস পৃথক আবেদন করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত সংশোধন বৈষম্যমূলক ও মুসলিমদের টার্গেট করে করা হয়েছে। শনিবার কংগ্রেস ও এআইএমআইএমের সঙ্গে একমত হয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেছে আরেক বিরোধী দল আম আদমি পার্টি (আপ)। এদিকে বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সংশোধিত বিলের নিন্দা জানিয়েছেন। খবর এনডিটিভি, এএনআই ও হিন্দুস্তান টাইমস।

এআইএমআইএমের পক্ষে সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি ও কংগ্রেসের পক্ষে সাংসদ মোহাম্মদ জাভেদ বিলের বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন। আপের পক্ষ থেকে বিলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন সাংসদ আমানতউল্লাহ খান। এ সংশোধনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আমানতউল্লাহ খান বলেন, ‘এটি নাগরিকদের একাধিক মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন, যা মুসলিমদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্বকীয়তা কমিয়ে দেবে। সরকারের উচিত সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিতে এতে হস্তক্ষেপ করা।’

কংগ্রেস এমপি মোহাম্মদ জাওয়েদ তার আবেদনে উল্লেখ করেছেন, এ বিল সংবিধানের ১৪ (সমতার অধিকার), ২৫ (ধর্ম পালনের স্বাধীনতা), ২৬ (ধর্মীয় বিষয় পরিচালনার স্বাধীনতা), ২৯ (সংখ্যালঘুদের অধিকার) ও ৩০০এ (সম্পত্তির অধিকার) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে। তার দাবি, এ আইন মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক। কারণ অন্যান্য ধর্মীয় ট্রাস্টের ক্ষেত্রে যেসব স্বাধীনতা বজায় রাখা হয়েছে, ওয়াকফের ক্ষেত্রে তা সীমিত করা হয়েছে।

গত বুধবার ভারতের বিদ্যমান ওয়াকফ আইন সংস্কার নিয়ে আলোচনা শুরু করে সংসদ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কর্তৃক প্রস্তাবিত এ বিল সরকারকে ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর অবাধ নিয়ন্ত্রণ দেবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তপ্ত বিতর্কের পর, গত বুধবার গভীর রাতে লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিলটি পাস হয়। বর্তমানে বিলটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

তবে সংশোধিত প্রস্তাবটি সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পর থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল ভারত। সাধারণ মুসলিমদের পাশাপাশি এর বিরোধিতা করছে বিরোধী দলগুলোও। বিলটির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) পরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে খ্রিস্টান সম্প্রদায়। আরএসএসের একটি নিবন্ধের উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, সে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে যে ক্যাথলিক গির্জাগুলো দেশের বৃহত্তম জমির মালিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘সংবিধানই আমাদের একমাত্র ঢাল, যা আমাদের জনগণকে এ ধরনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে এবং এটা আমাদের সম্মিলিত কতর্ব্য।’