মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে অর্থনীতিবিষয়ক বক্তব্যে অধিকাংশ আমেরিকানের জন্য কর কমানোর প্রস্তাবের রূপরেখা দিয়েছেন। সেখানে মুদি ব্যবসায়ীদের দ্বারা পণ্যমূল্য বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করাসহ সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাণের ব্যাপারে বলেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে যে ‘অপরচুনিটি ইকোনমি’ বা সুযোগ অর্থনীতির প্রস্তাব দিয়েছেন হ্যারিস সেসবের অংশ হিসেবেই পদক্ষেপগুলো বর্ণনা করেন তিনি। খবর রয়টার্স।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে শুক্রবারই প্রথম অর্থনীতিবিষয়ক নিজের পরিকল্পনা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন কমলা হ্যারিস। তিনি জানান, হোয়াইট হাউজে যেতে পারলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন তিনি।

শিশুদের জন্য ৬ হাজার ডলারের একটি চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট কার্যক্রম প্রবর্তনের কথা বলেছেন হ্যারিস। শিশু আছে এমন পরিবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এ কার্যক্রম। এর আওতায় শিশু থাকা পরিবারগুলোর জন্য কর ও ওষুধের খরচ কমানো হবে।

চার বছরের মধ্যে ৩০ লাখ নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হ্যারিস। পাশাপাশি প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাচ্ছেন এমন ক্রেতাদের জন্য বাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে কর প্রণোদনা দেয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

হ্যারিসের পরিকল্পনায় খাদ্য ও মুদি ব্যবসায়ীদের পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। বড় করপোরেশনগুলো অত্যধিক মুনাফার মাধ্যমে যাতে অন্যায়ভাবে ভোক্তাদের শোষণ করতে না পারে সে কারণেই এ পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি।

ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জানান, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি ফেডারেল ট্রেড কমিশনকে নির্দেশ দেবেন, যে কোম্পানিগুলো মূল্যবৃদ্ধির নতুন সীমা ভঙ্গ করবে তাদের যেন কঠোর শাস্তি দেয়া হয়।

হ্যারিস বলেন, ‘আমি জানি বেশির ভাগ ব্যবসাই কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে ও নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে। কিন্তু সবাই তা করছে না। তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’

নর্থ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্তিশালী হলেও পণ্য ও পরিষেবার দাম এখনো বেশি। একসঙ্গে আমরা সেটাই গড়ে তুলব যাকে আমি সুযোগ অর্থনীতি বলছি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে তোলা হবে আমার লক্ষ্য। কারণ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মধ্যবিত্ত শক্তিশালী হলে আমেরিকাও শক্তিশালী হবে।’

হ্যারিস আরো জানান, সামনের দিনগুলোয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আরো বিশদ আলোচনা করবেন তিনি। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার সঙ্গে পার্থক্যও নিরূপণ করবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

আমদানিতে নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছেন ট্রাম্প। এ পরিকল্পনার সমালোচনা করে হ্যারিস বলেন, ‘যেসব দৈনন্দিন ও মৌলিক প্রয়োজনীয় পণ্য আমরা আমদানি করি সেগুলোর ওপর জাতীয় বিক্রয় কর আরোপ করতে চান ট্রাম্প। তার এ নীতি আমেরিকানদের ধ্বংস করবে। ট্রাম্পের নীতির অর্থ হলো আপনার প্রতিদিনের প্রায় প্রতিটি চাহিদার মূল্য বাড়বে। গ্যাস, খাদ্য, পোশাক সবকিছুর ওপর থাকবে ট্রাম্পের কর। এমনকি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনবিহীন ওষুধের ওপরও থাকবে এ কর।’

কমলা হ্যারিসের প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট ও স্টিফেন মুর। তাদের যুক্তি, হ্যারিসের প্রস্তাবগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে তুলবে এবং অর্থনীতির ক্ষতি করবে। 

ধারণা করা হচ্ছে, কমলা হ্যারিসের এসব এজেন্ডা করপোরেশন ও কংগ্রেস উভয় জায়গায়ই প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বেশকিছু প্রস্তাবও আলোর মুখ দেখেনি। কারণ অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক প্রগতিশীল ধারণাগুলো ভোটারদের সমর্থন পেলেও তা অনেক সময়ই আইনে রূপান্তর হতে পারে না।