বিচার ব্যবস্থা পুনর্গঠনে নতুন আইন প্রস্তাব করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট। ন্যায়বিচার নিশ্চিতের বিলে জোর দেয়ার পরই নতুন করে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এবার বিক্ষোভ সমাবেশে আগের বিক্ষোভের তুলনায় আরো বেশি জনসমাগম হয়েছে। খবর রয়টার্স।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম যখন বিক্ষোভ শুরু হয়, তখন সরকার বিচার বিভাগের সংস্কারের নামে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কমানো এবং বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে জোটকে আরো নিয়ন্ত্রণ দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
মার্চের শেষ দিকে সমঝোতা আলোচনা শুরু হওয়ার পর বিক্ষোভ সাময়িকভাবে কমেছিল। তবে নেতানিয়াহু এটিকে অকার্যকর বলেন, যার কারণে সংস্কারের প্রচেষ্টা আবারো শুরু হয়। আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে নতুন বিলের ওপর তিনটি ভোটের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার লক্ষ্য সরকার, মন্ত্রী ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দ্বারা গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা সীমিত করা।
বিরোধী দলের যুক্তি, এ পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির মুখোমুখি করছে। গণতন্ত্র রক্ষার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামী সপ্তাহে বিক্ষোভ সমাবেশ আরো তীব্র করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারী নেতারা।
বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য সরকারের এমন অভিযান ইসরায়েলের গণতন্ত্র সম্পর্কে উদ্বেগ তৈরি করেছে, যা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকেই। সংস্কার প্রচেষ্টা শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি মুদ্রা শেকেলের মান ৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে। দুর্নীতির বিচারের সম্মুখীন নেতানিয়াহু পশ্চিমা মিত্র ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জানান, প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো সরকারের মধ্যে ক্ষমতার পৃথক্করণকে বাড়িয়ে তুলবে। তবে সমালোচকরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইসরায়েলি গণতন্ত্রের সামগ্রিক পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।










